ঢাকা, শনিবার   ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯,   ফাল্গুন ১০ ১৪২৫,   ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪০

প্রথমবারের মতো ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ

 প্রকাশিত: ০২:৪৫ ১২ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ০৩:১৬ ১২ জুলাই ২০১৮

ছবি : ফিফা

ছবি : ফিফা

নতুন এক ইতিহাস লিখলো ক্রোয়েশিয়া। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে এলেন লুকা মড্রিচ-রাকিতিচদের সোনালি প্রজন্ম।

সেমি ফাইনালের মতো বড় ম্যাচে শুরুতেই হয়তো চাপ নিতে পারেনি ক্রোয়েটরা। তবে সময় যতই গড়িয়েছে ততই খোলস থেকে বের হয়ে এসেছে তারা।

ক্রোয়েশিয়া

প্রথমার্ধ যদি হয়ে থাকে ইংল্যান্ডের তবে দ্বিতীয়ার্ধ ক্রোয়েটদের। ম্যাচের ৫মিনিটেই পিছিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া। তবে দুর্ভাগ্যই বলতে হবে তাদের। ইংল্যান্ডের চেয়ে গোলবারে ভয়ংকর আক্রমণ করলেও শেষ অব্দি নির্ধারিত সময়ে এগিয়ে যাওয়া হয়নি। নির্ধারিত সময়ের সমতায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। 

ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের জন্য হুমকি হতে পারতো রিয়াল মাদ্রিদ তারকা লুকা মড্রিচ ও বার্সেলোনা তারকা ইয়ান রাকিতিচ। সেই হিসেবে পরিকল্পনা ঠিকঠাক বাস্তবায়ন বেশ ভালোভাবেই করছিল তারা।

জয়

ক্রোয়েশিয়ার দুর্দান্ত মাঝমাঠকে প্রথমার্ধে একেবারেই বোতল বন্দি করে রাখলো সাউথগেটের শিস্যরা। আর তার ফলে শুরুতেই ক্রোয়েশিয়াকে দারুণ চাপে ফেলে দেয় ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৪মিনিটে ডি বক্সের সামনে ডেলে আলিকে ফাউল করেন লুকা মড্রিচ। ফলে সেট পিস থেকে বল পেয়ে ফ্রি কিক নেন ত্রিপার। ডি বক্সের সামনে থেকে বেশ বিপদজ্জনক জায়গা থেকে নেয়া ফ্রি কিক দারুণভাবে কাজে লাগান ইংলিশ তারকা। ফলে ম্যাচের ৫মিনিটেই ১-০গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

শুরুতে এগিয়ে গেলেও আক্রমণ চালাতে থাকে ইংল্যান্ড। তারই ধারাবাহিকতায় ম্যাচের ১৫মিনিটে কর্নার কিক থেকে আবারও এগিয়ে যাবার সুযোগ এসেছিল তাদের সামনে। তবে মাগুইরেইর  মাথা ছুঁয়ে বল জালের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে। ম্যাচের ২২মিনিটে ক্রোয়েশিয়ান গোলরক্ষক একেবারে একাই পেয়েছিলেন হ্যারি কেইন। তবে অফসাইডে সংকেতে আটকে যান কেইন। এর কিছুক্ষণ পরে স্টারলিং বাম পাঁশ থেকে দারুণ ক্ষ্রিপ্রতায় বল নিয়ে প্রায় ঢুকেই পড়েছিলেন তবে বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন ডি বক্সের সামান্য আগে।

গোল

৩০মিনিটে আরও একবার দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেন হ্যারি কেইন। যদিও রেফারি অফ সাইডের সংকেত দেখান তদুপুরি গোলবারের সামনে দাঁড়িয়ে পর পর দুইবার শট নিয়েও বল জালে জড়াতে পারেননি। এর এক মিনিট পরেই ক্রোয়েশিয়ান তারকা রেবির দূরপাল্লার শটটি মুঠোবন্দি করেন পিকফোর্ড। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে কাউন্টার এটাকে আসে ইংল্যান্ড।

মাঝমাঠ থেকে হ্যারি কেইন হয়ে বল পান ডেলে আলি। দারুণ দক্ষতায় ফাঁকা জায়গায় বল পান লিঙ্গার্ড। কিন্তু ফিনিশিং এ ভুল করে বসেন। দুর্বলভাবে নেয়া কিকটি জাল বরাবর রাখতে পারলেন না। ফলে বল গোলবারের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে একটি ভুল পাস থেকে বল পেয়েছিলেন রাকিতিচ। কিক নিতে কিছুটা বিলম্ব করায় সে যাত্রায় কোনো সমস্যায় পড়েনি ইংল্যান্ড। এর ফলে ১-০তে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে তারা।

গোল

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছে ক্রোয়েশিয়া। তবে ইংলিশ মাঝমাঠকে অকেজো করে রক্ষণভাগে বড় কোনো চাপ তৈরি করতে পারেনি তারা। উল্টো ৫৬ মিনিটে এগিয়ে যাবার সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে বেশ নিচু দিয়ে আসা বলে মাথা ঠেকানোর চেষ্টা করলেও ক্রোয়েশিয়া নিজেদের নিরাপদ রাখে।

৬২ মিনিটে স্টারলিং একটি সুযোগ তৈরি করেছিলেন বটে। তবে তা যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল না। এর তিন মিনিট পরেই ডি বক্সের বাহির থেকে গোলবারে নেয়া বুলেট গতির শট পারসিকের বুকে লেগে ফিরে আসে। ৬৮মিনিটেই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পেয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। ৬৮ মিনিটে বাম পাশ থেকে ভ্রাসালকোর ক্রসিং এ বেশ উচ্চতায় বল পেয়েছিলেন পেরেসিচ। দারুণ দক্ষতা থেকে বল জালে জড়িয়ে ম্যাচে ফেরান ক্রোয়েশিয়াকে।

জয়

গোলের পরই যেন ক্রোয়েশিয়া আরও উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। ৭২মিনিটে আবারও এগিয়ে যাবার সুযোগ পায় ক্রোয়েশিয়া। দুই দফা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন পেরেসিচ। ৭৩মিনিটে কর্নার কিক থেকে পাওয়া বলে বেশ কিছুক্ষণ আক্রমণ তৈরি চেষ্টা চালায় ক্রোয়েটরা।

শেষ পর্যন্ত ব্রোজভিকের দূরপাল্লার শটটি গোলবারের উপর দিয়ে চলে যায়। ৭৬মিনিটে আক্রমণে আসে ইংল্যান্ড। বাম পাশ থেকে ডেলে আলির বাড়ানো বল সঙ্গীর অভাবে জালের খোঁজ পায়নি। ৮৩ মিনিটে ডি বক্সের ভেতর থেকে নেয়া মান্ডজুকিচের শট আটকে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক। এর এক মিনিট পরেই পেরিসিচের নেয়া শটটিও গোলবারের উপর দিয়ে চলে যায়। এর ফলে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে সমতা থাকায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

ক্রোয়েশিয়া

অতিরিক্ত সময়ে শুরুর আক্রমণ ইংলিশদের থেকেই আসে। ৯৯ মিনিটে কর্নার কিক থেকে মাথা ছুঁয়েছিলেন স্টোন্স। বল জালেই জড়াত। তবে লভরেনেই মাথা ছুঁয়ে রক্ষা পায় ক্রোয়েটরা। ১০৫ মিনিটে আবারও এগিয়ে যাবার সুযোগ আসে ক্রোয়েটদের সামনে। বাম পাশ থেকে পাওয়া বলে গোলরক্ষকের সামনে মান্ডজুকিচ পা ছুঁয়েছিলেনও বটে। তবে পিকফোর্ডের হাঁটুতে লেগে গোলপোস্টের উপর দিয়ে বল চলে যায়।

অবশেষে ভাগ্যের চাকা খুলতে পারলো ক্রোয়েটরা ১০৯ মিনিটে। গোলপোস্টের সামনে বল পেয়েই জালে জড়ান মান্ডজুকিচ। এর ফলে ২-১ গোলে এগিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে ক্রোয়েটরা।

আগামী ১৫তারিখে ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। আর একটি মাত্র ধাপ ক্রোয়েটদের সামনে। আর তাতে সফল হলেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের গায়ে নিজেদের নাম লেখাবে তারা।

ডেইলি বাংলাদেশ, এমএইচ/সালি