Alexa প্রত্যাবাসনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার

ঢাকা, রোববার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৭ ১৪২৬,   ২২ মুহররম ১৪৪১

Akash

প্রত্যাবাসনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:০৯ ২০ আগস্ট ২০১৯  

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে কেন্দ্র করে টেকনাফের শরণার্থী শিবিরে অপপ্রচার চালাচ্ছেন একটি মহল। এর ফলে রোহিঙ্গারা ভয়-ভীতির মধ্যে রয়েছেন। তবে প্রত্যাবাসনকে কেন্দ্র করে শিবিরে র‍্যাব-পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

কক্সবাজার র‍্যাব-১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ বলেন, প্রত্যাবাসনকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা শিবিরে র‍্যাবের টহলদল ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রত্যাবাসন নিয়ে ক্যাম্পে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। 

সোমবার দুপুরে টেকনাফে জাদিমোরা শালবন শিবিরের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের সহকারি শালবন কর্মকর্তা মো. খালেদ হোসেনের কার্যালয়ে একটি বৈঠক হয়। সভায় শিবিরে রোহিঙ্গা চেয়ারম্যান, দলনেতা, ব্লক মাঝিসহ মাস্টার, ইমাম, মুরব্বি, এনজিও কর্মীরা উপস্থিতি ছিলেন।

শিবিরে ঢুকতে কয়েকটি দোকানের সামনে কিছু রোহিঙ্গা একত্রিত হয়ে মোবাইল থেকে একটি অডিও বার্তা শুনতে দেখা গেছে। এটি তিন মিনিটি ৩৯ সেকেন্ডের অডিও ক্লিপ। এছাড়াও নীল, সাদা ও হলুদসহ বিভিন্ন রংঙের একটি লিফলেট দেখা যায় রোহিঙ্গাদের হাতে। প্রত্যাবাসনকারী রোহিঙ্গাদের কি করা হবে সেটা ওই লিফলেটে উল্লেখ রয়েছে।

রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা করিম উল্লাহ বলেন, লিফলেটে লেখা আছে- প্রথমে প্রত্যাবাসনকারী রোহিঙ্গাদের এমবিসি কার্ড নেয়া হবে। আমাদের নিয়ে নাকফুরা শিবিরে রাখা হবে, সেখান থেকে ছয় মাসের জন্য আইডিবি ক্যাম্পে নেয়া হবে বলে উল্লেখ রয়েছে। তাই কোনো রোহিঙ্গা নাগরিকত্ব ও সমঅধিকার নিশ্চিত না হওয়া পযন্ত বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার ফেরত যাবে না। কারণ, মিয়ানমার সরকার মিথ্যাবাদী। তাদের কোনোভাবে বিশ্বাস করা যাচ্ছে না।

শালবন শিবিরের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের সহকারী মো. খালেদ হোসেন বলেন, প্রায় সময় রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। বৈঠকে তাদের বিভিন্ন সমস্যা কথা শুনেছি। বিশেষ করে, প্রত্যাবাসন নিয়ে যাতে ক্যাম্পে গুজব, অপপ্রচারের মাধ্যমে মানুষের মাঝে ভয়-ভীতি সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সর্তক থাকতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার জোর করে কোনো রোহিঙ্গা নাগরিককে মিয়ানমার ফেরত পাঠাবে না, সে বিষয়ে তাদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা দলনেতা বলেন, প্রত্যাবাসন নিয়ে রোহিঙ্গারা উদ্বিগ্ন-তো বটেই, ভয়-ভীতির মধ্যে রয়েছে অনেকে। তবে মঙ্গলবার ‘প্রত্যাবাসন তালিকায় নাম’ থাকা লোকদের স্বাক্ষাৎকার নেয়া হবে। এছাড়াও যে কোনো প্রকার অপপ্রচার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। কোনো রোহিঙ্গাকে জোর করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাবে না বলেও সিআইসি আশ্বাস করেছেন।

কয়েকজন রোহিঙ্গা বলেন, এ শিবিরটি পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় সবসময় ভয় লেগে থাকে। শিবির জুড়ে বিভিন্ন অপপ্রচার চলছে । এখানে রোহিঙ্গাদের মাঝে ভয় কাজ করছে।

শালবন শিবিরের নারী চেয়ারম্যান রমিদা বলেন, রোহিঙ্গাদের মাঝে প্রত্যাবাসন নিয়ে হতাশা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে ক্যাম্পে যাতে কোন ভুল তথ্য প্রচার না করে সেজন্য সর্তক থাকার নির্দেশ দিয়েছে সিআইসি। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য বলা হয়েছে। 

কক্সবাজারের অতিরিক্ত এসপি ইকবাল হোসেন বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে কেন্দ্র করে শিবিরে পুলিশের কড়া নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রত্যাবাসন নিয়ে কোনো ধরনের অপপ্রচারে কান না দেয়ার পাশাপাশি কারা এসব অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস