ফরিদপুরের ২১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২১ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪২৬,   ১৫ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

ফরিদপুরের ২১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল

ফরিদপুর প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৮:০৯ ২ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৮:০৯ ২ ডিসেম্বর ২০১৮

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ফরিদপুরের চারটি আসনে গত ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৪১জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। রোববার বাছাইকালে এর মধ্যে ২১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদপুর-৪ আসনে ১০জন, ফরিদপুর-১ ও ফরিদপুর-৩ আসনে ৫ জন করে এবং ফরিদপুর-২ আসনে ১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেছে।

ফরিদপুর-১

বোয়লামারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-১। এ আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলে মোট ১০জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

এরা হলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী  লিটন মৃধা ও  কামরুন্নাহার, বিএনএফ’র কামরুল ইসলাম, জাসদের হারুন-অর-রশীদ এবং জাতীয় পার্টির মো. আক্তারুজ্জামান।

এ আসনে বর্তমানে পাঁচজন বৈধ প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন, আওয়ামী লীগের মঞ্জুর হোসেন বুলবুল, বিএনপির দুই প্রার্থী শাহ মো. আবু জাফর এবং খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, এনপিপি’র মো. জাকারিয়া এবং ইসলামী আন্দোলনের ওয়ালিউর রহমান।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. লিটন মৃধা বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপি কৃষক লীগের একাংশের সাধারণ সম্পাদক। আমি মোট চার হাজার ১১০ জন ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিয়েছি। এর মধ্যে দুইজন জানিয়েছে তারা এ বিষয়ে কিছু জানে না। এজন্য আমার মনোনয়ন পত্র আমি উকিলের সাথে পরামর্শ করে সুবিধা পেলে অপিল করবেন।

ফরিদপুর-২

নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা এবং সদরপুরের কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-২ সংসদীয় আসন। এ আসনে সাতজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন।

রোববার মনোনয়নপত্র বাছাইকালে বাংলাদেশের কমিউিনিষ্ট পার্টি (সিপিবি) এর প্রার্থী হাফিজুর রহমান ওরফে হাফিজের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেছে।

সিপিবি এর প্রার্থী হাফিজুর রহমান বলেন, নগরকান্দায় এক ব্যাক্তি ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। তিনি গ্রান্টার হয়েছিলেন। ওই ব্যাক্তি ঋণ শোধ না করায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ‘আমি নিজে ঋণ খেলাপি না হয়েও অন্যের গ্রান্টার হওয়ায় আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করা ঠিক হয়নি’-দাবি করে হাফিজুর বলেন, তিনি রিটানিং কর্মকর্তার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

বর্তমানে এ সংসদীয় আসনে মোট ছয়জন বৈধ প্রার্থী রয়েছেন। এরা হলেন- আওয়ামী লীগের সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বিএনপির শামা ওবায়েদ ইসলাম ও মো. শহিদুল ইসলাম, জাকের পার্টির মোস্তফা আমীর ফয়সাল, ইসলামিক আন্দোলতের কে এম সরোয়ার এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. জয়নুল আবেদীন ওরফে বকুল মিয়া।

ফরিদপুর-৩

ফরিদপুর সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৩ সংসদীয় আসন। এ আসন থেকে মোট ১০জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেছে।

এরা হলেন মোহাম্মদ রুহুল আমিন, এম এ মুঈদ হোসেন খান, মো. বনি আমিন, মীর নিজাম আলী ও মো. ওবায়দুর রহমান।

এ আসনের বৈধ প্রার্থীরা হলেন- আ.লীগের প্রার্থী স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ ও নায়েবা ইউসুফ, সিপিবির রফিকুজ্জামান মিয়া, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন এম এম নুরুল ইসলাম।

ফরিদপুর-৪

ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসন উপজেলা ও কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন ব্যাতিত সদরপুর উপজেলা নিয়ে ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসন গঠিত। এ আসন থেকে মোট মোট ১৪জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে  ১০জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেছে।

বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন- ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবদুল লতিফ মিয়া, জাকের পার্টির মুহাম্মদ মশিউর রহমান ওরফে জাদু মিয়া, সিপিবির আতাউর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল হামিদ মিয়া এবং স্বতন্ত্র কাজী হেদায়েতউল্লাহ সাকলাইন, ফিরোজ কবির চৌধুরী, শাহ্ মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. ইছাহাক মিয়া, এনামুল হক ও কাজী জাফর।

বৈধ প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের কাজী জাফরউল্লাহ, বিএনপির শাহরিয়া ইসলাম ওরফে শায়লা ও খন্দকার ইকবাল হোসেন ওরফে সেলিম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান এমপি মজিবুর রহমান চৌধুরী।

এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এক ভাগ ভোটারের তালিকায় গড়মিল থাকা, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় সিপিবি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আয় ব্যায়ের হিসাব না থাকায় ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবদুল লতিফ মিয়া, জাকের পার্টির মুহাম্মদ মশিউর রহমান ওরফে জাদু মিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুল হামিদ মিয়া জানান, তিনি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছেন। তাকে অন্যায় ভাবে বাদ দেয়া হয়েছে।

গতকাল রবিবার ফরিদপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফরিদপুরের চারটি আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয় । রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া প্রার্থীদের উপস্থিতিতে মনোনয়নপত্র বাছাই করছেন।

উম্মে সালমা তানজিয়া জানায়, ভুল, তথ্য না দেওয়া ও অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য দেওয়া এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এক শতাংশ ভোটার তালিকায় অসংগতি থাকায় দায়ে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। তিনি বলেন, মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আপিল করার সুযোগ পাবেন।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর

Best Electronics