Alexa প্রথম সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিং হোক

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ১৪ ১৪২৬,   ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

প্রথম সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিং হোক

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২৮ ১০ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রথম সমাবর্তনে রেজিস্ট্রেশন করেছেন ২ হাজার ৮৮৭ গ্রাজুয়েট। স্নাতক পর্যায়ে ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত এবং স্নাতকোত্তরে প্রথম ব্যাচ থেকে ষষ্ঠ ব্যাচ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। এই হিসেবে স্নাতক পর্যায়ে ১২২২ জন এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে ১৬৬৫ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন। ২৭ জানুয়ারি এই সমাবর্তন হবে।

এরইমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় আচার্য রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট মো. আবদুল হামিদ এতে উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও সমাবর্তনের সাংস্কৃতিক অংশে ব্যান্ডদল নগর বাউলের উপস্থিতির কথা রয়েছে।

সমাবর্তন আয়োজনের জন্য প্রস্তুতি কমিটির অধীনে ২৪টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন উপ-কমিটি ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যবর্ধন, সমাবর্তনের লোগো চূড়ান্তকরণ, বিভিন্ন ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন, গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থার কাজ করছেন। সমাবর্তনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের জন্য এরই মধ্যে উপহার সামগ্রী হিসেবে ব্যাগ, সমাবর্তনের গাউন (ফেরতযোগ্য), ক্যাপ, টাই, মগ, কলম, সুভ্যিনিয়র দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এই ঐতিহাসিক সমাবর্তন নিয়ে অংশগ্রহনকারীরা আবেগ, অনুভূতি প্রকাশ করছেন। সফল সমাবর্তন আয়োজনে পরামর্শ দিয়েছেন অনেকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় ব্যাচের লোক প্রশাসন বিভাগের ছাত্র আরিফুর রহমান মজুমদার জানান, প্রথম যেকোন কিছুর অনুভূতিই অন্যরকম। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিকের ছাত্র হিসেবে ঐতিহাসিক প্রথম সমাবর্তনে অংশ নিতে পেরে আমি অত্যন্ত রোমাঞ্চিত ও আনন্দিত।

মার্কেটিং বিভাগের ৩য় ব্যাচের মোহাম্মদ মোস্তাক আহাম্মদের ভাষায়- ‘কথা ছিল মাসে অন্তত একবার দেখা হবেই। বন্ধু, ভাবিস না, রোজ ফোনে কথা হবে।’কথা রাখা আর হয়নি। কাজের চাপে কোথায় যেন হারিয়ে গেছে সব আবেগ। 

মার্কেটিং বিভাগের ৫ম ব্যাচের মো. রিয়াদ শাহরিয়ার রিয়াজ বলেন- উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী স্যারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমাদের প্রথম সমাবর্তন। তাই প্রত্যকের মধ্যে অনেক উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে। যদি সমাবর্তনে কোনো অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা দেখা দেয়, তাহলে এই উৎসাহ উদ্দীপনা প্রবল-ক্ষোভে পরিণত হতে পারে। 

মো. আবদুল কাদের, বাংলা বিভাগের ৬ষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে সমাবর্তন পাওয়াটা এক গুরুত্বপূর্ণ  প্রাপ্তি  আর সেটা যদি হয় প্রথম সমাবর্তন তাহলে তো কোন কথাই নাই। এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে স্মৃতি বিজড়িত দিনগুলো হৃদয়ে নাড়া দেয়। প্রথম সমাবর্তন হিসেবে শত সীমাবদ্ধতার পরও আমাদের আনন্দের অপূর্ণতা থাকবেনা, আশাকরি। সুষ্ঠু, সুন্দর, সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রেখে জীবনের এই বিশেষ দিনটি স্মৃতির পাতায় জায়গা করে নিতে পারি, সেই প্রত্যাশা কামনা করি।

অর্থনীতি বিভাগের ৬ষ্ঠ ব্যাচের মহিউদ্দিন মাহিন বলেন-এখনই একটা উৎসবের জোয়ার বইছে। মনে হচ্ছে, কিছুদিন পর ঈদ আসবে। তাছাড়া আরো ভালো লাগতেছে। এটা আমাদের প্রথম সমাবর্তন। অনেকদিন হলো ক্যাম্পাস থেকে আসলাম। সমাবর্তনের সুবাদে আবার লালমাটির সবুজ ক্যাম্পাসের ঘ্রাণ নিতে পারবো।

ইংরেজি ৭ম ব্যাচের মাজহারুল ইসলাম হানিফ বলেন, কুবির প্রথম সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে। ১৩ বছর পর আমরা সমাবর্তন পাচ্ছি। তা নিঃসন্দেহে আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের। 

প্রিয় লালমাটির ক্যাম্পাসে উৎসবে মেতে ওঠা, পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের, ছোট-বড় ভাইবোন, বন্ধুদের আবারো একই ছাদের নিচে ফিরে পাওয়া, সনদপত্র, গাউন, ক্যাপ পড়া- সবই জীবনের সেরা অর্জনের তালিকায় থাকবে। একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আমার প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণতা পাবে, এটাও একটা বড় অর্জন। সর্বোপরি, প্রথম সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিং হোক। প্রত্যাশা করি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম