ফরিদপুরে ৫৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত, বন্ধ করা হয়েছে নৌ চলাচল

ঢাকা, রোববার   ৩১ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪২৭,   ০৭ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

ফরিদপুরে ৫৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত, বন্ধ করা হয়েছে নৌ চলাচল

ফরিদপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৩৬ ২০ মে ২০২০  

ফরিদপুর নৌ বন্দর (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

ফরিদপুর নৌ বন্দর (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

আম্ফানের প্রস্তুতি হিসেবে পদ্মাবেষ্টিত ফরিদপুরের সদর, চরভদ্রাসন ও সদরপুর এই তিন উপজেলায় খোলা হয়েছে ৫৫টি আশ্রয়কেন্দ্র। এসব এলাকার কাঁচা ঘরবাড়ির বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে ও প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেয়ার জন্য মাইকিংও করা হচ্ছে।

পাশাপাশি জেলেদের বলা হয়েছে এই আবহাওয়ায় নদীতে মাছ ধরার জন্য না নামতে। বন্ধ রাখা হয়েছে সব ধরনের নৌ চলাচল। পাশাপাশি কৃষি ফসল যাতে বিনষ্ট না হয় সেই আশঙ্কায় কৃষকদের নানা পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ফরিদপুর আবহাওয়া অফিসের ইনর্চাজ সুরজুল আমিন জানান, আম্ফানের প্রভাবে মঙ্গলবার মেঘলা আকাশের সঙ্গে দুপুরে ও রাতে বৃষ্টি হয়। বুধবার সকালে সামান্য রোদের দেখা মিললেও সকাল তারপরে আবার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকে থেমে থেমে হালকা বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া বইতে শুরু করে।
 
ফরিদপুরের সদর ইউএনও মো. মাসুম রেজা বলেন, আম্ফানের কারণে নর্থচ্যানেল, ডিক্রিরচর ও আলিয়াবাদ ইউপির চারটি ফ্লাড সেন্টার প্রস্তুত করা হয়েছে। কাঁচা ঘরবাড়ির বাসিন্দাদের সেখানে আশ্রয় নিতে বলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এছাড়াও সব প্রাইমারি স্কুলগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে যেকোন পরিস্থিতি মোকাবিলায়। আপদকালীন সময়ের জন্য শুকনো খাবার হিসেবে চিড়া, মুড়ি ও গুড় মজুদ করা হয়েছে।

ডিক্রিরচর ইউপির চেয়ারম্যান মেহেদি হাসান মিন্টু বলেন, ট্রলার ও নৌকাসহ সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জনগণকে সতর্ক করার জন্য মসজিদের মাইক ছাড়াও হাত মাইক দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। কোনোক্রমেই মাছ ধরতে নৌকা নিয়ে নদীতে যেন না নামে সে জন্য বলা হচ্ছে।

ফরিদপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী জানান, ফরিদপুরের এ মৌসুমে ২৩ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে যার ৫০ ভাগই এখনো কাটা হয়নি। এসব পাকা ধান বিনষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সাড়ে ৬শ’ একর জমিতে কলার চাষ হয়েছে। এসব কলা ও লিচু গাছে শক্ত বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। ঝড়ে পাটের তেমন ক্ষতি হবে না বলে তিনি জানান। 

ফরিদপুরের ডিসি অতুল সরকার বলেন, আম্ফানের কারণে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস ও আনসার বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। জেলায় সব মিলিয়ে ৫৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে বলা হয়েছে শুকনো খাবার তৈরি করে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের কাছে সরবরাহের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম