Alexa ফণির সঙ্গে হতে পারে উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প

ঢাকা, সোমবার   ১৯ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৫ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

ফণির সঙ্গে হতে পারে উচ্চমাত্রার ভূমিকম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২৪ ৩ মে ২০১৯  

এরই মধ্যে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে আঘাত হেনেছে অত্যন্ত শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ফণি। প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় ফণির তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য উড়িষ্যা। এখন পর্যন্ত সেখানে ছয় জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শক্তিশালী এ ঘূর্ণিঝড় রাজ্যটির ১১টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে রাজ্যটির ৪ জেলা। সেগুলো হলো- কেন্দপাড়া, পুরী, জগৎসিংপুর ও খুরদা। 

ফণীর আঘাত থেকে বাঁচতে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে জারি হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। দুই দেশের সরকার আগাম সতর্কতা হিসেবে নিয়েছে একাধিক পদক্ষেপ। আর এর মধ্যেই যোগ হলো প্রবল ভূমিকম্প সতর্কতা।

আবহাওয়া দফতরের মতো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয় ডিট্রিয়ানাম নামের একটি সংস্থা। গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান বিশ্লেষণ করে তারা দাবি করছে, শুক্রবার থেকে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে প্রবল ভূমিকম্প হতে পারে। সংস্থাটির দাবি, বুধ, শুক্র ও নেপচুন গ্রহ এখন একই সরল রেখায় অবস্থান করছে। তাছাড়া আরও আছে পৃথিবী, চাঁদ ও নেপচুন। আর এর ফলে শুক্রবার বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে হতে পারে প্রবল ভূমিকম্প।

রিখটার স্কেলে কম্পনের প্রবল এই ভূমিকম্পের মাত্রা ৮ বা তার বেশিও হতে পারে। ঠিক একই অবস্থানে গত শতাব্দীর শুরুতে ১৯০৬ সালে ভূমিকম্প হয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকায়।

১৯০৬ সালের ৩১ জানুয়ারি দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডর উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি হয়েছিল। ২০১২ সালের ১১ এপ্রিল সুমাত্রার উপকূলেও দুটি ভূমিকম্প হয়েছিল। রিখটার স্কেলে যার কম্পনের মাত্রা ছিল ৮।

ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান মাত্রার বিচারে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ভূমিকম্পের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। নিচে দেওয়া হলো সেসব বড় ভূমিকম্পের সংখিপ্ত বর্ণনা...

১. উত্তর সুমাত্রার পশ্চিম উপকূল, ২৬ ডিসেম্বর ২০০৪ : মাত্রা—৯ দশমিক ১

ভূমিকম্পের সঙ্গে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার একটা সম্পর্ক রয়েছে, এটাই সুনামি নামে পরিচিত। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সুনামি বলা হয় ২০০৪ সালে, একটি ৯ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পের পর। এশিয়া ও পূর্ব আফ্রিকার ১৪টি দেশে অনুভূত হয়েছিল এই ভূমিকম্প ও সুনামি। এই সুনামিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ইন্দোনেশিয়া; এক লাখ ৭০ হাজার মানুষ এতে প্রাণ হারায়। অনেক মৃতদেহই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মৃতের সংখ্যা নিরূপণ করতে কয়েক মাস সময় লেগে যায়। ইন্দোনেশিয়ার মৎস্য শিল্প ও কারখানার প্রায় ৬০ শতাংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায় এই সুনামিতে।

২. চিলি, ২২ মে ১৯৬০ : মাত্রা—৯ দশমিক ৫

এটাকেই এখন পর্যন্ত বলা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাত্রার ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে ৯ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পে চিলিতে মারা গিয়েছিল চার হাজার ৪৮৫ মানুষ। আহত হয়েছিল ২০ লাখের বেশি। ১৯৬০ সালে লাতিন আমেরিকার দেশ চিলির দক্ষিণাঞ্চলে এই শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। এই ভূমিকম্পে পুয়ের্তো সাভেদ্রা নামে একটি সমুদ্রবন্দর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এই ভূমিকম্পের ফলে সাগরে সুনামির সৃষ্টি হয়। সুনামিতে সৃষ্ট ঢেউয়ের কবলে পড়ে ফিলিপাইন ও জাপানে মারা গিয়েছিল আরো ১৭০ জন।

৩. প্রিন্স উইলিয়াম সাউন্ড, আলাস্কা, ২৪ মার্চ ১৯৬৪ : মাত্রা—৯ দশমিক ২

এই ভূমিকম্পের ফলে আলাস্কায় ভয়ংকর ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছিল। এতে সাগরে সুনামিরও সৃষ্টি হয়। মৃতের সংখ্যা ছিল ১২৮ জন আর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৩১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার।

৪. যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল, ২৬ জানুয়ারি ১৭০০ : মাত্রা—৯ (আনুমানিক)

অনেক আগের এই ভূমিকম্পের কোনো দালিলিক প্রমাণ না থাকলেও উত্তর আমেরিকার বাসিন্দারা মুখে মুখে শুনেছেন এই ভূমিকম্প এবং তার ক্ষয়ক্ষতির কথা। উত্তর আমেরিকা মহাদেশের অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প মনে করা হয় এটিকে। ভ্যাঙ্কুভার দ্বীপের পাচেনা উপকূলে বসবাস করা জনগোষ্ঠী সুনামিতে সৃষ্ট ঢেউয়ের কারণে তলিয়ে গিয়েছিল।

৫. চিলি, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১০ : মাত্রা—৮ দশমিক ৮

সপ্তদশ শতক থেকেই চিলিতে ছোট-বড় ভূমিকম্প অনুভূত হয়ে আসছে। ২০১০ সালের এই ভূমিকম্পে প্রাণ হারান ৫২১ জন মানুষ। আহত হন অন্তত ১২ হাজার। আট লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।

৬. কামচাটকা, ৪ নভেম্বর ১৯৫২ : মাত্রা—৯

রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যে আঘাত হেনেছিল শক্তিশালী এই ভূমিকম্প। এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্টি হয়েছিল সুনামি। কামচাটকা উপদ্বীপ ছিল এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল। তিন হাজার মাইলজুড়ে অনুভূত হয়েছিল এই ভূকম্পন, যা রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য ও হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে অনুভূত হয়েছিল। তবে এই ভূমিকম্পে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। পেরু ও চিলিতেও আঘাত হেনেছিল এই ভূমিকম্প।

৭. আরিকা, পেরু (বর্তমান চিলি), ১৩ আগস্ট ১৮৬৮ : মাত্রা—৯

প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট এই ভূকম্পন হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত অনুভূত হয়েছিল। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকার আরেকুইপা শহর। সেখানে মারা যায় ২৫ হাজার মানুষ। বলিভিয়ার লা পাজ শহরেও অনুভূত হয়েছিল ভূকম্পন। প্রথম আঘাত হানার চার ঘণ্টা পর ভূমিকম্পটির আফটার শক আঘাত হানে সমুদ্রে। এতে ১৬ মিটার উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়েছিল সৈকতে।

৮. ইকুয়েডরের উপকূল, ১৩ জানুয়ারি ১৯০৬ : মাত্রা—৮ দশমিক ৮

ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার সমুদ্র উপকূলে সৃষ্ট এই সুনামিতে মারা যায় পাঁচ শতাধিক মানুষ। আহত হয় আরো দেড় হাজার। মধ্য আমেরিকা ও সানফ্রান্সিসকোতেও অনুভূত হয় এই ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের প্রভাবে হাওয়াইয়ের নদীগুলো প্লাবিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়েছিল।

৯. লিসবন, ১ নভেম্বর ১৭৫৫ : মাত্রা—৮ দশমিক ৭

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে আঘাত হানা শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে শহরের প্রায় অর্ধেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। ভূকম্পনের ফলে সৃষ্ট সুনামি এবং অগ্নিকাণ্ড পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ করে তোলে। উত্তর আমেরিকা, ফ্রান্স ও উত্তর ইতালিতে অনুভূত হয়েছিল এই ভূমিকম্প।

১০. আসাম-তিব্বত, ১৫ আগস্ট ১৯৫০ : মাত্রা—৮ দশমিক ৬

ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে আসাম-তিব্বতের ৭০টি গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ভারতের আসাম প্রদেশ। এতে মারা যায় এক হাজার ৫২৬ জন মানুষ। ভূমিকম্পের পরে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএস

Best Electronics
Best Electronics