ফলাফল প্রকাশের আগেই তোপের মুখে ইভিএম

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১২ ১৪২৬,   ২১ শাওয়াল ১৪৪০

ভারতে লোকসভা নির্বাচন

ফলাফল প্রকাশের আগেই তোপের মুখে ইভিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:১৮ ২২ মে ২০১৯   আপডেট: ১৫:৪২ ২২ মে ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ভোট শেষে এখন ফলাফল প্রকাশের অপেক্ষা। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হবে বহুল আলোচিত নির্বাচনের ফলাফল। জানা যাবে, কে বসছেন দিল্লির মসনদে। তবে ফলাফল প্রকাশের দু’দিন আগেই আলোচনার ঝড় ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) নিয়ে।

দেশটির বিরোধী দলগুলো ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কার কথা তুলে ধরে মঙ্গলবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করেছেন। 

নির্বাচন কমিশনকে তারা এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপিও দিয়েছেন। তবে নির্বাচন কমিশন সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে। 

এদিকে ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বিরোধী নেতাদের সমালোচনায় মুখর ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতারা। এপ্রিল মাসে শুরু হয়ে গেল রোববার শেষ হয় ভারতের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ। ৮৩ কোটির বেশি ভোটারের জন্য ৫৪২টি আসনে নয় লাখ কেন্দ্রে সাত পর্বে চলে ভোটগ্রহণ।

ভারতে সাধারণ নির্বাচনের পর সঙ্গে সঙ্গেই ভোট গণনা হয় না। ব্যালট বাক্স কিংবা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনগুলো (ইভিএম) কঠোর নিরাপত্তায় সংরক্ষিত থাকে বিভিন্ন রাজ্যের কমিশনের নিয়ন্ত্রণাধীন ‘স্ট্রংরুমে'। সব পর্বের ভোট শেষে হয় গণনা।

ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ইভিএম ও ব্যালটের ভোট গণনা শুরু করতে যাচ্ছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। তার আগে মঙ্গলবার ‘স্ট্রংরুমে’ থেকে ইভিএম বের করা বা নতুন করে আনার দৃশ্য সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে বিরোধী দলগুলো অভিযোগের আঙুল তুলে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে।

ভারতের সংবাদপত্রগুলো জানায়, ইভিএমের খবর দেখেই নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে তেলেগুদেশম পার্টির নেতা চন্দ্রবাবু নাইডুর উদ্যোগে জরুরি বৈঠকে বসে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।

সেই বৈঠকে অংশ নেন কংগ্রেস নেতা গুলাম নবী আজাদ, অশোক গেহলট ও অভিষেক মনু সাঙ্ঘভি, ডিএমকে নেত্রী কানিমোঝি, তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ডেরেক ও ব্রায়েন, আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল, বহুজন সমাজ পার্টির নেতা দানিস আলিসহ অনেকে। এরপর বিরোধী ২২টি রাজনৈতিক দলের নেতারা একযোগে যান নির্বাচন কমিশনে। স্মারকলিপিতে তারা ইভিএমে যে কোনো ধরনের কারচুপি মোকাবিলায় ইসির সক্রিয়তা চান।

হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, বিরোধী নেতারা ইভিএমে কারচুপি এড়াতে দুটি প্রস্তাব দেন। প্রথমত, নির্ধারিত পাঁচটি বুথে ভিভিপ্যাট আগে গুণতে হবে, তারপর তার সঙ্গে ইভিএমের ভোট মিলিয়ে দেখতে হবে। দ্বিতীয়ত, ভিভিপ্যাট ও ইভিএমে ভোটে গরমিল হলে সব বুথের ভিভিপ্যাট গণনা করতে হবে। প্রথম দফার নির্বাচনের সময় বিভিন্ন রাজ্যে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ উঠে। তাই ইভিএম যন্ত্রের পাশে আরেকটি যন্ত্র ব্যবহার করে ইসি। যার নাম 'ভোটার ভেরিফায়েড পেপার অডিট ট্রেইলিং', সংক্ষেপে ভিভিপ্যাট।

ইভিএমে ভোট দেয়ার পর ওই ভোটার যাকে ভোট দিয়েছেন, সেই প্রার্থীর নাম, ক্রমিক সংখ্যা ও প্রতীক ভিভিপ্যাটের ব্যালট স্লিপে ছাপানো অক্ষরে দেখা যাবে। তারপর সেই তথ্য-সম্বলিত স্লিপ জমা হবে ড্রপবক্সে।

ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ ওঠার পর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গেল এপ্রিলে এক নির্দেশে প্রতিটি আসনে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে পাঁচটি কেন্দ্রে ভিভিপ্যাট স্লিপ ও ইভিএমের ভোট মিলিয়ে দেখার নির্দেশ দেন।

কংগ্রেস নেতা মনু সাঙ্ঘভী বলেন, সুপ্রিম কোর্ট নমুনা হিসেবে পাঁচটির কথা বলেছিল কিন্তু যদি কারচুপি একটিতে হতে পারে, তাহলে সব আসনেই হয়েছে। কংগ্রেস নেতারাদের আশঙ্কা, ইভিএমে কংগ্রেসের পাঞ্জাসহ যে প্রতীকেই ভোট দেয়া হোক না কেনো, তা পড়েছে বিজেপির পদ্মফুলে।

গুলাম নবী আজাদ জানান, তারা ইসিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন। বুধবার ইসি তাদের সঙ্গে ফের কথা বলবে। বুথ ফেরত জরিপে নরেন্দ্র মোদীর ফের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আভাসের পর বিরোধী দলগুলোর নয়া পদক্ষেপ নিয়ে পরিহাস করছেন বিজেপি নেতারা।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বলেছেন, নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিরোধী নেতাদের অপচেষ্টা লজ্জাজনক। আরেক মন্ত্রী রবি শঙ্কর বলেছেন, যখন তাদের নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, চন্দ্রবাবু নাইডু, অমরিন্দ্রর সিং, অরবিন্দ কেজরিওয়ালরা ভোটে জেতেন, তখন ইভিএম খুব ভালো; আর মোদি জিততে চলেছেন বলে ইভিএম খারাপ হয়ে গেল!

এদিকে বিরোধীদের অভিযোগের পর ইসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন। 

বিশ্বের সর্ববৃহৎ নির্বাচন পরিচালনাকারী সংস্থাটি বলেছে, ভোটগ্রহণের পর সব ইভিএম ও ভিভিপ্যাট কড়া নিরাপত্তার মধ্যে স্ট্রংরুমে আনা হয়। প্রার্থীদের এজেন্ট ও পর্যবেক্ষকদের সামনেই কক্ষ সিলগালা করা হয়েছে। ভোট গণনার আগ পর্যন্ত দিনের ২৪ ঘণ্টা ওই সব স্ট্রংরুম ভিডিও ক্যামেরার আওতায় থাকছে বলেও জানায় ইসি। প্রতিটি স্ট্রংরুম সশস্ত্র পাহারার আওতায় রয়েছে বলেও জানানো হয়।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, নির্বাচনে ব্যবহৃত ইভিএমের ভোটই যে গণনা হচ্ছে, তা নিশ্চিত করতে গণনার আগে এজেন্টদের ঠিকানার ট্যাগ, সিল ও ইভিএমের বিশেষ নম্বর মিলিয়ে দেখা হবে।

ভোটগ্রহণের শেষ দুদিন পর উত্তর প্রদেশ ও বিহারে স্ট্রংরুমে ইভিএম প্রবেশের যে ভিডিও ছড়িয়েছে, সে বিষয়ে ইসি কর্মকর্তারা ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তারা বলছেন, ভোটগ্রহণের দিন যান্ত্রিক সমস্যার শঙ্কা থেকে বিকল্প কিছু ইভিএম-ভিভিপ্যাট তৈরি থাকে। ওই ভিডিওতে দেখা যাওয়া ইভিএমগুলো বিকল্প ইভিএম-ভিভিপ্যা হতে পারে।

এদিকে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, ১০০ শতাংশ অর্থাৎ সব ভিভিপ্যাট মেশিনের সঙ্গে ইভিএমের ভোট মিলিয়ে দেখার আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিল চেন্নাইয়ের একটি সংস্থা। তবে তা অযৌক্তিক বলে খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী/টিআরএইচ/এলকে