Alexa প্রথম কেবলা মসজিদুল আকসা

ঢাকা, সোমবার   ২৬ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ১১ ১৪২৬,   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

প্রথম কেবলা মসজিদুল আকসা

 প্রকাশিত: ১৩:৫৮ ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭  

ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ এবং প্রথম কেবলা ‘মসজিদুল আকসা বা বাইতুল মুকাদ্দাস’ সুপ্রাচীন শহর জেরুজালেমে অবস্থিত।

মহানবী (সা:) মক্কার মসজিদুল হারাম, মদিনার মসজিদুন্নববী ও মসজিদুল আকসার উদ্দেশে সফরকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, যা অন্য কোনো মসজিদ সম্পর্কে করেননি। এর গুরুত্ব সম্পর্কে মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা:) বলেছেন, ঘরে নামাজ পড়লে এক গুণ, মসজিদে ২৫ গুণ, মসজিদে নববী ও আকসায় ৫০ হাজার গুণ, মসজিদে হারামে এক লাখ গুণ সাওয়াব।’ (ইবনে মাজাহ)।

ইসলামের পবিত্রতম অন্যতম পবিত্রতম স্থান বাইতুল মুকাদ্দাস বা মসজিদ আল-আকসাসহ অসংখ্য নবি-রাসুলদের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক জেরুজালেম শহর বর্তমানে অভিশপ্ত ইয়াহুদিরা অবৈধভাবে দখল করে আছে। যার চত্ত্বরে আজো অসংখ্য নবি-রাসুলের সমাধি বিদ্যমান। মসজিদে আকসার প্রতিষ্ঠার ইতিহাস অনেকরই অজানা। যারা তা জানে না তাদের জন্যই এ সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা-

বাইতুল মুকাদ্দাসের প্রতিষ্ঠা
মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম (আ:) কর্তৃক পবিত্র কাবা ঘর নির্মাণের ৪০ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর তার নাতি বনি ইসরাইলের প্রথম নবি হজরত ইয়াকুব (আ:) ঐতিহাসিক প্রসিদ্ধ শহর জেরুজালেমে মসজিদ আল-আকসা নির্মাণ করেন। অতঃপর হজরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম জিন জাতির মাধ্যমে এ পবিত্র মসজিদ পুনঃনির্মাণ করেন।

ইসলামের আগমনের পর প্রিয়নবি (সা:) এর ইন্তেকালের কয়েক বছর পর ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে মুসলমানদের অধীনে আসে। ইসলামের প্রাথমিক যুগে এ মসজিদটি কিছু দিনের জন্য মুসলমানদের কেবলা হিসেবে ব্যবহার হয়েছিল।

ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের ষড়যন্ত্র
১৫ জুলাই ১০৯৯ সাল। ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য এক বেদনাদায়ক দিন। সে দিন অযোগ্য মুসলিম শাসকদের ছত্রছায়ায় খ্রিস্টান ক্রুসেডার বাহিনী সমগ্র সিরিয়া ও ফিলিস্তিন দখল করে। এর পরই ঘটতে থাকে হৃদয় বিদারক অসংখ্য ঘটনা। যা ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য বড়ই বেদনাদায়ক।

এ খ্রিস্টানরা ১০৯৯ সালের ৭ জুন প্রথমে জেরুজালেমে অবস্থিত ‘বায়তুল মুকাদ্দাস তথা মসজিদ আল-আকসা’ অবরোধ করে এবং ১৫ জুলাই মসজিদের ভেতর প্রবেশ করে ব্যাপক পরিবর্তন করে। অতঃপর এ পবিত্র মসজিদে তারা তাদের উপাসনালয় গির্জায় পরিণত করে।

বায়তুল মুকাদ্দাস পুনরুদ্ধার
২৩ মার্চ ১১৬৯ খ্রিস্টাব্দ। ফাতেমীয় খেলাফতের রাজত্বকালে খলিফার নিদের্শে সেনাপতি হজরত সালাহউদ্দিন আইয়ুবি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি গভর্নর ও সেনাপ্রধান হয়ে মিসরে আগমন করেন।

২০ সেপ্টেম্বর ১১৮৭ খ্রিস্টাব্দে রক্তক্ষয়ী সমরাভিযানের মাধ্যমে তিনি মসজিদ আল-আকসাসহ পুরো ঐতিহাসিক জেরুজালেম নগরী মুসলমানদের অধিকারে নিয়ে আসেন।

২ অক্টোবর ১১৮৭ খ্রিস্টাব্দে সেনাপতি ও গভর্নর সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীবেশে বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করেন। সালাহউদ্দিন আইয়ুবি কর্তৃক বায়তুল মুকাদ্দাস মুক্ত হওয়ার পর জেরুজালেমে দীর্ঘ প্রায় এক শতাব্দিব্যাপী মুসলমানরা খ্রিস্টানদের অত্যাচার থেকে মুক্ত ছিল।

দীর্ঘকাল ধরে মুসলমানরা খ্রিস্টানদের সঙ্গে লড়াই করে এ মসজিদের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে। সবশেষে শুরু হয়েছে ইয়াহুদি আগ্রাসন। যার ফলে আজ মসজিদ আল-আকসা মুসলমানদের হাতছাড়া এবং ইয়াহুদিদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ও অবরুদ্ধ।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

Best Electronics
Best Electronics