Exim Bank
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৯ জুন, ২০১৮
Advertisement

প্রস্তুত শোলাকিয়া

 কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:১৩, ১৩ জুন ২০১৮

আপডেট: ১৮:৪৬, ১৩ জুন ২০১৮

১৪৫ বার পঠিত

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বছর ঘুরে আবার সামনে ঈদুল ফিতর।  ২০১৬ সালে ঈদুল ফিতরে জঙ্গি হামলার পরও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত।  

তাই এবারও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চলছে ঈদ জামাতের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।  এবার অনুষ্ঠিত হবে ১৯১তম ঈদুল ফিতরের জামাত।  প্রতিবছরের মতো এবারও জামাত শুরু হবে সকাল ১০টায়।  জামাতে ইমামতি করবেন ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদউদ্দিন মাসউদ। 

পূর্বের সকল দুঃসহ ক্ষত ভুলে এবারও দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত আয়োজনের তোড়জোড় চলছে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানে।  ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও পৌরসভা শোলাকিয়ার জামাতকে সফল করতে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।  জামাতের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো দেখতে ডিসিসহ র‌্যাব-পুলিশ ও বিজিবির কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ।

এরই মধ্যে মাঠে দাগ কাটা, বালু ফেলা, দেয়ালে রং করাসহ শোলাকিয়া ময়দানকে জামাতের উপযোগী করার কাজ শেষ হয়েছে।  মুসল্লিদের চলাফেরা নির্বিঘ্ন করতে কিশোরগঞ্জ পৌরসভা নির্মাণ করেছে কয়েকটি নতুন রাস্তা ও একটি সেতু।  সংস্কার করা হয়েছে ওজুখানা এবং টয়লেট।  চলছে শহরের শোভাবর্ধনের কাজও।  প্রস্তুত রাখা হয়েছে বহু সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক ও কয়েকটি মেডিক্যাল টিম।  দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য শোলাকিয়া স্পেশাল নামে দুটি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থাও করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

 অন্যদিকে শোলাকিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত এক মাস ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।  এবারও শোলাকিয়ায় লাখো মানুষের ঢল নামবে বলে আশা করছে স্থানীয়রা। 

স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, এ মাঠে নিরাপত্তা বরাবরই সুন্দর ও সুশৃংখল।  আমরা স্থানীয় মুসুল্লিরা এবারও এ মাঠেই ঈদের নামাজ আদায় করব।  এখানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ঈদুল ফিতরের নামাজে অংশগ্রহণ করেন।  বিগত দিনেও বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে এ মাঠে লাখো মুসল্লির নামাজ আদায় করেছেন।  আশা করছি এ বছরও আবহাওয়া অনুকূলে থাকুক বা না থাকুক ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করতে লাখো মুসুল্লির ঢল নামবে শোলাকিয়ায়।  

শোলাকিয়া ঈদগাহ মসজিদের ইমাম আব্দুস সালাম গোলাপ জানান, এলাকাবাসী দেশবাসীসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসুল্লিগণ এ মাঠে নামাজ আদায় করতে আসেন।  এ মাঠে লাখ লাখ মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ আদায় করেন।  আশা করব এবারও এ মাঠে সর্ববৃহৎ ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। 

কিশোরগঞ্জ পৌরসভা মেয়র মো. পারভেজ মিয়া জানান, এবার শোলাকিয়া ঈদগাহে ১৯১ তম ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।  এ উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।  মুসল্লিদের যাতায়াতে ঈদগাহ মাঠের সকল মাটির রাস্তা পাকা করা হয়েছে।  আশপাশের সকল রাস্তা ভেঙ্গে নতুন করে তৈরি করা হয়েছে।  ঈদের আগের রাতে যে সকল মুসল্লি মাঠে থাকবেন তাদের জন্য সেহেরি ও ইফতারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

  

এসপি মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ নিরাপত্তার ব্যাপারে বলেন, এবার ঈদুল ফিতরের জামাত উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা বলয় থাকবে।  পাঁচ প্লাটুন বিজিবি, বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব, আনসার সদস্যের ছাড়াও নজরদারি করবে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।  এ উপলক্ষে এবারই প্রথম ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন ক্যামেরা।  দুটি ড্রোন সার্বক্ষনিক মাঠের উপরে ও চারপাশের তথ্য তুলে ধরবে।  এছাড়াও শহরসহ মাঠের প্রবেশ পথগুলোতে থাকছে সিসি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার।  নামাজ শুরুর আগে পুরো মাঠ তল্লাশি করা হবে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে।  শোলাকিয়া মাঠ ও শহরের যত অলিগলি আছে, সবখানে বসানো হবে নিরাপত্তা চৌকি। 

জেলা প্রশাসক ও ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, ঈদ জামাত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে এরইমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি প্রায় শেষের পথে।   নিরাপত্তার দিক বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।  আশা করছি প্রতি বছরের ন্যায় এবারও একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও বৃহৎ ঈদ জামাত শোলাকিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। 

রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরুর আগে শর্টগানের ৬টি ফাঁকা গুলি ছোড়া হবে।  জামাত শুরুর ৫ মিনিট আগে ৩টি, ৩ মিনিট আগে ২টি এবং ১ মিনিট আগে ১টি গুলি ছুড়ে নামাজের জন্য মুসল্লিদের সঙ্কেত দেয়া হবে। 

জনশ্রতি আছে, ১৮২৮ সালে এই মাঠে ঈদের জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ আদায় করেছিলেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া’। যা এখন শোলাকিয়া নামেই পরিচিত।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম

সর্বাধিক পঠিত