প্রস্তুত সোহরাওয়ার্দী, অপেক্ষা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২০ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৭ ১৪২৬,   ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

প্রস্তুত সোহরাওয়ার্দী, অপেক্ষা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

 প্রকাশিত: ১৩:০৭ ২১ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ১৩:৫৫ ২১ জুলাই ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। উন্নয়ন ও অর্জনও কম নয়। মহাকাশ জয়, সমুদ্র সীমা জয়, পদ্মাসেতু দৃশ্যমান, মেট্রোরেলের যুগে প্রবেশ, ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন ধরনের অ্যাওয়ার্ড অর্জন এবং সবশেষ জাতিগত নিধনের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে সফলভাবে আশ্রয় দেয়াসহ অসাধারণ সব সাফল্য আসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। 

এতসব অর্জনে সামান্য একটু সম্মাননা জানানো কি একেবারেই বেমানান? নিশ্চয় নয়। তাই রাষ্ট্র ও সরকারের এসব সাফল্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মান জানাতে প্রস্তুত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সময়ের ব্যবধানে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। ক্ষণের অপেক্ষা এখন পুরো সোহরাওয়ার্দী জুড়ে। পুরো দেশও সেই ক্ষণের অপেক্ষায়। এই সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান (রেসকোর্স ময়দান)। এমনই ক্ষণের অপেক্ষা ছিল ৭১ এর ৭ মার্চ। আসবেন বঙ্গবন্ধু। চারিদিকে “জয়বাংলা” স্লোগানে মুখরিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। জাতির মুক্তিবার্তা নিয়ে উপস্থিত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে আসে স্বাধীনতা। আর সেই স্বাধীন জাতিকে স্বনির্ভর করে তুলছেন তারই কন্যা শেখ হাসিনা। সেই সোহরাওয়ার্দী এখন তার অপেক্ষায়। 

পুরো উদ্যানকে সাজানো হয়েছে নানা রং-বেরংয়ের পতাকা, প্ল্যকার্ড, ফেস্টুন-ব্যানার আর বড় বড় বেলুনে। চারিদিকে উৎসব মুখর পরিবেশ। শুধু উদ্যানই নয়, আশপাশের এলাকায়ও লাগানো হয়েছে দলীয় ও সরকার পরিচালনায় আওয়ামী লীগের নানা সাফল্যের খণ্ড খণ্ড চিত্র। নগরী যেন উন্নয়নে ভরা “একখণ্ড বাংলাদেশ”।

বিকেল ৩টা। সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। আসবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রস্তুত মঞ্চ। দলে দলে আসছেন নেতাকর্মী- সমর্থকরা। অপেক্ষায় সবাই। যোগ দিয়েছেন নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। চলছে “জয়বাংলা” স্লোগান। স্লোগানে স্লোগানে কম্পিত হচ্ছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। ভরে গেছে মাঠ।  

সম্প্রতি ভারতের কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রি অর্জন, মহাকাশে সফলভাবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট পাঠানো, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড অর্জন এবং বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত। সবই হয়েছে শেখ হাসিনার হাত ধরে।

তাই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ গণসংবর্ধনাকে স্মরণীয় করে রাখতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এ জন্য সংবর্ধনাস্থলকে সাজানো হয়েছে নান্দনিকভাবে। ইংরেজী বর্ণ এল (L) আকৃতিতে বিশাল প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে ৩০ হাজার চেয়ার বসানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে সংবর্ধনাস্থলে যে সড়ক দিয়ে আসবেন সে সড়কগুলোতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও অর্জনের ছবি সংবলিত পোস্টার-ফেস্টুন লাগানো হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে করা হয়েছে আলোক সজ্জা। মৎস্য ভবনের সামনে গণসংবর্ধনাস্থলের প্রবেশমুখে তৈরি করা হয়েছে বিশাল একটি তোরণ।

দেশ বরেণ্য চিত্রশিল্পী হাশেম খানের তত্ত্বাবধানে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৬টি ছবি নিয়ে আয়োজন করা হবে চিত্র প্রদর্শনীর। এতে তার ছবিসহ আছে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে লেখা বইসমূহ। এছাড়া প্রদর্শনীতিতে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও বঙ্গবন্ধুর কারাগারের রোজ নামচা বই দু’টিও রাখা হয়েছে।

সংবর্ধনায় রাজধানী ঢাকাসহ আশেপাশের জেলার নেতাকর্মীরা যোগদান করছেন। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও আছেন সংবর্ধনায়।

বিকেল ৩টা বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্বলিত ৩০ মিনিটের একটি পরিবেশনা থাকবে সংবর্ধনায়। আর মঞ্চে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে