ঢাকা, শুক্রবার   ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ৯ ১৪২৫,   ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪০

প্রাচীণ রোমান সাম্রাজ্যের গ্রন্থাগার আবিষ্কৃত হলো জার্মানিতে

মেহেদী হাসান শান্ত

 প্রকাশিত: ১২:৪০ ১০ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ১২:৪০ ১০ আগস্ট ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সম্প্রতি প্রত্নতাত্ত্বিকরা আবিষ্কার করলেন জার্মানির ইতিহাসের প্রাচীণতম গ্রন্থাগার। ধারণা করা হচ্ছে এটি রোম সাম্রাজ্যের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের সবচেয়ে পুরাতন গণ গ্রন্থাগার ছিলো। 

সেই গ্রন্থাগারটির দেয়ালের নমুনা থেকে জানা যায়, প্রায় কুড়ি হাজারের ওপর বই সংরক্ষিত ছিলো সেখানে! কলোনে শহরের মাঝামাঝি জায়গায় গ্রন্থাগারটি এতদিন মাটির নিচে চাপা পড়ে ছিলো। রোমানরা ৫০ খ্রিষ্টাব্দে এ শহরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলো। 

জার্মানি তখন ‘জার্মানিয়া’ নামে রোমান সাম্রাজ্যের একটি অঙ্গরাজ্য ছিলো। প্রত্নতাত্ত্বিকরা ধারণা করছেন খ্রিষ্টীয় দ্বিতীয় শতকের মাঝামাঝি সময়ে লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিলো। উল্লেখ্য ওই সময়কালেই রোমানরা বিখ্যাত ইফিসাস লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠা করে (১১৭ খ্রিষ্টাব্দ)। ইফিসাস লাইব্রেরিটির অবস্থান আধুনিক তুরস্কে। 

একটি কমিউনিটি সেন্টারের নির্মাণকালে মাটি খুঁড়ে ওই নতুন আবিষ্কৃত লাইব্রেরিটির দেয়াল পাওয়া যায়। ইউরোপে স্থাপনা নির্মাণকালে পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনের খোঁজ পাওয়া বেশ সাধারণ একটি ব্যাপার। শুরুতে প্রত্নতাত্ত্বিকরা ধারণা করেন, লাইব্রেরিটি ৬৫ ফুট লম্বা ও ৩০ ফুট চওড়া। তারা ভেবেছিলেন এটি একটি কমিউনিটি হল। 

কিন্তু তারা ভেবে পাচ্ছিলেন দেয়ালে এত তাক খোদাই করা ছিলো কি জন্যে! দেয়ালের তাকগুলো ছিলো বেশ ছোট ছোট। এবং তাতে মাঝে মাঝে স্থাপিত ছিলো বেশ কিছু ভাস্কর্য। মনে হচ্ছিলো দেয়ালজুড়ে যেনো খোদাই করা ছিলো একটি আলমারি। পরে একটু গবেষণা করে পাওয়া গেলো, এই দেয়ালগুলোর সাথে ইফিসাসের দেয়ালগুলোর বেশ মিল রয়েছে। 

প্রাচীণ যুগে অক্ষরজ্ঞান্সম্পন্ন লোকের হার কত ছিলো তা বের করা বেস কঠিন কাজই বটে। তাই কত লোক কলোনে ওই লাইব্রেরিটি ব্যবহার করত, সে কথা হিসেব করে বলার সুযোগ আপাতত নেই। আসলে এসব লাইব্রেরিকে ‘পাবলিক’ মনে করাও বিতর্কমূলক। 

ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার একজন অধ্যাপক কিথ ডিক্স এর মতে, এ লাইব্রেরিগুলো জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিলো- এমনটা ভাবার কারণ নেই। এমনও হতে পারে এগুলো ছিলো প্রাচীণ রোমের গুণী লেখক সাহিত্যিকদের সংযোগস্থল। উল্লেখ্য, প্রাচীণ রোমে লেখকদের প্রথম শ্রেণীর নাগরিকের মর্যাদা দেয়া হতো। 

যাই হোক, লাইব্রেরিটির আবিষ্কার নতুন কমিউনিটি সেন্টারটির নির্মাণকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে নি। শুধু লাইব্রেরিটির নির্মাণ পরিকল্পনায় সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। আবিষ্কৃত লাইব্রেরির জায়গায় একটি পারকিং লট তৈরির পরিকল্পনা ছিলো। এখন আর সেটা হচ্ছে না। সেখানে স্বচ্ছ গ্লাস দেয়া হবে যেনো মানুষ তার উপর থেকে প্রাচীণ রোমের এই অনন্য নিদর্শন দেখতে পারে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/টিএএস