প্লেনের বিজনেস ক্লাস কি আসলেই সুরক্ষিত? 

ঢাকা, সোমবার   ১৭ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৩ ১৪২৬,   ১২ শাওয়াল ১৪৪০

প্লেনের বিজনেস ক্লাস কি আসলেই সুরক্ষিত? 

সিফাত সোহা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:১১ ৮ মার্চ ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

যেকোনো যাত্রার সময় মানুষের দুটি জিনিসের চাওয়ার থাকে। তা হলো যাত্রাটি যেন হয় আরামদায়ক এবং তা যেন হয় সংক্ষেপ। মানে আমরা যেখানে যেতে চাই সেখানে যেন খুব তাড়াতাড়ি পৌঁছাতে পারি। আর এজন্যই মানুষ যাত্রার জন্য পছন্দের প্রথম কাতারে রাখেন প্লেন বা উড়োজাহাজকে। কারণ এটি আমাদের দুটি চাহিদাকে পূরণ করে। কিন্তু আপনি জানেন কি এই আরামদায়ক বাহনটির পিছনে এমন কিছু গোপন বিষয় আছে যা কোন উড়োজাহাজ সংস্থা আপনাকে কখনোই জানতে দিতে চাইবে না। আমাদের আজকের আলোচনায় এমন কিছু গোপন তথ্য জানবেন যাতে ভ্রমণের সময় ঐ বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনারা আরো সতর্ক থাকবেন।   

প্লেনে ওঠার পর ও সুন্দরী এয়ার হোস্টেস আপনাকে সর্বপ্রথম প্রিটিংস জানিয়ে বলবে আপনার মোবাইল ফোনটি বন্ধ করতে। কারণ হিসেবে তারা জানায় আপনার মোবাইল ফোন থেকে নির্গত হওয়া সিগন্যাল পাইলটের কমিউনিকেশন সিস্টেমকে ব্যহত করতে পারে। ব্যাপারটি খুব ভয়ানক তাই না? কিন্তু এই কথাটি বলার মূল কারণ কিন্তু অন্য কিছু। প্লেনের নীরবতা বজায় রাখার জন্য আসলে মোবাইল ফোন বন্ধ করতে বলা হয়। এত সব যাত্রীর মোবাইল বন্ধ করে দেন। তা না হলে এয়ার হোস্টেসরা বিরক্ত হয়ে যায় এবং তাদের কাজে মনোনিবেশ করতে পারে না। আর কোন ইমারজেন্সির সময় এয়ার হস্টেসরা  প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সঠিকভাবে নিতে পারে না। তবে হ্যা! এটা কিছুটা ঠিক যে মোবাইল থেকে নির্গত হওয়া রেডিয়েশন কিনবা ওয়েব পাইলটের কমিউনিকেশনকে কিছুটা ব্যহত করতে পারে। কিন্তু বিশ হাজার টাকা দামের মোবাইল থেকে নির্গত হওয়া ওয়েব কোটি টাকা মূল্যের প্লেনের কমিউনিকেশন সিস্টেমকে ব্যহত করার সুযোগ খুবই কম।  বলতে গেলে শূন্যের কাছাকাছি। 

এয়ার হোস্টেসরা আরো একটি জিনিস দেখায় আর তা হলো অক্সিজেন মাক্স ব্যবহার করার প্রক্রিয়া। যেন আপনি যেকোনো সময় বিপদে পড়লে এই মাস্কের সাহায্যে অক্সিজেন নিয়ে বেঁচে থাকতে পারেন। কিন্তু আপনি সহজেই শুধু মাত্র ১৫ মিনিট বেঁচে থাকতে পারবেন। কারণ এ মাক্সে মাত্র ১৫ মিনিটের অক্সিজেন মজুত থাকে। আর এজন্যই শুরুতেই একটি সতর্কবাণী দেয়া হয় যে, অন্যের সাহায্য করার আগে নিজের সাহায্য করুন। কারণ আপনার হাতে সময় অনেক কম থাকবে। 

যদি আপনাকে বলা হয় যে প্লেনে আপনি এখন যাত্রা করছেন সেই প্লেনের পাইলট এখন ঘুমাচ্ছে তাহলে আপনার কেমন লাগবে? কিন্তু এ ঘটনা কিন্তু সত্যি হয়। কখনো কখনো পায়লট লম্বা ভ্রমণের ক্লান্তি দূর করার জন্য মাঝে মাঝে একটু ঘুমিয়ে নেয়। ঐ সময় প্লেনকে অটো পাইলট মুডে রাখা হয়। 

প্লেনে বিজনেস ক্লাসের ভ্রমণ করার ইচ্ছা কার না আছে? কিন্তু আজ এমন একটি কথা জানবেন এতে করে বিজনেস ক্লাসের ভ্রমণের একেবারে শেষ হয়ে যাবে। ২০১২  সালে বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় জানা গেছে যে, কোনো ধরনের বিপদের মুহূর্তে বিজনেস ক্লাসের ভ্রমণকারী যাত্রীদের বাঁচানোর চান্স সব থেকে কম। কারণ কোনো বিপদ হলে উদ্ধারকারীরা বিজনেস ক্লাস যাত্রীদের কাছে পৌঁছাতে সবচেয়ে বেশি সময় নেয়। প্লেনের সবচেয়ে বেশি সুরক্ষিত সিটগুলো হলো প্লেনের পেছনে এবং মাঝখানের সিটগুলো। যদিও প্লেনের যাত্রা শুরু করার আগে প্লেনের সমস্ত নিরাপত্তার বিষয়ক উপাদান প্লেনের এয়ার হোস্টেস দ্বারা চেক করে নেয়া হয়। কিন্তু তারপরো আমাদের উপদেশ থাকবে প্লেনে বসার সঙ্গে সঙ্গেই আপনি  আপনার জন্য রাখা লাইফ জ্যাকেটটি ঠিক যায়গায় আছে কি না চেক করে নিবেন। 

প্লেনে সবচেয়ে বেশি চুরি যে জিনিসটি হয় সেটি হচ্ছে লাইফ জ্যাকেট। একবার ভেবে দেখুন তো যদি সত্যি কোনো বিপদ আসে আর সে সময় যদি দেখেন আপনার কাছে আপনার লাইফ জ্যাকেট নেই তাহলে ভাবুন কেমন হতে পারে বিষয়টি। মনে রাখবেন জীবনের মূল্য কোনো কিছু দিয়ে দেয়া সম্ভব নয়। 

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ