Alexa প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া মেয়েকে নিয়ে বাবার মর্মস্পর্শী চিঠি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৫ ১৪২৬,   ২০ মুহররম ১৪৪১

Akash

প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া মেয়েকে নিয়ে বাবার মর্মস্পর্শী চিঠি

নিউজ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২২ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৯:২৩ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সন্তান, সে ছেলে বা মেয়ে যা-ই হোক পরম মমতায় বড় করে তোলেন বাবা-মা। আর তা করতে গিয়ে তাদের অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। তাই তো সন্তানদের নিয়ে অনেক আশা-স্বপ্ন বুনেন তারা। সন্তান বড় হবে, চাকরি-বাকরি করবে, দেখেশুনে বিয়ে দেবে। আরো কতো কি?

তবে ওই সন্তানই যদি বড় হয়ে মা-বাবার মায়ার বাঁধন ছেড়ে চলে যায় অন্য কারো হাত ধরে! কেমন লাগে তাদের? সে অনুভূতিই জানিয়েছে এক বাবা। তার মেয়ে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে গেছে। ঘটনাটি ভারতের চব্বিশ পরগনার বারাসাতে ঘটেছে। যা সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ভাইরাল হয়েছে।

ফেসবুক থেকে সংগৃহীত মেয়েকে নিয়ে বাবার মর্মস্পর্শী কথাগুলো হুবহু তুলে ধরা হলো:

মা’রে,
শুরুটা কিভাবে করবো বুজে উঠতে পারছিলাম না। যেদিন তুই তোর মায়ের অস্তিত্ব ছেড়ে ভূমিষ্ঠ হয়ে ছিলি সেদিন থেকে তোকে মা বলে ডাকতে শুরু করলাম। তোকে মা ডাকতে গিয়ে নিজের মা হারানোর ব্যাথা ভুলেই গিয়েছিলাম। তোর মাকেও কোনদিন মা ছাড়া অন্য নামে ডাকতে শুনিনি। বিদ্যালয়ে প্রথম দিন শিক্ষক তোর নাম জিজ্ঞেস করেছিলেন। তোকে মা বলে ডাকতে ডাকতে তোর ডাক নামটাও ভুলে গিয়েছিলাম। আমি তোর নাম বলতে না পারায় সবাই আমাকে নিয়ে হাসতে ছিলো। তাই চিঠির উপরে তোর নামের জাগায় মা লিখেছি। হঠাৎ করে তুই এভাবে চলে যাবি আমি তা বুজতেই পারিনি। ছেলেটা যেদিন বাইরে ব্যাগ হাতে তোর জন্য অপেক্ষা করছিল কখন তুই দরজা খুলে বাইরে বের হয়ে আসবি।

আমি তখন ভেতরে বসে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছিলাম আর কতটা ভালোবাসতে পারলে তুই আমাকে ছেড়ে চলে যাবি না। তুই ঘরে বসে ভাবছিলি আজ যেতে না পারলে ছেলেটার কাছে ছোট হয়ে যাবি। আর আমি ভাবছিলাম তুই চলে গেলে সমস্ত পিতৃজাতীর কাছে কি করে মুখ দেখাবো। জানিস মা তুই তোর তিন বছরের ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছিস। কিন্তু আমার জীবন থেকে বিশ বছরের ভালোবাসা হারিয়ে গেছে।

মা’রে প্রত্যেকটা বাবা জানে রক্ত পানি করে গড়ে তোলা মেয়েটা একদিন অন্যের ঘরে চলে যাবে। তারপরও একটুও কৃপণতা থাকেনা বাবাদের ভেতরে। বাবাদের ভালোবাসা শামুকের খোলসের মতো মা, বাহিরটা শক্ত হলেও ভেতরটা খুব নরম হয়ে থাকে। বাবারা সন্তানদের কতটা ভালবাসে তা বুঝাতে পারে না, তবে অনেকটা ভালোবাসতে পারে। জানি মা আমার লেখাগুলো পড়ে তোর খারাপ লাগতে পারে। কি করবো বল? তোরা তো যৌবনে পা রাখার পর চোখ, নাক, কান সবকিছুর প্রতি বিবেচনা করে প্রেম করিস। কিন্তু যেদিন জানতে পারলাম তুই তোর মায়ের গর্ভে অবস্থান করেছিস সেদিন বুজতে পারিনি তুই কালো না ফর্সা হবি, ল্যাংড়া না বোবা হবি, কোন কিছুর অপেক্ষা না করেই তোর প্রেমে পরেছিলাম তাই এতকিছু লিখলাম।

আমি জানি মা তোদের সব সন্তানদের একটা প্রশ্ন বাবারা কেন তাদের ভালো লাগাটাকে সহজে মানতে চায় না। উত্তরটা তোর ঘাড়ে তোলা থাকলো, তুই যেদিন মা হবি সেদিন নিজে নিজে উত্তরটা পেয়ে যাবি। তোরা যখন একটা ছেলের হাত ধরে পালিয়ে যাস তখন ওই ছেলে ছাড়া জীবনে কারও প্রয়োজন বোধ করিস না। কিন্তু একটা বাবা বুঝে তার জীবনে নিজের মেয়েটার কতটা প্রয়োজন। যেদিন তোর দাদুর কাছ থেকে তোর মাকে গ্রহণ করেছিলাম সেদিন প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে, যদি মেয়ে হয় তাহলে, নিজের মেয়েটাকে তার স্বামীর হাতে তুলে দিয়ে কণ্যা দানের দায়িত্ব থেকে নিজেকে হালকা করবো। তাই তোর প্রতি এত অভিমান।

মা'রে বাবার উপর রাগ করিস না। তোরা যদি অল্প দিনের ভালোবাসার জন্য ঘর ছেড়ে পালাতে পারিস, তবে আমরা বিশ বছরের ভালোবাসার জন্য বেপরোয়া হব না কেন?? বাবারা মেয়ে সন্তানের জন্মের পর চিন্তা করতে থাকে নিজের মেয়েটাকে সুপাত্রের হাতে তুলে দিতে পারবে তো। আর যৌবনে পা রাখার পর চিন্তা করে কোন প্রতারনার ফাঁদে পরে পালিয়ে যাবে না তো। তাই মেয়েদের প্রতি প্রত্যেকটা বাবার এতটা নজরদারী। যদি মন কাঁদে চলে আসিস বুক পেতে দেব। হয়তো তোর মায়ের মতো তোকে পেটে ধরিনি, তবে পিঠে ধরার যন্ত্রণাটা সহ্য করতে পারছি না।

ইতি তোর জন্মদাতা “পিতা”

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর