প্রার্থনা ও আত্মশুদ্ধির এক অতুলনীয় আলোচনা (পর্ব-৯)
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=117658 LIMIT 1

ঢাকা, শুক্রবার   ১৪ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ৩০ ১৪২৭,   ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

সূরা ফাতেহা

প্রার্থনা ও আত্মশুদ্ধির এক অতুলনীয় আলোচনা (পর্ব-৯)

মাওলানা কালিম সিদ্দিকি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৪০ ৭ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ২০:৪৪ ৭ জুলাই ২০১৯

সূরা আল ফাতেহা (ফাইল ফটো)

সূরা আল ফাতেহা (ফাইল ফটো)

মহান নেয়ামত: মহান সে দয়াবান সত্তা, অসীম দয়ালু ও পরম করুণাময় রব যে ধর্ম অবতরণ করে নিজেই তার ব্যাপারে খুশি এবং সন্তুষ্ট যে, আমি আমার বান্দাদের ওপর অত্যন্ত দয়া ও অনুগ্রহ করেছি সে ধর্মটা আমাদের জন্য সত্যিকারার্থেই একটি মহান নেয়ামত! 

এ ধর্মে মানুষের জীবন চলার প্রতিটি ধাপ ঠিক করার জন্য রয়েছে পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা। আমাদের চিন্তার জগত যেন অপরিবর্তিত থাকে, ভাবনার জগত যেন বিগড়ে না যায়, আমল-আখলাক যেন বিনষ্ট না হয়, সমস্ত কিছুই যেন ঠিকঠাক চলে, জীবনের সকল বাঁক যেন পরিচালিত হয় বিশুদ্ধ তরিকায় তার সব পথ-পদ্ধতি আল্লাহ পাক বাতলে দিয়েছেন। প্রকাশ্যে-গোপনে, নিরবে-জনসম্মুখে, দুর্বলতায় ও শক্তিমত্তায়, দারিদ্রতায় ও ধনাঢ্যতায় সর্বাবস্থায় তার চলাচল বিশুদ্ধ করার সর্বোত্তম ব্যবস্থা আল্লাহপাক করে রেখেছেন। কারণ তিনিই মানুষের মেজাজ-মর্জি ভালো জানেন আর তিনিই এসব ব্যবস্থাপনায় একমাত্র সক্ষম সত্তা। কোরআনে কারিমে এরশাদ হয়েছে, ‘তিনি কী জানবেন না যিনি সৃষ্টি করেছেন? তিনি সূক্ষ জ্ঞানী ও সম্যক জ্ঞাত।’ (সূরা আল-মুলক: ১৪)। 

আরো পড়ুন>>> সূরা ফাতেহা প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধির এক অতুলনীয় আলোচনা (পর্ব-৮)

আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিকর্তা। মানুষের মনোজগত, স্বভাব-প্রকৃতি ও মেজাজ-মর্জি সম্পর্কে তাই তাঁর চেয়ে বেশি কেউ জানে না। মানুষের জীবনকে বিশুদ্ধ পথে পরিচালনার যদি কোনো উত্তম পদ্ধতি থাকে তাহলে সেটা হচ্ছে আখেরাতের স্মরণ, আল্লাহর সামনে হিসাব-কিতাবের বিশ্বাস লালন এবং দৃষ্টি সীমানায় আখেরাতের দৃশ্য সদা উপস্থাপন। মৃত্যুর পর আমাদেরকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে এবং জবাবদিহিতা করতে হবে এ চিন্তার ওপর কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে পূর্ণ দীনকে। কাজেই এ চিন্তাকে সঠিক রাখা চাই। মানুষ যেন জীবনের সকল কাজ পরকালীন উদ্দেশ্যে করতে পারে সেজন্য আল্লাহ পাক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করে দিয়েছেন এবং সেই সঙ্গে প্রত্যেক নামাজের প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতেহার তেলাওয়াতকে করেছেন ওয়াজিব। আল্লাহর নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, অর্থাৎ সূরা ফাতেহা ব্যতীত নামাজ পূর্ণাঙ্গ হবে না।

সূরা ফাতেহার আদলে এই যে দরখাস্ত আল্লাহপাক আমাদের শিখিয়েছেন। আমি আগেও বলেছি যে, আল্লাহপাক খুশি হয়ে স্বয়ং এ দরখাস্ত খসড়া করে দিয়েছেন এবং আমাদেরকে বলেছেন যে, যাও, তোমরা শুধু এটা লিখে নিয়ে এসো। এর মধ্যে আমাদের প্রয়োজনাদির কথাও উল্লেখ আছে এবং আমাদের জীবন গঠনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। মানুষ এ দরখাস্তে আল্লাহপাকের রহমান ও রহীম গুণের দোহাই দিয়ে সম্বোধন করে। গত দুদিন যাবত এ বিষয়ক কথাই হচ্ছিল যে, আর সমস্ত গুণ বাদ দিয়ে এ দুটি গুণ কেন এত বেশি বার বলা হচ্ছে? কারণ যেন এ দরখাস্ত পেশকারী বান্দা স্বয়ং রহমান ও রহীম গুণের প্রতিকৃতি বনে যায়।

দাওয়াতের ক্ষেত্রে কঠোরতা বিষ সমতুল্য: মুসলমানদের মূলত সৃষ্টি করা হয়েছে দায়ী হিসেবে। যতক্ষণ না সে তার মেজাজের কঠোরতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে, দাওয়াতের এ হক তার পক্ষে যথাযথ আদায় করা সম্ভব হবে না। শক্ত কথা, উগ্রতা ও কঠোর স্বভাব ত্যাগ করে যতক্ষণ না তার ভেতরে চূড়ান্ত পর্যায়ের দয়া, বিনম্রতা ও রহমত তৈরি হবে, অসামান্য মায়া তার হৃদয়ে যতক্ষণ না স্থান গাড়ে এবং গোটা জগদ্বাসীর জন্য অন্তরে রহমত ও দয়া অনুভব করে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে কখনোই দাওয়াতের পূর্ণ হক আদায় করতে পারবে না; কখনোই না।

মানুষকে তাই আল্লাহ তায়ালা রহমান ও রহীম গুণের অধিকারী বানাতে এবং তার ভেতরে এর প্রতিকৃতি তৈরি করতে বারংবার তাকে দিয়ে ‘আর-রহমানুর রহীম’ বলিয়েছেন। সে তার প্রেমাস্পদকে যখন রহমান ও রহীম গুণ দ্বারা স্মরণ করবে, তখন তার ভেতরেও এ গুণ দুটি স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এ গুণ দুটি এত বিশাল ও প্রশস্ত যে, আমার মতো একজন মূর্খ মানুষও যদি সাতদিন বা দশদিনও এর ওপর আলোচনা করে, তবু এর আলোচনা শেষ হবে না। কিন্তু আমাদেরকে তো দরখাস্ত পূর্ণ লিখে তা পেশ করতে হবে এবং এর জন্য আমাদের হাতে সময়ও খুব কম। এজন্যই আমি গত দুদিন পর্যন্ত খুব সংক্ষেপে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি।

আরো পড়ুন>>> যে সব কাজ ঈমানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ

মা-লিকি ইয়াওমিদ দীন: সূরা ফাতেহার তৃতীয় আয়াত এবং দরখাস্তের তৃতীয় যে বাক্যটি আমরা আল্লাহর দরবারে উপস্থাপন করি সেটি হচ্ছে মা-লিকি ইয়াওমিদ দীন। অর্থাৎ বিচার দিবসের প্রতিপালক। প্রতিটি রাকাতেই এ বাক্যটি বলতে হয়। দীনের মূল বক্তব্য, প্রকৃত দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিশুদ্ধ অবস্থান যেন বান্দার স্মরণে চলে আসে এজন্য বারংবার বলানো হয়, বারংবার আওয়াজ লাগানো হয়, মা-লিকি ইয়াওমিদ দীন, মা-লিকি ইয়াওমিদ দীন। মানুষ স্বীকারোক্তি দেয় যে, হে আল্লাহ, আপনি প্রতিদান দিবসের মালিক। হে আল্লাহ, বড় মামলা-মোকাদ্দমায় আসামী হয়ে আমাকে আপনার আদালতে দাঁড়াতে হবে। হে দয়াবান মাওলা, আমি আপনার রহমান ও রহীম গুণের দোহাই দিয়ে আর্জি জানাচ্ছি, আমার সঙ্গে আপনি সেদিন দয়া ও কোমলতার আচরণ করবেন। দুনিয়ায় যেভাবে আপনি আমার ত্রুটিগুলো গোপন রেখেছেন, আল্লাহ, ওখানেও আপনি একটু নরম ও সহজ হয়ে আমার ব্যাপারগুলো অনায়াসেই সমাধান করে দিয়েন। মা-লিকি ইয়াওমিদ দীন। আপনি প্রতিদান দিবসের মালিক। আমার ব্যাপারে যত বিচার-নালিশ সব আপনার দরবারেই পেশ হবে এবং আপনিই তার ফায়সালা করবেন। হে আল্লাহ, আপনার দরবারে এটুকুই প্রার্থনা আমার ব্যাপারে আপনার রহমান ও রহীম গুণের বদৌলতে সহজ ফায়সালায় ন্যাস্ত করেন। নামাজের প্রতিটি রাকাতে এ দোয়া অব্যাহত থাকে। বারংবার বলা হয় ওই প্রতিদান দিবসের কথা। হে আল্লাহ, প্রতিদান দিবসে আমাকে আপনার কঠিন আদালতে দাঁড়াতে হবে।

সেদিনকে স্মরণ রাখবার জন্য এবং মানবজীবনের চালচলন ও চলাফেরা ঠিক রাখার জন্য এর চেয়ে উত্তম পথ্য আর নেই। এতে তার মধ্যে বিশ্বাস তৈরি হবে যে, মৃত্যুর পর হিসাব কিতাব হবে এবং আমাদেরকে তাঁর কাছেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে। কোরআনের ভাষা ‘নিশ্চয় তাদের প্রত্যাবর্তন আমারই নিকট। অতঃপর হিসাব-নিকাশ আমারই দায়িত্বে। সূরা আল-গাশিয়াহ: ২৫-২৬। কাজেই দীন এরই নাম যে, মানুষ পরকালীন হিসাব-কিতাব এবং সেখানকার লাভ-ক্ষতির বিবেচনায় তার জীবন অতিবাহিত করবে।

আরো পড়ুন>>> মক্কা-মদিনায় অবস্থানকালে বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখুন 

ঈমান ও ইহতেসাব (প্রতিদানের প্রত্যাশা): দীন ও দুনিয়ার মধ্যে পার্থক্য কী? হজরত মাওলানা আব্দুল করীম পারিখ সাহেব এ দু‘টির বড় চমৎকার অনুবাদ করেছেন। দুনিয়া মানে এ-কাল আর আখেরাত মানে সে-কাল। আখেরাতের উদ্দেশ্য এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবনের কথা চিন্তা করে যা কিছু করা হয় তা-ই দীনের কাজ। দীনের কাজ ও আমল এটুকুই। মৃত্যুর পর উপকার ও প্রতিদান লাভের প্রত্যাশায় এবং সেখানকার যাবতীয় কষ্ট ও ক্ষতি থেকে বিরত থাকার ইচ্ছায় যে কাজ করা হয় তা-ই দীন। চাই তা দেখতে যেমনই হোক না কেন। এজন্য দীনের প্রতিটি আমল কবুল হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে নিয়ত বিশুদ্ধ থাকা। আমল শুধু করলেই হবে না। নামাজ পড়ল, প্রচুর পরিমাণে কোরআন তেলাওয়াত করল, এত এত পারা পড়ে ফেলল, এতবার হজ আদায় করল এবং আরো এতবার ওমরাহ পালন করল এসবের দ্বারা কিছুই হবে না, যতক্ষণ না এগুলো আল্লাহর দরবারে কবুল হবার জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবে। আর কবুল হবার জন্য মূল মাপকাঠি হচ্ছে, নিয়ত বিশুদ্ধ থাকা। এটাকেই ‘ঈমান ও ইহতেসাব’ তথা ঈমান ও প্রতিদানের প্রত্যাশা বলা হয়েছে। 

রমজান মাস বিশেষত এ নিয়তের পুনঃস্মরণ ও আত্মস্থ করার সুযোগ। এমনিতে তো সব আমলের জন্যেই ঈমান ও ইহতেসাব জরুরি। তবে কিছু ক্ষেত্রে রীতিমতো আলাদা করে এটার উল্লেখ এসেছে। যেমন হজরত নবী (আ.) বলেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এবং প্রতিদান লাভের প্রত্যাশা নিয়ে রমজান মাসে রোজা রাখবে, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এবং প্রতিদান লাভের প্রত্যাশা নিয়ে রমযান মাসে তারাবিহ নামাজ আদায় করবে এবং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে এবং প্রতিদান লাভের প্রত্যাশা নিয়ে ক্বদরের রাতে নামাজ আদায় করবে, তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।

ঈমান ও ইহতেসাব সম্পর্কে আমার শায়েখ হজরত মাওলানা আবুল হাসান আলী মিয়াঁ নদভী (রহ.) বলতেন, হজরত মাওলানা ইলিয়াস (রহ.) এর কাছে গিয়ে দীনের যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আমরা বুঝতে শিখেছি, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ঈমান ও ইহতেসাব। সেখানে গিয়ে আমার বুঝে এসেছে যে, ঈমান ও ইহতেসাব আসলে কী জিনিস। পরকালীন হিসাব-কিতাব, বিনিময় ও প্রতিদান এবং আযাবের ব্যাপারে আল্লাহপাক যে ওয়াদা করেছেন, সেগুলোকে শতভাগ বিশ্বাস করা, মানা এবং সে অনুযায়ী আমল করা; এমনকি লোভাতুর মন নিয়ে হিসাব করা যে, কোন আমলের বিনিময়ে আমি কী পাবো এরই নাম ঈমান ও ইহতেসাব।

আল্লাহর ওয়াদায় বিশ্বাস লালন: কোনো আমলের ব্যাপারে আল্লাহপাক যে ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার কোনোটি হয়তো নিজেই দিয়েছেন, কিংবা কোনোটি হজরত নবী (আ.) এর মাধ্যমে দিয়েছেন। বিভিন্ন হাদিসে বিনিময় ও প্রতিদান সম্পর্কে যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, সেগুলোও আল্লাহ পাকেরই ওয়াদা। কেননা আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন, আর তিনি নবী (আ.) প্রবৃত্তির তাড়নায় কোনো কথা বলেন না। এটি (কোরআন) একটি ওহী, যা প্রত্যাদেশ বা অবতীর্ণ হয়। (সূরা আন-নাজম: ৩-৪)। তিনি তো রাসূল এবং একজন দূত। তাই তিনি নিজের পক্ষ থেকে কোনো কথা বলেন না; বরং আল্লাহর তরফ থেকে যা নির্দেশ হয় তা-ই তিনি বলেন। কাজেই নবী (আ.) আমাদের সঙ্গে সওয়াব ও বিনিময় সংক্রান্ত যে প্রতিশ্রুতি এবং ওয়াদা করেছেন, তা-ও আল্লাহ পাকেরই ওয়াদা। আর কোরআনে পাকে এরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ওয়াদার খেলাফ করেন না। (সূরা আলে-ইমরান: ৯)। আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না, কেননা তাঁর চেয়ে বড় সত্যবাদী আর কেউ হতে পারে না। কোরআনের ভাষায়, আল্লাহর চাইতে আর কে বেশি সত্যবাদী? (সূরা আন-নিসা: ৮৭ ও ১২২)। কাজেই আল্লাহর চেয়ে অধিক সত্যবাদী এবং অধিক প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী আর কেউ হতে পারে না।

আমাদেরকে আল্লাহপাক আমলের বিনিময়ে যে সওয়াবের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আল্লাহর সঙ্গে আমাদের সেটি একটি ওয়াদা ও লেনদেনের সম্পর্ক। এর ওপর বিশ্বাস রাখা চাই। আল্লাহ পাকের এ ওয়াদার ওপর শতভাগ একিন লালনের পাশাপাশি যে সওয়াব ও বিনিময়ের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তার ওপরও একিন রাখতে হবে এবং পূর্ণ হিসাব করে করে তা লাভ করার জন্য লোভাতুর হয়ে কাজ করতে হবে। এর নামই ঈমান ও ইহতেসাব। এটা পরিপূর্ণ নেই বলেই আমরা কেমন নিষ্প্রাণ এবং আমাদের জীবনের চালচলন অশুদ্ধ। আল্লাহর ওয়াদার ওপর আমাদের এভাবেই বিশ্বাস পোক্ত রাখতে হবে।

আল্লাহপাকের এসব ওয়াদার ব্যাপারে যখন আমরা গভীরভাবে চিন্তা করি তখন আমাদের লজ্জা পেতে হয় এবং আমাদের অপদার্থতার দরুণ খুব বিব্রত হতে হয়। দুনিয়ার এসব ক্ষণজীবী মানুষ যাদের নিজেদেরই কোনো ভরসা নেই তাদের ওয়াদা আমরা বিশ্বাস করি। অথচ এ ওয়াদা পূর্ণ করার কোনো ক্ষমতাই তাদের নেই। কেউ আপনার সঙ্গে কোনো ব্যবসায়িক লেনদেন করল অথবা কোনো বিনিময় বা কাজ সংক্রান্ত লেনদেন করল, তাহলে আমাদের মধ্যে ছোট থেকে ছোট মানুষটিও সেই লেনদেনে শতভাগ বি্বোস ও ভরসা করে ফেলবে। চাই তার কাজ-কারবার ও কর্মজীবন এই লেনদেন মাফিক হোক বা না হোক। অথচ তার যাবতীয় ব্যাংক ব্যালেন্স ও সমস্ত সম্পদ আচানক লুট হয়ে যেতে পারে বা সে সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে। অথবা তার মৃত্যুও হয়ে যেতে পারে। কিংবা অন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটে গেল, যার ফলে তার করায়ত্তে আর কোনো সম্পদই অবশিষ্ট রইল না। এগুলো কিন্তু অস্বাভাবিক নয় কিছু।

কেউ তার শ্রমিকের সাথে চুক্তি করল যে, সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করলে তোমাকে ৮০ টাকা দেয়া হবে। সে মাফিক শ্রমিক কাজ শুরু করে দিল এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত সে মনে মনে হিসেবও কষে ফেলল যে, এই ৮০ টাকা সে কোন কোন খাতে ব্যয় করবে। ইতিমধ্যে সে ঘরেও জানিয়ে দিল যে, দোকান থেকে গোশত এবং কী কী লাগবে আনিয়ে নাও, আমি সন্ধ্যায় এসে টাকা দিয়ে দিবো। অথচ কে জানে দুপুরেই তার মৃত্যু হয়ে যেতে পারে বা বৃষ্টির দরুণ কাজই বন্ধ হয়ে গেল। সে কাজে গেল ঠিকই কিন্তু তুমুল বর্ষণের ফলে কাজ স্থগিত হয়ে গেল। তবে সরকারি কাজ হলে অবশ্য এগুলো বলা বাহুল্য। যেদিন চাকরিতে জয়েন দেবে সেদিনই সে তার পুরো মাসের বেতন পাকাপোক্ত ভেবে নেয়। এক মাস কেন; পুরো বছরের বাজেটও করে ফেলে অনেকে। সে অনুপাতে বাড়ি ভাড়া নিয়ে নেয়, পত্রিকার অর্ডার দেয়, দুধ রোজ করে এগুলো তো সরকার কর্তৃক ধার্য হলো। অথচ এরও সমাপ্তি দেখি আমরা প্রতিনিয়ত। তার একসিডেন্ট হতে পারে, মৃত্যু হতে পারে কিংবা অন্য যেকোনো দুর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারে।

অনুরূপভাবে কোনো ব্যবসায়ীর সঙ্গে লেনদেন হলো, তো আপনি জানালেন যে, আমরা কিছু জিনিস তৈরি করি। তিনি বললেন, আমাদেরকে তাহলে বছরে এত পিস বানিয়ে দেন। আপনি তখন চিন্তা করতে লেগে গেলেন যে, এগুলো একেক পিসের দাম যদি হয় ১০ টাকা করে, তাহলে মাসে ১০ হাজার বানাতে পারলে মাসিক আয় হবে এক লাখ টাকা। এভাবে ১০ লাখ টাকা হলে এক বছরের মধ্যেই একটা বাড়ি করে ফেলা যাবে। পাঁচ লাখ টাকার একটা প্লটও নেয়া যায়। আর কিছুটা উদারমনা হলে তো সে কোনো ব্যাপারে এক লাখ টাকার চুক্তিনামাও করে ফেলতে পারে যে, আমার হাতে টাকা এলে বছরব্যাপী আমি তা ধীরে ধীরে শোধ করে দেবো। এভাবে সে আরো অন্যান্য লেনদেনেও জড়িয়ে যাবে। অথচ সাপ্লাই তো দূরের কথা; এখনও পর্যন্ত মাল বানানোই শুরু হয়নি। কিন্তু ওদিকে সে তরফে চুক্তির ওপর ভরসা করেই কত কিছু করে ফেলল! একটু ইনসাফের সঙ্গে চিন্তা করে দেখেন তো, আল্লাহর ওয়াদার ওপর কী আমরা এতটা বিশ্বাস লালন করছি? তিনি যখন কোনো আমলের বিনিময় বলেন আমাদের, আমরা কী তার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখি? ঠিক এ কারণেই আমাদের আমলেরও এই দশা।

এক হরফের বিনিময়ে ৪৯০০ নেকি: আল্লাহর নবী (সা.) আমাদেরকে বলেছেন যে, কোরআনের এক হরফ পড়ার বিনিময়ে ১০ নেকি মিলবে। আমি এটা বলছি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ। বরং আলিফ এক হরফ, লাম এক হরফ এবং মীম এক হরফ। যদি ওজু সহকারে পড়ে তাহলে পাবে ৪০ নেকি। আর যদি নামাজে পড়ে তাহলে পাবে ৭০ নেকি। আর যদি হয় সেটা রমজান মাস তাহলে পাবে ৭০ গুণ বেশি। তথা ৭০ * ৭০= ৪৯০০ নেকি। অর্থাৎ এক হরফ পড়ার বিনিময়েই মিলবে চার হাজার নয়শত নেকি! অন্য রেওয়ায়েতে আছে যে, কোরআন শোনার ক্ষেত্রে দ্বিগুণ নেকি। তাহলে মোট নেকির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৪৯০০ * ২=৯৮০০ নেকি। এই সব নেকি  একটি হরফের বিনিময়ে। কেউ যদি আধা পারা বা পুরো এক পারা পড়ে তাহলে সে কত নেকি পাবে! এভাবে আমাদের নেকিগুলো হিসেব করলে দেখা যাবে নেকির এক বিশাল স্তুপ হয়ে গেছে। হরফ প্রতি এত এত নেকির এ হিসাব যদি আমাদের বিশ্বা হয়ে থাকে, তাহলে অনিচ্ছা, অবসন্নতা, নিরুত্তাপ-নিরুৎসাহিতা ও ঔদাসিন্যের সঙ্গে কোরআন তেলাওয়াতের যে প্রবণতা আমাদের মধ্যে বিদ্যমান কিছু বুঝে আসুক চাই না আসুক, কোনোরকম তাড়াহুড়া করে খতম দেয়া বা ঊর্ধ্বশ্বাসে কোনোমতে শুধু ফরমালিটি রক্ষা করে পড়া এসব আর থাকবে না। বরং প্রতিবার আমাদের মধ্যে তেলাওয়াতের নতুন উৎসাহ এবং নব উদ্দীপনা তৈরি হবে।

তেলাওয়াত করে শোনালে আরো নেকি: অনুরূপ যদি কেউ কোরআন তেলাওয়াত করে শোনায় তাহলে সে পাবে আরো বেশি নেকি। কেননা হাদিসে এসেছে, ভালো কাজ যে করে আর যে সেদিকে পথ প্রদর্শন করে উভয়েই সমান সাওয়াবের অধিকারী। যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের মাধ্যম বা ওসিলা হতে পারবে সে-ও ওই পরিমাণ সওয়াবই পাবে, যে পরিমাণ ওই কাজ সমাধাকারী পাবে। কাজেই তেলাওয়াত শ্রবণকারী ব্যক্তি যে পরিমাণ সওয়াব পাবে, সে পরিমাণ খোদ তেলাওয়াতকারী এবং শ্রবণকারী প্রত্যেকের সমপরিমাণ আলাদা আলাদা সওয়াবের ভাগিদার হবে তেলাওয়াতকারী। এই পুরো হিসাবটা যদি তেলাওয়াতকারী ব্যক্তির বুঝে আসে, তাহলে তেলাওয়াত করে শোনানোর সময় তার কত আনন্দ লাগবে এবং কত উপকার মনে হবে তার কাছে! তার তো নেকির হিসাব করতে করতে ক্লান্তি চলে আসার উপক্রম হবে যে, কী পরিমাণ নেকি জমা হয়ে যাচ্ছে আমার! এতে সে পুনঃ পুনঃ শোনাতে চাইবে এবং ফের তিলাওয়াতে আগ্রহী হয়ে উঠবে। এমনটা তখন আর হবে না যে, সে কোথাও টাকার লোভে তেলাওয়াত শোনাতে গেছে কিংবা কোনো কথা কাটাকাটি হওয়ায় সে ওই বছর আর তেলাওয়াত করে শোনাতে রাজি হলো না। বরং হাফেজ সাহেব প্রয়োজনে জীবন দিয়ে দেবেন, তবু তেলাওয়াত শোনানো থেকে বিরত হবেন না। কারণ তার এক্বিন হয়ে গেছে যে, এর ফলে আমার এত এত নেকি এবং এত এত সওয়াব জমা হচ্ছে!

সে হিসাব মেলাবে যে, আমি যদি না শোনাই, তাহলে আমার কী পরিমাণ ক্ষতি হবে! একেক হরফের বিনিময়ে আমার ৯৮০০ করে নেকি হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। কোরআনে হরফ আছে কী পরিমাণ! তেলাওয়াত করে না শোনালে আমাকে এই লাখ লাখ নেকি থেকে বিরত হতে হবে! যদি এ বিশ্বাস তার মধ্যে পোক্ত হয়ে যায় তাহলে আর তেলাওয়াতে পেরেশানি আসবে না। আলস্য চেপে ধরবে না। আমলের ক্ষেত্রে আর উদাসিনতা কাজ করবে না। এটাও আর হবে না যে, সময়ের অভাবে তাসবীহ পুরা হলো না বা জিকির করা গেলো না। 

যে যেই ব্যবসা করে তার তা জানা থাকে যে, কারখানায় আমার মাল তৈরি হচ্ছে। এক পিস মাল তৈরি হলে আমার ১০ টাকা আয়ের বন্দোবস্ত হবে। তাহলে সে আর কারখানা বন্ধ রাখবে না। মেশিন যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে প্রয়োজনে মধ্যরাত পর্যন্ত কষ্ট করে হলেও মেশিন ঠিক করবে সে। যেন পরের দিনটা তার বেকার না যায়। জর-ঠণ্ডা-অসুস্থতা যা-ই কিছু হোক না কেন, শত কষ্ট হলেও সে কাজ থেকে বিরত থাকবে না। বলবে, জর হয়েছে তো কী হয়েছে? এটা তো নিতান্ত সাধারণ ব্যাপার। ওষুধ খেলেই ঠিক হয়ে যাবে। শরীর ব্যথা হলে সে দরকার হলে একটার জায়গায় তিনটা ব্যথানাশক ওষুধ খাবে। তবু সে চাইবে, মেশিন যেন কোনো অবস্থাতেই বন্ধ না থাকে। কারণ একদিন মেশিন বন্ধ থাকলে তার দশ হাজার টাকার লস হবে। এভাবে দুইদিন বন্ধ থাকলে ২০ হাজার, তিনদিনে ৩০ হাজার টাকা তার লস হয়ে যাবে। এ হিসাব সে করতেই থাকবে।

উপরে এই যে অনিচ্ছা ও উদাসিনতার কথা বললাম। কখনো কখনো এমন হয় যে, তেলাওয়াত করতে ইচ্ছা করছে না। এটা আসলে কেন? কারণ মূলত আখেরাতের সওয়াব ও বিনিময়ের ব্যাপারে এবং আল্লাহর কৃত ওয়াদার ওপর আমার পূর্ণ আস্থা ও বি্বোস তৈরি হয়নি, ফলে এমনটি হচ্ছে। অথচ দুনিয়াতে ধোঁকার সামগ্রীর প্রতি আমাদের এত পরিমাণ বিশ্বাস জন্মে গেছে এবং তাদের ওয়াদার প্রতি আমাদের এত বেশি আস্থা ও ভরসা তৈরি হয়েছে যে, আমি তো বলি বে-দীনী কাজ কারবারকারীগণ যে স্টক এক্সচেঞ্জ বা শেয়ার ব্যবসায় লিপ্ত হয়, কীসের ওপর তারা বাজি ধরে? ঘরের সামানপত্র বিক্রি করে এরা শেয়ার রাখে। চিন্তা করেন, শেয়ার রাখার জন্য সে তার ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করে দিচ্ছে! কেন? এই আশায় যে, আমার নাম্বার এসে গেলে আমি এত এত টাকার মালিক হয়ে যাবো। অথচ এই শেয়ার এবং জুয়া এসব পূর্ণ বে-দীনী এবং বে-ঈমানী কাজ। সম্পূর্ণ ধোঁকা এবং প্রতারণা ছাড়া এখানে আর কিছুই নেই। অথচ তবু মানুষ এর ওপরই ভরসা করে। চোরের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে।

তিন চোর যাচ্ছিল। হঠাৎ জানতে পারল যে, কোথাও থেকে এক লাখ টাকা পাওয়া যাবে। পথিমধ্যে আরেক চোরের সঙ্গে দেখা হলো, তো জিজ্ঞেস করল, তুমিও যাবে আমাদের সঙ্গে? সে বলল, হ্যাঁ, যাবো। তাকেও নিয়ে নিল এটা ভেবে যে, চার জনে প্রত্যেকে ২৫ হাজার করে নিয়ে নেবে। এই অনিশ্চিত বস্তুর লোভে তারা তাদের জীবনকে হুমকির সম্মুখীন করে দিল। অথচ টাকা পাবে কিনা তা আদৌ নিশ্চিত নয়। কিন্তু তবু বি্বোস আছে যে, কিছু হয়তো পাওয়া যাবে। তাই জীবন নয় শুধু; বরং সবকিছুকেই তারা ঝুঁকির মুখে ফেলে দিল। পক্ষান্তরে আমাদের রব আল্লাহ তায়ালা যে ওয়াদা আমাদের সঙ্গে করেছেন, তা শতভাগ বিশ্বাসসযোগ্য ও নিশ্চিত উপকারী বিষয়। কিছুতেই তার ব্যত্যয় হতে পারে না। কিন্তু আল্লাহ প্রেমের কেমন দাবি আমরা করি এবং তাঁর সত্তা ও কথার ওপর আমরা কেমন বিশ্বাস লালন করি যে, জান্নাতের আলোচনা করা হচ্ছে কিন্তু আমাদের তাতে বিশ্বাস হচ্ছে না। আজকাল তো দুইটা ইংরেজি শব্দ শিখতে পারলেই মানুষজন বলতে আরম্ভ করে যে, এই জিনিস আবার কোথায় হবে? মানুষ শোনে যে, জান্নাত এমন হবে, অমন হবে। তাতে সোনা-রূপা, মণি-মুক্তার দেয়াল-মেঝে হবে। কাদা হবে মেশকের তৈরি। আরো এটা হবে-ওটা হবে। তো ওসব মুসলমানগণ এগুলো শুনে বলে যে, ‘বর্তমানে এসব কোনো কাজের কথা নয়।’ আমরা তাহলে কীসের মুসলমান! এগুলো কেমন বোকার মতো কথা! বোকার মতো তো নয়; বরং অন্যায় ও অযোগ্যতার কথা!

ঈমান ও ইহতেসাব, আখেরাতের কল্পনা, আল্লাহর ওয়াদা এবং সেই সঙ্গে তাঁর ধমকের প্রতিও যদি শতভাগ আস্থা ও বি্বোস থাকে তাহলে মানুষ গুনাহ করতে পারবে? দোকান খুলে বসে আছে। তো হঠাৎ এক মাস্তান সদৃশ লোক এসে হুমকি দিল, খবরদার! দোকান আমার কব্জায় দিয়ে দে এবং কাল ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দিবি। নয়তো একদম গুলি করে দেবো। দোকানদার বেচারা তখন কী করবে? দোকান বন্ধ করে দেবে। না হয় কখন কী হয়ে যায় তা তো বলার জো নেই। এমনিভাবে আল্লাহ তয়ালা গুনাহের ব্যাপারে যে ধমক এবং শাস্তির ভয় দেখিয়েছেন, তার ওপর যদি বিশ্বাস এসে যায়, তাহলে কেউ আর গুনাহ করবে না। বরং গুনাহের সাহসও করতে পারবে না। কারো অন্তরে যদি এই এক্বিন ও বিশ্বাস স্থাপিত হয় যে, হারাম সম্পদ দ্বারা লালিত শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না, তাহলে কী সে আর হারাম সম্পদ ভক্ষণ করতে পারবে? যদি তাকে এ কথা জানানো হয় যে, সামান্য হারাম খাবার খেলে কেয়ামতের দিন তার বিনিময়ে ৭০০ মাকবুল নামাজ দিয়ে দিতে হবে! ৭০০ মাকবুল নামাজ! আছে কারো আমলনামায়? সারা জীবনের সব আমলনামা দিয়ে দিতে হবে যদি কেউ হারাম খাবার খায়।

এসবের ওপর যদি এক্বিন হয়ে যায় কারো এবং ঈমান ও ইহতেসাব চলে আসে তাহলে কী সে আর গুনাহে লিপ্ত হবে? নাকি আর হারাম খাবে? উত্তরাধিকার সম্পদ থেকে বোনকে বিরত করবে? স্ত্রীকে দেনমোহর দিতে গড়িমসি করবে? কাউকে কষ্ট দেবে বা কাউকে অপদস্থ করতে চাইবে? তাকে যদি জানানো হয় যে, কেউ কারো দোষ গোপন করলে আল্লাহ তার দোষ গোপন করবেন। আর কারো দোষ প্রকাশ করে দিলে আল্লাহ হাশরের দিন তাকে লজ্জিত করবেন। এ এক্বিন যার হৃদয়ে বসে যাবে সে কী আর কাউকে লাঞ্চিত-অপদস্থ করবে? নাকি পারবে সে কারো সম্মানহানি করতে? (চলবে...)

সংগ্রহ : নুসরাত জাহান

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে