.ঢাকা, সোমবার   ২২ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৮ ১৪২৬,   ১৬ শা'বান ১৪৪০

পড়াশোনার টিপস

 প্রকাশিত: ১৪:৫৭ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৪:৫৭ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সঠিক নিয়মে পড়াশোনা সাফল্যের চাবি

সঠিক নিয়মে পড়াশোনা সাফল্যের চাবি

রাত দিন মা বাবা বলেই চলেন বেশি করে পড়। রেজাল্ট ভালো করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, এত পরিশ্রমের পরও রেজাল্ট মন মতো হচ্ছে না। অন্যদিকে সারা দিন খেলা ধুলা নিয়ে মেতে থাকার পরও হয়ত কোন বন্ধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করেছে। এর কারণ কি শুধু মেধার তারতম্য? কখনও নয়। স্রষ্ঠা সবাইকে সমান মেধা দিয়েই পাঠিয়েছেন। কিন্তু মেধার সঠিক ব্যবহার করাটা গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ি অনেকেই মনে করি, বেশি পড়লেই ভালো ফলাফল হবে। তবে প্রকৃতপক্ষে বেশি পড়াশোনার থেকে সঠিক নিয়মে পড়াশোনাই অনেক বেশি উপকারি। দৈনন্দিন পড়াশোনা পরিবেশে ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন অনেক জাদুকরী ভূমিকা রাখবে পরিক্ষার রেজাল্ট ভালো করার পেছনে। তাই সঠিক নিয়মে পড়াশোনা করার কিছু টিপস জেনে নিন-

একনাগাড়ে বেশি পড়াশোনা নয়: বিজ্ঞানিরা বলেন, টানা ২৫ থেকে ৩০ মিনিট পরিশ্রমের পর মস্তিষ্কের ধৈর্য ধারণ ক্ষমতা হ্রাস পেতে শুরু করে। সুতরাং একটানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বই নিয়ে পড়ে থাকা থেকে বিরত থাকতে হবে। পড়ার সময় ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নিতে হবে। সব ভাগ শেষ হওয়ার পর ৫ মিনিট বিশ্রাম নিতে হবে। তারপর সতেজ মনে আবার পড়াশোনা করতে হবে।

মুখস্ত নয়, বুঝে পড়তে হবে: ছোট বেলা থেকে আমাদের ছড়া কবিতা প্রভৃতি দাড়ি কমাসহ মুখস্ত করে পরিক্ষার খাতায় লিখতে লিখতে এটি অভ্যাস হয়ে দাড়িয়েছে। অনেকেই আছেন যাদের কোন কিছুর সংজ্ঞা জিজ্ঞেস করলে হুবহু বই এর সংজ্ঞা গরগর করে বলে দিতে পারবে। কিন্তু ব্যাখ্যা করতে বললে চুপ করে থাকবে। বর্তমান সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরিক্ষায় এই মুখস্ত বিদ্যার নির্ভরতা ভালো ফলাফল করতে একদমই সাহায্য করবে না। তাই মুখস্ত করা বন্ধ করে পুরো টপিকস বুঝার চেষ্টা করতে হবে। কারণ মুখস্ত ১০ বার করলে ১০ বার ভুলবেন কিন্তু এক বার ভালো করে বুঝে নিতে পারলে আর ভুলবেন না।

বিভিন্ন সোর্স থেকে পড়া: অন্ধের হাতি দেখার গল্প মনে আছে নিশ্চয়ই! শুধু মাত্র একটি বই থেকে পড়তে গেলে তেমনটি হওয়ার সম্ভাবণা অনেক বেশি থাকে। তাই সম্ভাব্য সব রকম সোর্স থেকে শেখার চেষ্টা করতে হবে। বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে গ্রুপ স্টাডি, বিভিন্ন উৎস থেকে পড়া, আপনজনদের সাহায্য নেয়া ও ইন্টারনেট থেকে শিক্ষামূলক সাইট থেকে শিখে নিতে হবে।

কাউকে শেখান: আইনস্টাইন বলেন, একটা বিষয় পরিপূর্ণভাবে আয়ত্ত হবে তখনই যখন বিষয়টি কাউকে বুঝিয়ে বলতে পারবেন। পড়ালেখাকে একটি গাড়ির সঙ্গে তুলনা করলে তাহলে আপনি যখন একটি বিষয় পড়বেন সেটি হল গাড়ির ইঞ্জিন। শুধু ইঞ্জিন থাকলেই তো গাড়ি চলে না। গাড়ির অন্যান্য যন্ত্রাংশ, চাকা, বডি সব মিলিয়েই তৈরি হয় একটি গাড়ি। যখন কাউকে একটি বিষয় বোঝাতে যাবেন তখন কিন্তু সেই টপিকের সার্বিক একটি বিষয়ের উপর ধারণা রাখতে হবে। তখন জ্ঞান আরও অনেক গভীরে পৌছে যাবে।

নিবিড় মনোনিবেশ: একবার ভেবে দেখুন তো দিনে কয় ঘণ্টা বইয়ের সমনে বসে কাটান? প্রচুর সময় হেলা ফেলায় কেটে যায়। যখন পড়তে বসবেন তখন সম্পূর্ন মনোযোগ থাকবে বইয়ের পাতায়। আর বিনোদনের জন্য স্টেপ ১ এ বলা ৫ মিনিটের অবসর তো আছেই। ছোট ছোট লক্ষ্য তৈরি করতে হবে। আপনার সাফল্য ব্যর্থতার দায় ভার নিজের হাতে। এই পরীক্ষায় প্রথম হতে চাই, এটা না করে বরং আজকে এই বইয়ের এ অধ্যায় শেষ করব এ রকম প্লান করতে হবে আর সেটা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত হাল ছাড়া যাবে না।

পড়ালেখা হোক গল্পের আনন্দে: ধরুন, একদিন বাসে এক বন্ধুকে বললেন, জানিস কাল কলেজের সামনে রাস্তায় কি ঘটেছে? বাজি ধরে বলতে পারি, বাসের সবাই সঙ্গে সঙ্গে কান খাড়া করে ফেলবে! কারণ আমরা সবাই গল্প শুনতে খুব পছন্দ করি। যখন সংজ্ঞা ফর্মূলা গল্পের সাঁচে নিরস জায়গা থেকে ফেলতে পারবেন তখন দেখবেন জিনিসটা আসলে কতটা মজার। সুতরাং আর নয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঢলে ঢলে বই মুখস্ত করা। এখন থেকে পড়াশোনা হবে আনন্দের উপকরণ।  

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস/এসজেড