ঢাকা, শনিবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ১০ ১৪২৫,   ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০

প্রাণ জুড়ানো শীতলপাটি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ১৭:০৭ ১১ জুলাই ২০১৮  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

 

গরমে স্বস্তি খুঁজতে থাকে কতই না আয়োজন। নানা আয়োজনের এক অন্যতম অনুসঙ্গ শীতলপাটি। তাই গরম বাড়লে বাড়বে এর কদর; এটাই তো স্বাভাবিক।

নিয়ম মেনেই বেড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের শীতলপাটির কদর। শুধু শীতলতার পরশে নয় লোকজ এই ঐতিহ্য ধারণ করে গায়ে হলুদসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আভিজাত্য হিসেবে দেখা হয় শীতলপাটিকে। তবে বিভিন্ন কারণে এই পাটির ব্যাপক ব্যবহার এখন আর নেই।

এর পরও কিছু মানুষ নাড়ির টানের মতো ধরে রেখেছেন এই পাটি বোনা। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা কলোনীপাড়া গ্রামে গেলে দেখা মিলবে এই পাটিবোনার কাজ। ওই গ্রামের অনেক নারী শীতলপাটি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। পরিবারের অভিজ্ঞ ব্যক্তিরাই শীতল পাটি বোনেন। একটি বড় সাধরণ পাটি ৯০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া মাঝারি ও ছোট আকারের শীতলপাটিও আছে। এগুলো নকশা ডিজাইন ও মাপ অনুযায়ী বিভিন্ন দামে বিক্রি হয়।

কলোনী পাড়া গ্রামের রোকাসানা বেগম বলেন, আগে পাটি বানানোর পর বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে হতো। এখন লোকজন এসে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়।

কলোনীপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, এই গ্রামের অনেক নারী পাটি বোনার কাজ করেন। নিজেদের বোনা পাটি বিক্রি করেই তারা জীবিকা চালায়। গ্রামের আব্দুল সবুর মিয়া বলেন, তিনি ও তার স্ত্রী মিলে পাটি বুনে সংসার চালান। তবে পাটি বোনার মোর্তাক গাছ পর্যাপ্ত পরিমাণ না থাকায় এই পেশা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

ওই গ্রামের কলেজ পড়–য়া মেয়ে আয়েশা, রোজিনা, বিলকিস ও সুমি বলেন, ‘পড়াশুনা পাশাপাশি অবসর সময়ে সবাই মিলে পাটি তৈরির কাজ করি। এতে পড়াশোনার খরচ ও নিজের চলার মত যতেষ্ট অর্থ উপার্জন হয়।

পাটি কিনতে আসা হামিদুল ইসলাম বলেন, গরমে তোশকের উপর শীতলপাটি বিছিয়ে শুলে আরামে ঘুমানো যায়। নিজের ও মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো জন্য কিনতে আসলাম।

সমাজসেবক রজব আলী বলেন, সরকারি সহায়তা পেলে, শীতল পাটি তৈরি করে আর্থিক স্বাবলম্বী হতে পারেন অনেকেই। টিকে থাকবে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর