Alexa প্রবাহমান খালে স্থায়ী বাঁধ, ভোগান্তি চরমে

ঢাকা, সোমবার   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০,   ফাল্গুন ১১ ১৪২৬,   ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

প্রবাহমান খালে স্থায়ী বাঁধ, ভোগান্তি চরমে

শামীম আহমেদ, বরিশাল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৩১ ২৬ জানুয়ারি ২০২০  

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি ‍বাংলাদেশ

বরিশালের বাকেরগঞ্জে জনগুরুত্বপূর্ণ প্রবাহমান ভাড়ানি খালের সুন্দরকাঠি বাজারসংলগ্ন স্থানে প্রায় একশ ফুট জায়গায় স্থায়ীভাবে দুইদিক দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। স্রোতের কারণে খালের দুই পাশ ভেঙে যাওয়ার অজুহাতে বড় বড় গাছের খুঁটি পুঁতে ও বালুর বস্তা-কনক্রিট ফেলে নির্মিত হয়েছে এ বাঁধ। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী জহির মোল্লা ও তার সহযোগীরা স্থায়ী এ বাঁধ নির্মাণ করায় গত একমাস ধরে তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, এ বাঁধের কারণে নলুয়া, ফরিদপুর ও দুধল ইউপির ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। তারা কলসকাঠী, কালীগঞ্জ, বোয়ালীয়াসহ কয়েকটি হাট-বাজারে যেতে দীর্ঘদিন থেকে ভাড়ানি খাল ব্যবহার করছিলেন। গত একমাস ধরে খালে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করায় বর্তমানে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরত্ব ঘুরে বিকল্প পথ দিয়ে ওইসব হাট-বাজারে আসা-যাওয়া করছেন। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি খরচও দ্বিগুন গুনতে হচ্ছে। যার প্রভাব পরছে খুচরা বাজারের ক্রেতাদের ওপর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কিছু না জানিয়েই স্রোতের কারণে খালের দুই পাশ ভেঙে যাওয়ার খোঁড়া অজুহাতে জনগুরুত্বপূর্ণ ভাড়ানি খালে এ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। ওই খালের সুবিধাভোগী ফরিদপুর ইউপির একাধিক ব্যবসায়ীরা বলেন, দীর্ঘদিনের সরকারি এ খালের মধ্যে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি কিভাবে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করে পুরো খাল বন্ধ করে দিয়েছেন, তা আমাদের বোধগ্যম নয়।

দুধল ইউপি চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোর্শেদ খান উজ্জল জানান, আগে এ খাল দিয়ে তার ইউপিতে মালামাল বহনে সুবিধা হতো। এখন বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হয়। এতে স্থানীয়দের খরচ ও ভোগান্তি, দুইটিই বেড়েছে। সরকারি খালে স্থায়ী বাঁধ দিয়ে বন্ধ করার বিষয়ে তিনি বলেন, খালে বাঁধ দেয়ার আইনত কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।

এছাড়া এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জহির মোল্লা বলেন, ভাঙনের হাত থেকে গ্রামবাসীকে রক্ষা করতেই এ বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এলাকাবাসী না চাইলে বাঁধটি অপসারণ করা হবে। 

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রবহমান কোনো খালে বাঁধ বা ভরাট করা যাবে না। গত কয়েকদিন পূর্বে খালে বাঁধ দেয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। বিষয়টি ডিসিকে অবহিত করা হয়েছে। তার নির্দেশনা পেলে খালের প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত বাঁধ অপসারণ করা হবে। 

বরিশাল পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক আব্দুল হালিম বলেন, প্রবাহমান কোনো খাল বা নদীতে বাঁধ দেয়ার সুযোগ নেই। আর এ বিষয়টি আমরা সাংবাদিকদের মাধ্যমে অবগত হয়েছি। তাই এ ব্যাপারে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

এছাড়া বরিশালের ডিসি এসএম অজিয়র রহমান বলেন, খালে স্থায়ী বাঁধ দেয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। তাই বিষয়টির খোঁজ-খবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাকেরগঞ্জের ইউএনওকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর