প্রেমিককে বেঁধে প্রেমিকাকে ধর্ষণ, ছয় সহযোগী গ্রেফতার

ঢাকা, শনিবার   ১১ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২৭ ১৪২৭,   ১৯ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

প্রেমিককে বেঁধে প্রেমিকাকে ধর্ষণ, ছয় সহযোগী গ্রেফতার

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২২:৫১ ২৯ মে ২০২০  

কলেজছাত্রী ধর্ষণে গ্রেফতার হওয়া ছয় আসামি

কলেজছাত্রী ধর্ষণে গ্রেফতার হওয়া ছয় আসামি

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় প্রেমিকার সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করতে যাওয়ার পথে বখাটেদের কবলে পড়ে এক কলেজছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। একই সঙ্গে ওই ছাত্রী, তার প্রেমিক ও প্রেমিকের এক বন্ধুকে অপহরণ করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে।

ধর্ষণের শিকার কলেজছাত্রী বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে অপহরণ, ধর্ষণ ও চুরির অভিযোগ এনে মামলা করেছেন।

পুলিশ মামলায় অভিযুক্ত ১০ জনের মধ্যে মা-মেয়েসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে ধর্ষিতা কলেজছাত্রী, তার প্রেমিক ও বন্ধুকে। 

বুধবার রাতে উপজেলার পাটিখালঘাটা ইউপির পাটিখালঘাটা বাজার সংলগ্ন মাঝের পোল নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। কলেজছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য  শুক্রবার দুপুরে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

গ্রেফতাররা হলেন, পাটিকালঘাটা গ্রামের আফজাল জমাদ্দারের ছেলে মো. রিপন জমাদ্দার, বেল্লাল হোসেন হাওলাদারের ছেলে মো. রাকিব হাওলাদার, বাচ্ছু খানের স্ত্রী হোসনে আরা ও তার মেয়ে তানিয়া বেগম, একই উপজেলার পশ্চিম চেচরী গ্রামের সারু খানের ছেলে বেল্লাল খান এবং পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার গাজীপুর গ্রামের মো. মহারাজ হাওলাদারের ছেলে আক্কাস হাওলাদার।

একটি মোটরসাইকেলে করে কলেজছাত্রী প্রেমিক মো. রিমন ও তার বন্ধু রায়হানের সঙ্গে পিরোজপুরের বৈঠাকাটা থেকে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার রিমনের বাড়িতে রওনা হয়। বুধবার রাত ১২টার দিকে ভুল করে কাঁঠালিয়া উপজেলার পাটিখালঘাটা ইউপির পাটিখালঘাটা মাঝের পোল নামক স্থানে আসলে স্থানীয় ছালাম হাওলাদারের ছেলে মো. জনি হাওলাদার তার সহযোগীদের নিয়ে তাদের আটক করে।

এ সময় সহযোগীদের সহযোগিতায় জনি ওই কলেজছাত্রীকে পার্শ্ববর্তী একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে ওই ছাত্রীটিকে নিকটস্থ হোসনে আরার বাড়িতে আটকে রাখা হয়। তার প্রেমিক রিমন ও বন্ধু রায়হানকে একটি কাঠের ঘাটে বেঁধে আটকে রাখে জনি ও তার সহযোগীরা।

পরে প্রেমিক রিমন ও বন্ধু রায়হানের বাড়িতে ফোন করে ৫০ হাজার টাকা করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে জনি। পরদিন বিকেলে মুক্তিপণ দাবির ৩০ হাজার টাকা নিয়ে রিমনের পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে আসলে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ টাকা নিতে আসা রিপন জমাদ্দারকে আটক করে। পরে আটক হয় অন্য পাঁচজন।

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ওই কলেজছাত্রী, তার প্রেমিক ও বন্ধুকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। তবে মামলার মূল আসামি জনিসহ চারজন এখনো পলাতক রয়েছে। অভিযুক্তরা কলেজছাত্রীর প্রেমিক ও বন্ধুকে মারধর ছাড়াও টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে।

কাঁঠালিয়া থানার ওসি পুলক চন্দ্র রায় বলেন, পিরোজপুর জেলার বইঠাকাটা উপজেলার একটি ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ওই ছাত্রী তার প্রেমিক মো. রিমন ওরফে তানভীর হাওলাদারকে বিয়ে করার জন্য বাড়ি থেকে চলে আসে। রিমনের বাড়িতে আসার পথে ওই কলেজছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়। শুক্রবার দুপুরে ধর্ষিতাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ