Alexa প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধির এক অতুলনীয় আলোচনা (পর্ব-৮)

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৩ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৯ ১৪২৬,   ২০ জ্বিলকদ ১৪৪০

সূরা ফাতেহা

প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধির এক অতুলনীয় আলোচনা (পর্ব-৮)

মাওলানা কালিম সিদ্দিকি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:১৫ ২৪ জুন ২০১৯   আপডেট: ২১:১৯ ২৪ জুন ২০১৯

সূরা আল ফাতেহা (সংগৃহীত)

সূরা আল ফাতেহা (সংগৃহীত)

আল্লাহ যখন এ দরখাস্ত লিখিয়েছেন এবং আমাদের শিখিয়েও দিয়েছেন, তখন কেমন যেনো তা মঞ্জুর করার নিমিত্তেই আমাদের শিখিয়েছেন। এ দরখাস্তের প্রতিটি শব্দ ও বাক্যই আমাদের জন্য একেকটি বিস্ময়। উপরন্তু তাতে আমাদের গোটা জীবন শুধরে নেয়ার পথ ও পদ্ধতি বাতলে দেয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন>>> সূরা ফাতেহা প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধির এক অতুলনীয় আলোচনা (পর্ব-৭)

পূর্বে প্রকাশের পর থেকে...

আল্লাহর বড়ত্বের স্বীকৃতি ও আত্মবিলুপ্তি: সূরা ফাতেহার প্রথম বাক্যটিই হচ্ছে, আল-হামদু লিল্লাহি রব্বিল আ’লামীন। তথা যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার, যিনি গোটা জগতসমূহের প্রতিপালক। এ বাক্যটিতে আল্লাহর প্রশংসা ও বড়ত্বের স্বীকৃতির সঙ্গে সঙ্গে নিজের তুচ্ছতা, হীনতা এবং আল্লাহ ব্যতীত আর সকল কিছুর অক্ষমতা ও অসারতার ঘোষণা ও স্বীকারোক্তি শেখানো হয়েছে। এমনকি এ কথার একিন ও বিশ্বাসও অন্তরে স্থাপন করে দেয়া হয়েছে। মানুষ যখন নামাজের প্রতি রাকাতে বারংবার আল্লাহর সামনে দরখাস্ত পেশ করে আর বলতে থাকে, যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর, যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর, যিনি গোটা জগতসমূহের প্রতিপালক। তখন তার অন্তরে আল্লাহর প্রশংসা, বড়ত্ব এবং রবের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিস্থাপিত হতে থাকে। আর সেইসঙ্গে আল্লাহ ছাড়া আর কারো দ্বারা যে কিছুই হয় না এ বিশ্বাস হৃদয়ে গেড়ে বসতে থাকে।

গোটা জগতসমূহের প্রতিপালক: সর্বোপরি রাব্বুল আ’লামীন তথা গোটা জগতসমূহের রব ও প্রতিপালক বলে বলে বান্দার চিন্তাশক্তিতে আনা হয়েছে ব্যাপক বিস্তৃতি। ভাবনার জগতকে বলা হয়েছে উদার ও বিশ্বজনীন করতে। তিনি এমন প্রভু, যিনি তোমাদের লালন পালন করেন। কোনো একজন মানুষ, একটা গোষ্ঠী, একটা জাতি বা একটা এলাকার শুধু রব নন তিনি। কেবল এই দৃশ্যমান দুনিয়ার কিংবা কোনো একটা মাত্র মাখলুকের প্রভু নন তিনি। বরং আল্লাহ হচ্ছেন রব্বুল আ’লামীন। সমস্ত জগতের রব। এভাবেই আমাদের চিন্তা ও ফিকিরের মধ্যে বিশ্বজনীন ব্যাপ্তি ও বিস্তৃতি তৈরি করা হয়েছে।

প্রশংসার ঢং ও নমুনা: আল-হামদু লিল্লাহি রব্বিল আ’লামীন এর পর দরখাস্তের দ্বিতীয় যে বাক্যটি আমাদের শেখানো হয়েছে সেটি হচ্ছে, আর-রহমানুর রহিম। এখানেও আল্লাহর বড়ত্ব, প্রশংসা এবং স্তুতির বর্ণনা এসেছে। অসাধারণ এ দরখাস্তটি শুধু মঞ্জুর হওয়া পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নয়; বরং চির সত্যবাদী নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের সুসংবাদ দিয়েছেন যে, এর প্রতিটি বাক্যের আলাদা আলাদা উত্তর দেয়া হয়। ঈমানদার ব্যক্তি যখনই আল-হামদু লিল্লাহি রব্বিল আ’লামিন পড়ে তৎক্ষণাৎ তার জবাব চলে আসে। এমন নয় যে, পুরো দরখাস্ত তোমরা পেশ করলে পরে আমি তা মঞ্জুর করব। বরং দরখাস্তের যে বাক্যটিই আপনি পড়বেন, সে বাক্যেরই জবাব পেতে থাকবেন। তো দ্বিতীয় যে বাক্যটি আমাদেরকে শেখানো হয়েছে সেটি হচ্ছে, আর-রহমানুর রহিম। অর্থাৎ হে আল্লাহ, আপনার সত্তা সর্ব উঁচু এবং নেহায়েত দয়ালু। পরম করুণাময় এবং অসীম দয়ালু। ‘রহমান’ এর মানে হচ্ছে, যিনি দুনিয়াতেও রহমকারী এবং আখেরাতেও রহমকারী। আর ‘রহিম’ এর মানে হচ্ছে, যিনি আখেরাতে রহমকারী সত্তা। 

সুতরাং রহমান হচ্ছেন যিনি দুনিয়ায় মুসলিম এবং কাফের উভয়ের ওপরই দয়াবান। অর্থাৎ রহমানের গুণটি ব্যাপক। প্রতিটি ব্যক্তির ওপরই যার দয়ামায়া ও রহমতের ব্যাপ্তি বিস্তৃত। চাই সে কাফের হোক কিংবা মুসলমান, প্রতিটি মুহূর্তে ও প্রতিটি সময়ে তার ওপর যিনি অসীম দয়াবান তিনিই রহমান। পক্ষান্তরে রহিম হচ্ছেন, যিনি আখেরাতে দয়াবান। আখেরাতে কেবল ঈমানদারের ওপরই রহমত হবে; অন্য কারো ওপর নয়। তো, এই যে রহমান ও রহিম গুণটি বারবার স্মরণ ও উচ্চারণ করানো হচ্ছে তার পেছনে রহস্য কী? রহস্য হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালার যাবতীয় গুণ ও বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্য হতে রহমান ও রহিম এমন দুটি বিশেষ গুণ যা তাঁর অন্য সমস্ত গুণকে বেষ্টন ও আয়ত্তকারী। এজন্যই কোরআনে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন, ‘আর আমার রহমত সমস্ত কিছুকে বেষ্টন করে আছে।’ (সূরা আল-আ’রাফ: ১৫৬।) কাজেই এ গুণ দুটিকে বারংবার উল্লেখ ও স্মরণ করানোর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, বড়ত্বের বর্ণনা করে কিছু চাওয়া।

বড়ত্বের বর্ণনা দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে চাহিদা পেশ করা: আমরা আল্লাহ পাকের রহমতের মুখাপেক্ষী। সুতরাং আল্লাহর বড়ত্বের বর্ণনা দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, নিজের চাহিদা পেশ করা এবং আবেদনপত্র দাখিল করা। আমি ইতোপূর্বে বলেছিলাম যে, আমাদের এখানে যদি কোনো নেতা বা মন্ত্রী মহোদয় এসে হাজির হন। তাহলে এখানকার প্রজারা বা স্থানীয় লোকেরা প্রথমে বলবে, স্যার! আপনি ওমুক জায়গার এমপি বা মন্ত্রী থাকাকালীন সেখানকার বিদ্যুত ব্যবস্থার বেশ উন্নয়ন ঘটেছে। সেখানে আপনি যতদিন ছিলেন, রাস্তাঘাটের ট্রাফিক সিস্টেম অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করে দিয়েছেন। আপনার কল্যাণে সেখানকার যাবতীয় ব্যবস্থাপনা একদম সুষ্ঠু ও সুচারুরূপে পরিচালিত হয়েছে। এখানে যে বিষয়ের প্রশংসা তারা করছে, কেমন যেনো এর মাধ্যমে তারা তাদের এ বিষয়ক চাহিদাও ব্যক্ত করছে। তেমনি সূরা ফাতেহার মাধ্যমেও আমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে তাঁর রহমত ও দয়ার প্রত্যাশা করছি।

প্রেমিকের মধ্যে তার প্রেমাস্পদের গুণ স্থানান্তরিত হয়: দ্বিতীয়ত: আল্লাহ হচ্ছেন আমাদের প্রেমাস্পদ। নিয়ম হলো, মানুষ যখন তার প্রেমাস্পদের কোনো গুণের কথা বারবার আলোচনা করতে থাকে তখন সে গুণটি ওই প্রেমিকের ভেতরেও এসে পড়ে। কাজেই আমরা যখন আমাদের রবের ‘রহমত’ গুণটির উল্লেখ ও আলোচনা বারংবার করছি, তখন তাঁর এ গুণটি আমাদের ভেতরেও স্থানান্তরিত হয়ে যাচ্ছে। এভাবেই নামাজের মধ্যে সূরা ফাতেহা পুন: পুন: তেলাওয়াতের ফলে আল্লাহ তায়ালার রহমান ও রহিম এর গুণ দুটি আমাদের মধ্যেও চলে আসবে। যতো বেশি আমরা আর-রহমানুর রহিম, আর-রহমানুর রহিম তেলাওয়াত করব, ততো বেশি আমাদের মধ্যে দয়া মায়া ও স্নেহশীলতা আসতে থাকবে। তাছাড়া আল্লাহর নবী (সা.) ও আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা আল্লাহর চরিত্রে চরিত্রবান হও।’ অর্থাৎ আল্লাহর গুণাবলী নিজেদের ভেতরেও তৈরি করো। আল্লাহর চরিত্রগুলো নিজেদের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করতে থাকো। কাজেই আমাদের ভেতরে এ গুণগুলো ধারণ করা অতি আবশ্যক।

রহমান ও রহিম এ দুটি গুণ উল্লেখের পেছনে একটি হেকমত এটিও যে, এ উম্মতকে মূলত দাঈ তথা দীন ইসলামের প্রচারক রূপে পাঠানো হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্যেই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দিবে ও অন্যায় কাজে বাধা দান করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে।’ (সূরা আলে-ইমরান: ১১০)। এই আয়াতের দ্বারা এ উম্মতের দাঈ হবার বিষয়টি আরো শক্তিশালী রূপে সাব্যস্ত হয়। আর দাওয়াত তথা দ্বীন প্রচারের এ কাজ ততক্ষণ পর্যন্ত যথাযথ আদায় করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত উম্মত রহমান ও রহিম গুণে গুণাম্বিত না হবে। যতক্ষণ না তার ভেতরে দয়া-মায়া ও স্নেহশীলতা পইপই করে ঢোকানো হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার পক্ষে দাওয়াতের হক আদায় করা সম্ভব নয়। যে যতো বেশি রহমান ও রহিম গুণে গুণাম্বিত হতে পারবে, সে ততো বেশি দাওয়াতের হক আদায় করতে পারবে।

হজরত নবী (আ.)-গণ আল্লাহ তায়ালার বিশেষ রহমত এবং রহমান গুণের অনন্য অধিকারী ছিলেন। বিশেষত আমাদের নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)। যিনি আমাদের প্রধান মাপকাঠি। তিনি নামাজের প্রতি রাকাতে আর-রহমানুর রহিম পড়ে পড়ে আমাদের স্নেহ, রহমত ও দয়াপরবশ হওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়ে গেছেন। আমাদের আদর্শরূপে গড়ে ওঠার এটি একটি উত্তম ব্যবস্থাপনা। দাওয়াত তথা দ্বীন প্রচারের জন্য সর্বাধিক জরুরি ‘রহমত’ গুণটির প্রয়োজন, আমরা যেনো তার অধিকারী হতে পারি, সেটিরও পথ তিনি বাতলে দিয়ে গেছেন।

নবী (আ.) এর মধ্যে আরো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ গুণ ছিলো: হজরত নবী (আ.) এর মধ্যে এই গুণটি আরো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ছিলো। ইরশাদ হচ্ছে, ‘আর আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সূরা আল-আমবিয়া: ১০৭)। হজরত নবী (আ.) রহমান ও রহিম গুণের এমন অনন্য আধার ছিলেন যে, তিনি গোটা জগতসমূহের জন্য রহমত হয়ে গেছেন। রাসূল (সা.) এর পুরো জীবনের দিকে যদি দৃষ্টি দিই, তাহলে প্রতিটি মুহূর্ত এবং সর্ব অবস্থাতেই তাঁর দয়া ও স্নেহশীলতার বিচ্ছুরণ চোখে পড়ে। প্রতিটি ক্ষণে প্রতিটি ব্যক্তির সঙ্গেই তাঁর কোমল আচরণ! এমনকি দুশমনের সঙ্গেও তিনি কতোটা মায়া ও মমতাপূর্ণ আচরণ করেছেন! আপনি যদি সে সময়ের আলোকে হজরত রাসূলে পাক (সা.) এর পূর্ণ জীবনচরিত পড়তে আরম্ভ করেন, তাহলে তাঁর সঙ্গে আপনার এক অন্তরঙ্গ ভালোবাসা তৈরি হবে। কাজেই রাসূলের (সা.) সিরাতকে আমাদের সে সময়ের আলোকে পড়া চাই।

একবার রাসূল (সা.) খুৎবা দিয়েছেন। আর কয়েকবার তিনি ঘোষণা করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো সম্পদ রেখে মারা যাবে, তা তার পরিবারের হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি কোনো ঋণ বা কর্জ রেখে মারা যাবে, সেটি পরিশোধের দায়িত্ব তবে আমার।’ রাসূল (সা.) বলেন, আমি মুমিনদের আমার জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। এজন্যেই তিনি জুমার খুৎবায় ঘোষণা দিলেন যে, যে ব্যক্তি মৃত্যুর সময় কোনো সম্পদ রেখে যাবে, তা তার উত্তরাধিকারীদের মালিকানায় চলে যাবে। আর যে ব্যক্তি কোনো ঋণ বা লস রেখে মৃত্যু বরণ করবে, মুহাম্মাদ (সা.) তার ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব নেবে। রাসূল (সা.) বলেন, আমি আদায় করে দেব তার ঋণ বা লসের অর্থ। চিন্তা করে দেখেন, কী পরিমাণ মায়ার আধার তিনি! কোথায় ছিল না তাঁর এ মায়া!

ধর্মের রুসম-রেওয়াজেই সীমাবদ্ধ আমাদের জীবন: মক্কার লোকেরা যখন আল্লাহর নবী (সা.)-কে নিজের ঘর থেকেই তাড়িয়ে দিলো এবং বদর যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিলো এক প্রকার, তিনি তখন মদিনায় তাশরিফ নিলেন। মদিনায় গিয়েও তাঁকে নিশ্চিন্তে থাকতে দিলো না তারা, সেখানে গিয়েও হামলা চালালো। বদরের চিত্র রূপ নিলো এক যুদ্ধের ইতিহাসে। কাফেরদের নির্মম হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হলো। মক্কা থেকে এক হাজার কাফেরের একটি সশস্ত্র ও প্রশিক্ষিত বাহিনী এলো যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে। অথচ তাদের ওপর কিনা বিজয়ী হয়ে গেলো মাত্র ৩১৩ জনের একটি ক্ষুদে দল। মুসলমানদের বিজয় হলো এবং তাদের হাতে শত্রুবাহিনীর অনেক লোক বন্দি হয়ে গেলো। সেসময় মসজিদে নববীই ছিলো সমস্ত কিছুর কেন্দ্র। কারাগার বলি আর পার্লামেন্ট সব কিছুই হতো মসজিদে নববীতে। আমরা আসলে সীরাতকে রাসূলের (সা.) আদর্শ রূপে পাঠ করি না; বরং দ্বীনের কিছু রুসম-রেওয়াজের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছি আমাদের জীবনটাকে। যে বিষয়গুলো আমাদের স্বার্থ, রুসম ও প্রচলিত ধারার সঙ্গে মিলে যায়, আমরা কেবল সেগুলোই মেনে চলি। চাই তার বিনিময়ে যত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতই ছুটে যাক না কেন। (চলবে...)

সংগ্রহ: নুসরাত জাহান

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে