Alexa প্রধান বিচারপতির আর কাজে ফেরার সুযোগ নেই: খসরু

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৮ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৪ ১৪২৬,   ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪০

প্রধান বিচারপতির আর কাজে ফেরার সুযোগ নেই: খসরু

 প্রকাশিত: ১৯:৫৭ ২০ অক্টোবর ২০১৭  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার কাজে আর ফিরতে পারবেন না বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সম্পর্কিত সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুল মতিন খসরু।

খসরু বলেন, বিচারক যদি কখনও বিতর্কিত হন, দুর্নীতির অভিযোগ থাকে, ওনার সাথে সাথে পদত্যাগ করতে হয়। অন্যান্য বিচারপতিদের কাছে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বলেছেন, উনি রিজাইন করবেন। রিজাইন করার পরিবর্তে উনি একটা স্টেটমেন্ট দিয়ে চলে গেলেন … আবার এসে চেয়ারে বসতে চাচ্ছেন। অন্য বিচারপতিরা বলেছেন, আমরা ওনার সাথে আর বসবো না। ওনার আসার আর সুযোগ নাই। আমার মনে হয় এটা সুদূরপরাহত”।

বৃহস্পতিবার রাতে চ্যানেল আই টেলিভিশনে প্রচারিত ‘বিবিসি প্রবাহ’ অনুষ্ঠানে খসরু এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো, প্রধান বিচারপতির ছুটিকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্ক কতটা প্রভাব ফেলবে বিচার ব্যবস্থা ও রাজনীতিতে? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সুনিদিষ্ট দুর্নীতির কোনো বক্তব্য আসলে সেটা রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সুপ্রিম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউন্সিল পাঠাতে পারতেন। সুপ্রিম কোর্ট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউন্সিল পার্লামেন্ট দ্বারা গঠিত হয় আইন। সুপ্রিম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউন্সিল বর্তমান বিদ্যমান নেই, আইন হয়নি এখনো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আব্দুল মতিন খসরু বলেন, প্রধান বিচারপতি বিদেশ যাবার সময় যে চিঠিটা দিয়ে গেছেন, এই চিঠিটা বিতর্কিত। অসুস্থতার কারণে ১৩ অক্টোবর তারিখ থেকে নভেম্বরের ১ তারিখ পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি ৩০ দিনের জন্য ছুটির আবেদন করেন। সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার ছুটির আবেদনে বলেন, আমি বেশ কিছু দিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছি, এমনটি বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি বিদেশ যাবার আগে বলে গেছেন যে তিনি সুস্থ আছেন, এই সম্পর্কে আব্দুল মতিন খসরুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে যে চিঠিটা দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সেটা বিশ্বাস করবো নাকি বিচারপতি যে বিদেশ যাবার আগে বলে গেলেন আমি সুস্থ তা বিশ্বাস করবো। তবে প্রধান বিচারপতি যে দীর্ঘ দিন ধরে ক্যান্সার রোগের জন্যে সিঙ্গাপুরে ছিলেন এটা সকলের জানা। বিচারপতি অসুস্থ এটা আমরা যেমন জানি, তেমনি সকলের জানা। তবে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো এসেছে মাহামান্য রাষ্ট্রপতি বাকি ৫ জন বিচার পতির কাছে দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি নিজেই বিতর্কিত হয়ে গেছেন, নিজেই এই বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন।

আব্দুল মতিন খসরুর কাছে প্রশ্ন ছিল, এই মুহূর্তে প্রধান বিচারপতির বিষয় নিয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউন্সিলকে ব্যবহার করা হয়নি কেন? জবাবে তিনি বলেন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউন্সিল বর্তমানে বিদ্যমান নেই।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পরেই প্রধান বিচারপতি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউন্সিলেম মাধ্যমে বৈঠক করেছেন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউন্সিল যদি বহাল না থাকে তবে কিভাবে সেখানে প্রধান বিচারপতি বৈঠক করেছেন? জবাবে আব্দুল মতিন খসরু বলেন, ষোড়শ সংশোধনি রায়ের সাথে প্রধান বিচারপতির কোনো সম্পর্ক নেই, এই কথাগুলো কেউ কেউ বানিয়ে বলছে। ষোড়শ সংশোধনিতে শুধু প্রধান বিচারপতি একা রায় দেননি এখানে আরো ৬ জন বিচারপতি ছিলেন।

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যে ১১টি অভিযোগ উঠেছে, যদি কোনো অভিযোগ থেকে থাকে তাহলে যেই ব্যক্তি হোক না কেন শীর্ষ পর্যায়ে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার বিধান রয়েছে এর আগে বাংলাদেশের দেখা গেছে, সেখানে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হলো না কেন? জবাবে আব্দুল মতিন খসরু বলেন, ব্যবস্থা নেয়া হবে, তার সময় এখনো আছে, সেটা প্রক্রিয়াধীন আছে। এখানে সরকারের কোন ভূমিকাই নেই কারণ সুপ্রিম কোর্ট আর সরকার এক না এই বিষয়টি প্রধান বিচারপতি ভালভাবেই জানেন। এখানে সরকারের কেন ভূমিকা থাকবে এটা সুপ্রিমকোর্টের ব্যাপার, প্রধান বিচারপতি তিনি তার নিজের বিরুদ্ধে নিজেই বিতর্কিত করে তুলেছেন সেজন্যে বাকি বিচারপতিরা বলেছেন যিনি বিতর্কিত তার সাথে অবিতর্কিত মাননীয় বাকি বিচারপতিরা বসতে পারেন না এই বিষয়টি পরিষ্কার। প্রধান বিচারপতি যাবার সময় যে চিঠিটা দিয়ে গেছেন তা আগের চিঠির সাথে কোনো মিল নেই, তিনি বললেন আমি সুস্থ যাবার সময় বলে গেলেন অসুস্থ।

ষোড়শ সংশোধনী রায় সরকারের পক্ষে যায়নি বলেই বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণে আনতেই সরকার প্রধান বিচারপতির সাথে এমন করছে বলে বিরোধীদল এমনটি অভিযোগ করছে? জবাবে আব্দুল মতিন খসরু বলেন, বিরোধীদল তো এখন আর অন্য কিছু পাচ্ছে না তাই এই ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে চাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সরকারের ভাবমূর্তি থেকে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি অনেক বড়, বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি সমগ্র জাতির সম্পদ। বিচার বিভাগের বিচারকদের কোন অস্ত্র নেই, অর্থ নেই তাদের ভাবমূর্তিই বড়। বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের যে বিশ্বাস, আস্থা এবং শ্রদ্ধা যেটাই বিচার বিভাগের একটা ভাবমূর্তির কারণেই ন্যায় বিচার করেন। আর ন্যায় বিচারক যদি কখনো বিতর্কিত হন, দুর্নীতির অভিযোগ থাকে তাহলে বিচারপতিকে সাথে সাথে বয়কট করতে হয়। অন্যান্য বিচারপতির কাছে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বলেছেন যে তিনি পদত্যাগ করবেন। এর পরে তিনি পদত্যাগ করার পরিবর্তে যাবার সময় তিনি বলে গেলেন আমি আবার ফিরে আসবো পালিয়ে যাচ্ছি না।

আব্দুল মতিন খসরু বলেন, তিনি পালিয়ে যাচ্ছেন এটা কে বললো, এই কথা প্রধান বিচারপতি কেন বলেছেন তিনিই জানেন। প্রধানবিচারপতি বলছেন তিনি আবার এসে চেয়ারে বসবেন, অন্য বিচারপতিরা বলছেন প্রধান বিচারপতির সাথে আর বসবেন না। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই