প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনিই প্রথম...

ঢাকা, শুক্রবার   ২৪ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪২৬,   ১৯ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনিই প্রথম...

 প্রকাশিত: ১৬:৫৬ ২২ জুলাই ২০১৭  

বাংলাদেশ থেকে দেশের বাইরে পড়তে যাওয়া ছেলেমেয়ের সংখ্যা নেহাত কম নয়। আবার বিদেশে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত তরুণ-তরুণীও রয়েছেন এ তালিকায়। যারা পৃথিবীর কাছে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করে আসছেন বারবারই। রক্ষণশীল একটি দেশের প্রতিনিধি হয়ে বিশ্বদরবারে মেলে ধরছেন নিজেদের প্রতিভা। তেমন একজন নুসরাত আহমেদ। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এই তরুণীর বড় হওয়া যুক্তরাষ্ট্রেই। সেখানে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন নৃবিজ্ঞান নিয়ে। স্নাতকে গবেষণার বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন বাংলাদেশী পরিবার প্রথাকে। বাংলাদেশী হিসেবে গর্বিত এ তরুণী সময় পেলেই ছুটে আসেন নিজের দেশ দেখতে। সেখানে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করেন নিজের শিকড়ের। যা-ই হোক, মাসখানেক আগেই নুসরাত নির্বাচিত হয়েছেন নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে। এটা তার জন্য বড় প্রাপ্তিই বটে। প্রথম যেকোনো কিছুই বেশ আনন্দ নিয়ে আসে। নুসরাতের অর্জনের ঝুলিতে এর আগেও বিভিন্ন কিছুতে প্রথম হওয়ার অভিজ্ঞতা থাকলেও এবারের প্রথম শব্দটা একটু বিশেষ। কেননা প্রথম মুসলিম হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭ সালে স্নাতক পাস করা ব্যাচের (অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের) প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সংবাদপত্রের মতে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে নুসরাত আহমেদই প্রথম মুসলিম, যিনি কোনো ক্লাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। তার সম্মানে একটি অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয় সে সময়। এই সম্মানে খুবই গর্বিত নুসরাত। তিনি বলেন, ‘প্রথম কোনো কিছু হওয়া সবসময়ই রোমাঞ্চকর। আমি অন্যদের প্রতিনিধিত্ব করব। আর এটা খুবই সম্মানজনক কিছু।’ বাংলাদেশী মা-বাবার সঙ্গে ব্রোংকসে বড় হয়ে উঠেছেন নুসরাত আহমেদ। মুসলিম নারী ও কম আয়ের একটা দেশের শিক্ষার্থী হিসেবে কখনো সাহস হারিয়ে ফেলেননি তিনি। আর এ ধরনের সুযোগ তার কাছে বিশেষ কিছু বলেও মনে করেন। এজন্য তাকে কখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্ন কিন্তু চলেই আসে। উত্তরে নুসরাত বলেন, ক্যাম্পাসে সবসময়ই নিরাপদবোধ করেছি। যদিও মুসলিম হয়ে মাথায় কাপড় দেয়া সবসময় আমাকে নিরাপদবোধ করতে দেয় না। জনবহুল স্থানে আমি বুঝতে পারি সবাই আমার দিকে অন্যভাবে তাকাচ্ছে। তবে সেই পরিস্থিতি কাটানোর ও সবাইকে ভুল প্রমাণের সুযোগ এসেছে বলে মনে করেন তিনি। নুসরাত বলেন, দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থীদের সাহায্য করা সম্ভব হবে তার। অনেককে উত্সাহও দিতে পারবেন। নৃবিজ্ঞান নিয়ে স্নাতক শেষ করা নুসরাত এখন তুরস্কে সাংবাদিকতা বিষয়ে তিন মাসের কোর্স করছেন। তার ভালো লাগা কাজের তালিকায় আছে শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো। ভালোবাসেন সমাজের উন্নয়নমূলক যেকোনো কাজ করতে। এছাড়া নারী ও শিশু অধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন, তরুণদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসেন এই তরুণী। ডেইলি বাংলাদেশ/আরকে
Best Electronics