প্রায় ৪০০০ বছর পুরনো ফলক থেকে উদ্ধারকৃত রেসিপি রেঁধে চমকে দিলেন

ঢাকা, সোমবার   ০৩ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ১৯ ১৪২৭,   ১২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

প্রায় ৪০০০ বছর পুরনো ফলক থেকে উদ্ধারকৃত রেসিপি রেঁধে চমকে দিলেন যিনি! 

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:০৩ ২ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৩:০৭ ২ জুলাই ২০২০

৩ হাজার ৭০০ বছর পুরনো রেসিপি

৩ হাজার ৭০০ বছর পুরনো রেসিপি

সুস্বাদু খাবার অনায়াসেই জিভে জল এনে দেয়। দেশি কিংবা বিদেশি নানা রকম রেসিপি রয়েছে অনেকেরই পছন্দের খাবারের তালিকায়। একেক দেশের একেক রকম রান্নার ধরন। কোথাও মশলাজাতীয় খাবারের চাহিদা বেশি তো কোথাও সাদাসিদে খাবারই পছন্দ। যুগ যুগ ধরেই রান্নার রেসিপিতে আসছে নিত্যনতুন পরিবর্তন।

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, নতুন নতুন খাবারের রেসিপি আমরা চেখে দেখলেও ৩ হাজার ৭০০ বছর পুরনো রেসিপির স্বাদ এখন পর্যন্ত কেউ পাইনি। তবে এই অসম্ভব কাজটিকেই সম্ভব করে দেখালেন একজন শিক্ষাবিদ! 

লকডাউনে একটানা ঘরবন্দি হাঁসফাঁস করছেন সবাই। ঠিক এই সময়টি কাজে লাগিয়ে ইতিহাস খুঁড়ে এনে থালায় সাজিয়ে দিলেন এক ব্যক্তি। আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর আগে মেসোপটেমিয়া সভ্যতায় ব্যাবিলনে যে রান্নার প্রচলন ছিল, সেই রেসিপি উদ্ধার করলেন এক ব্যক্তি। আর সেই রেসিপি অনুযায়ী খাবার বানিয়ে সবাইকে তাকও লাগিয়ে দিলেন তিনি।

৩ হাজার ৭০০ বছর পুরনো রেসিপিকরোনা সঙ্কটে চারিদিকে যখন আতঙ্কের পরিবেশ, সেই সময় তার এই উদ্যোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের অধ্যাপক বিল সাদারল্যান্ড। লকডাউনের জেরে সমস্ত গবেষণাই এখন থেমে আছে। তাই রান্নাঘরেই বিভিন্ন রকম রেসিপি রেঁধে বেশি সময় কাটাতে পছন্দ করছিলেন তিনি। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, কোনো ইটালিয়ান বা চাইনিজ রেসিপি নয়, তিনি ব্যাবিলনীয় খাবার রাঁধবেন বলেই মনঃস্থির করেন। আর সেই মতো ৩ হাজার ৭৭০ বছর পুরনো রেসিপি নিয়ে কাজে লেগে পড়েন।

না, তার এই অক্লান্ত পরিশ্রম বিফলে যায়নি। বরং ঐতিহাসিক রেসিপি দেখে বানানো খাবার এত সুস্বাদু হয় যে, বিল নিজেই অবাক হয়ে যান। খ্রিস্টপূর্ব ১৭৫০ সালের একটি ফলক থেকে উদ্ধারকৃত এক রেসিপি ও তার সঙ্গে নিজের বানানো খাবারের ছবি টুইটারে পোস্ট করেন তিনি। তাতে লেখেন, ‘‘আমার ব্যাবিলনীয় রান্নায় হাত পাকানোর সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী লকডাউন। ডান দিকে যে ফলকে রেসিপি খোদাই করা রয়েছে, সেটি খ্রিস্টপূর্ব ১৭৫০ সালের। এটি প্রাচীনতম রেসিপি। রান্না ভালোই হয়েছে। আজ পর্যন্ত যত মেসোপটেমীয় খাবার খেয়েছি, তার মধ্যে এটাই সেরা।’’

৩ হাজার ৭০০ বছর পুরনো রেসিপিতবে শুধুমাত্র একটি মাত্র পদেই থেমে থাকেননি তিনি। মোট পাঁচ রকমের খাবার তৈরি করেন, যার মধ্যে ছিল ল্যাম্ব স্টু, টুহু নামে বিটের তৈরি একটি পদ, সাওয়ার ডো রুটি, এবং মাংসের চর্বি দিয়ে তৈরি একরকমের ব্রথ। ধাপে ধাপে কীভাবে ওই পদগুলো তিনি বানিয়েছেন, আলাদা করে তাও সবিস্তারে ব্যাখ্যা করেন বিল। তার সেই খাবারের ছবি সারাবিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।  

বিল জানান, তার রান্না করা পদ যে এভাবে ভাইরাল হয়ে যাবে তা তিনি বিন্দুমাত্র আঁচ করতে পারেননি। যদি জানতেন তবে আরো ভালো করে সাজিয়ে-গুছিয়ে ছবি পোস্ট করতেন।

৩ হাজার ৭০০ বছর পুরনো রেসিপিতবে তার এসব পোস্ট করা ছবির প্রশংসাই করেছেন সবাই। প্রশংসা করেছেন তার রান্নারও। প্রাচীন রান্নাবান্নার কোনো রেস্তরাঁ থাকলে ভালো হত বলে মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। কেউ কেউ আবার বলেন, ছবি দেখেই বোঝা যাচ্ছে, খাবারগুলো সুস্বাদু।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএ