Exim Bank
ঢাকা, বুধবার ২৫ এপ্রিল, ২০১৮
Advertisement
বিজ্ঞাপন দিন      

প্রাণের ভাষায় বাঙালি পৌঁছে যাক সারা বিশ্বে

 রহমান মৃধা/রতন ভট্টাচার্য ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:২০, ১৩ এপ্রিল ২০১৮

আপডেট: ০৭:২০, ১৪ এপ্রিল ২০১৮

২৭৯ বার পঠিত

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বাংলা আমাদের প্রিয় মাতৃভাষা। এই ভাষা রক্ষার জন্য মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। বাংলা ভাষায় কথা বলেন এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন। কিন্তু শুদ্ধ বানানে কত মানুষ এই ভাষা লিখতে পারেন? বানান নিয়ে অনেক পণ্ডিতের রয়েছে নানা পরামর্শও।

ভাষা হচ্ছে বহতা নদীর মত। এর মুখে বাধ দিয়ে দিলে তা হ্রদে পরিনত হবে, বহমানতা থাকবে না। বাংলা ভাষা সংস্কৃতের গর্ভ থেকে উৎপত্তি হয়ে বহু বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে বর্তমান পর্যায়ে এসেছে।

ভাষা বিজ্ঞানী ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ(১৮৮৫-১৯৬৯) বলেছেন, ‘পাঁচ কোটি বাঙালির অধিকাংশই বানান ভুল করে। ’
তার আমল থেকে এখন পৃথিবীতে বাঙালির সংখ্যা বেড়েছে অনেক। বর্তমানে বাঙালি পৃথিবীর মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী (প্রথম চীনা, দ্বিতীয় আরব)। বাঙালির সংখ্যা বর্তমান বিশ্বে ৩০০ মিলিয়ন হলেও কিন্তু তারা তাদের ভাষার শব্দগুলোর বানান সম্পর্কে এখনো একমত হতে পারেনি।

ইংরেজি ভাষার বর্ণমালা মাত্র ২৬ টা। তাই দিয়ে ইংরেজিতে সব কিছু লেখা যায়। সেই তুলনায় বাংলা ভাষার বর্ণমালা বেশ বড়। স্বরবর্ণ ১১ টা , ব্যঞ্জনবর্ণ ৩৯ টা, মোট ৫০ টা। এর পর আছে কার চিহ্ন, যুক্তবর্ণ ইত্যাদি নানা বিষয়।

বাঙালিরা এখনো ভাষার লিখিত রুপ বা বানান নিয়ে বিভ্রান্ত। ই,ঈ, হ্রস্ব-ইকার, দীর্ঘ-ঈ-কার উ,ঊ, হ্রস্ব-উ-কার,দীর্ঘ-ঊ-কার, ন,ণ, স,শ,ষ, জ,য ইত্যাদি বর্ণ, কার চিহ্ন নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ে বহু মানুষ।অনেকে বানান ভুলের আশঙ্কায় বাংলা লেখেন না। অনেকে ইংরেজি হরফে বাংলা ভাষা লিখে মনের ভাব প্রকাশ করেন। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ও বাংলা ভাষাকে গণমানুষের ভাষা হিসেবে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠা করার জন্য বাংলা ভাষার লৈখিক রূপের কিছু পরিবর্তন এখন সময়ের দাবী।

বাংলাভাষা লেখ্য রূপ যদি বাঙালিদের কাছেই স্বাচ্ছন্দপূর্ণ না হয় তাহলে বিদেশীদের কাছে তা কী ভাবে জনপ্রিয়তা পাবে? স,শ,ষ এর যে কোনো একটা, ই,ঈ এর মধ্যে যে কোনো একটা, হ্রস্ব-ইকার, দীর্ঘ-ঈ-কার এর মধ্যে যে কোনো একটা উ,ঊ এর যে কোন একটা, হ্রস্ব-উ-কার,দীর্ঘ-ঊ-কার এর যে কোন একটা, ন,ণ, এর যে কোন একটা, স,শ,ষ এর মধ্যে যে কোনো একটা, জ,য এর মধ্যে একটা, ত, ৎ এর মধ্যে একটা হলে কী ক্ষতি?

একটু উদার দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে আমরা নিশ্চিত ভাবে বাংলা ভাষাকে আরও সহজভাবে লেখার ব্যবস্থা করতে পারি বৈকি।
ভাষার লিখিত রূপ সহজ সরল করতে পারলে জাতিকে সহজে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হবে, ব্যবসা, বানিজ্যসহ সকল বিষয়ে যোগাযোগ সহজতর হবে।

নিচের দু`টো বাক্য লক্ষ্য করুন:
১। বাঙালি একটি মহান জাতি।
২। বাঙালিরা জাতি দিয়ে সুপারি কাটে।
উপরের বাক্য দু`টোতে " জাতি" শব্দটা একই বানানে দুটো ভিন্ন অর্থ বহন করে।" যাতি" এর স্থলে " জাতি" দৃষ্টিকটু হলেও বুঝতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না কিন্তু।
আসুন আমরা উদার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভাষার লিখিত রূপ সংস্কারের জন্য উন্মুক্ত আলোচনার আযোজন করি, বাঙালির প্রাণের ভাষায় বাঙালি পৌছে যাক বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে স্বচ্ছন্দে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। এর দায় ভার পুরোপুরি লেখকের। ডেইলি বাংলাদেশ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

লেখক: রহমান মৃধা, পরিচালক ও পরামর্শক গ্লোবাল ফার্মাসিউটিক্যালস, সুইডেন ও রতন ভট্টাচার্য, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, রাজশাহী।

সর্বাধিক পঠিত