প্রেম করে বিয়ে, তালাক না দেয়ায় স্ত্রীকে বন্ধু দিয়ে ধর্ষণ

ঢাকা, শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২২ ১৪২৭,   ১২ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

প্রেম করে বিয়ে, তালাক না দেয়ায় স্ত্রীকে বন্ধু দিয়ে ধর্ষণ

বগুড়া প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৫২ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

বগুড়ায় স্বামী ও তার বন্ধুর হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধূ। স্ত্রীকে শায়েস্তা করতে স্বামী তার বন্ধুকে দিয়ে ধর্ষণের পর মাথার চুল কেটে দিয়েছেন। 

পাষণ্ড স্বামী তার স্ত্রীর ওপর নির্যাতনের খড়গ এখানেই শেষ করেননি, পরে তার শরীরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টাও করেছেন।

ওই গৃহবধূ বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর থেকে গৃহবধূর স্বামী রফিকুল ও তার  বন্ধু পলাতক রয়েছেন।

নির্যাতিত গৃহবধূ জানান, স্কুলে পড়া অবস্থায় বগুড়ার গাবতলি উপজেলার মালিয়ানডাঙ্গা দক্ষিণপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের প্রেমে পড়েন। সে সময় রফিকুল একটি বেসরকারি পলিটেকনিকের শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের অসম্মতিতে তারা বিয়ে করেন প্রায় ৯ বছর আগে। বিয়ের পর তারা শহরের চকলোকমান এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। রফিকুল একটি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। কিছুদিন ধরে তাদের সর্ম্পকে তিক্ততা শুরু হয়। তাদের আট বছরের একটি সন্তান রয়েছে। 

গৃহবধূর অভিযোগ, তার স্বামী তাকে তালাক দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এ অবস্থায় জানুয়ারি মাসে রফিকুল তাকে মারপিট করে বাড়িতে তালাবদ্ধ করে রেখে যায়। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় সে সময় তিনি উদ্ধার পেয়ে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেন। এর পর থেকে স্বামী রফিকুল বাড়িতে আসতো না। শনিবার দুপুরের কিছু আগে তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন। এ সময় তার স্বামী এক বন্ধুকে নিয়ে দেয়াল টপকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। প্রথমেই তার মুখ চেপে ধরে ঘরের ভেতরে নেয়া হয়। সেখানে হাত ও মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে মারপিট করা হয়। এর পর রফিকুল তাকে শায়েস্তা করতে বন্ধুকে ঘরের ভেতর ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে থাকে।

এ সময় তার স্বামীর বন্ধু তাকে ধর্ষণ করে। পরে তারা দুইজন তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেল্ট দিয়ে একাধিক আঘাত করে। এক পর্যায়ে স্বামী তার মাথার চুল কেটে দেয় এবং বোতলে থাকা এসিড বা দাহ্য জাতীয় পদার্থ শরীরে ঢেলে দিয়ে আগুন দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। সে কোনো রকমে ঘর থেকে বের হয়ে চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধার করে। তার মা ও ভাই একই এলাকায় থাকে। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে তারা বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। 

গৃবধূর মা জানান, তার মেয়ে প্রেম করে বিয়ে করলেও পরে পরিবারের পক্ষ থেকে মেনে নেয়া হয়েছিল।

গৃহবধূর ভাই জানান, তার বোনের ওপর নির্যাতনের খবর শুনে তিনি বাড়িতে আসেন। ঘটনার সময় তার বোনের শিশু সন্তান স্কুলে ছিল। 

এ ব্যাপারে বগুড়ার এসপি আলী আশরাফ ভুঞা জানান, নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ