Alexa প্রতিষ্ঠানের কোনো অফিস নেই, তবে কর্মী সংখ্যা ৯৩০

ঢাকা, শনিবার   ২০ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৫ ১৪২৬,   ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪০

প্রতিষ্ঠানের কোনো অফিস নেই, তবে কর্মী সংখ্যা ৯৩০

ফিচার ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৪৩ ৮ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১১:৪৪ ৮ জুলাই ২০১৯

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

অফিস ছাড়া প্রতিষ্ঠান চালু করার কথা কেউ ভাবতেই পারতেন না একসময়। কিন্তু আস্তে আস্তে সময় পাল্টাচ্ছে। অফিস সংস্কৃতি বাদ দেয়ার রেওয়াজ চালু হতে যাচ্ছে। বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে উঠে আসে এমন এক প্রতিষ্ঠানের কথা, যার কর্মী সংখ্যা ৯৩০ জন। কিন্তু প্রথাগত কোনো অফিস ব্যবহার করছেন না তারা। প্রতিটি কর্মী তাদের নিজের বাড়িতে বা অন্যত্র বসে কাজ করছে।

ওই প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘অটোমেটিক’। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কেট হাস্টন বলেন, আমরা বেশ স্বাধীন জীবনযাপন করছি। অফিস যাওয়ার কোনো চাপ নেই। কাজের জন্য একজনের সঙ্গে আরেকজনের দেখা করার দরকার হলে আমরা একটি জায়গা ঠিক করে দেখা করি। এই অ্যাডভেঞ্চার আমাদের খুবই পছন্দের।

ওই প্রতিষ্ঠানে বিশ্বের নানা জায়গায় কর্মী কর্মরত রয়েছে। তারা সবাই ঘরে বসে কিংবা বাড়ির কাছাকাছি কোথাও অল্প জায়গা ভাড়া করে কাজ করতে বলছে। এমনকি অনেকে কফি শপে বসেও তারা কাজ করে। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটিও রয়েছে সুবিধাজনক অবস্থানে। যেমন অটোম্যাটিক ৭০টি দেশে কাজ করে। সব জায়গাতেই তাদের কর্মী আছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় কোনো অফিস নেই।

অফিস নেই, তাই খরচ হচ্ছে না তা কিন্তু নয়। যারা বাড়িতে থেকেই কাজ করছেন তাদেরকে আসবাবপত্র কেনা টাকা দেয়া হচ্ছে। কফি শপে বসে কাজ করার সময় কফি খাওয়ার বিলও দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্য কোনো জায়গা ভাড়া করার প্রয়োজন হলে তাও দেয়া হচ্ছে। তারপরও স্থায়ী একটি বড় অফিস তৈরির খরচের চেয়ে অনেক কম খরচ হচ্ছে।

কেট হাস্টন বলছেন, এর ফলে সবারই লাভ হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানের অনেক টাকা সাশ্রয় যাচ্ছে। লন্ডন, সান ফ্রান্সিসকো বা নিউইয়র্কের মত শহরে অফিস ভবনের ভাড়া যেভাবে বেড়ে গেছে, তাতে খরচ অনেক বাঁচে। ওই টাকায় আমরা কর্মীদের ভ্রমণে খরচ করছি। যেমন আমার পুরো টিম এ বছর থাইল্যান্ডে গিয়ে মিটিং করেছে।

দূর থেকে কাজ করার বিষয়টি এখন জনপ্রিয় ট্রেন্ড (প্রবণতা) হিসেবে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যের পরিসংখ্যান দফতর অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস লেবার ফোর্স সার্ভের বরাতে জানা গেছে, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ১৫ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরে থেকে তাদের প্রধান কাজ করছে, যা ১০ বছর আগে ছিল ৮ লাখ ৮৪ হাজার।

ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান চালানোর জন্য প্রধান কার্যালয় লাগবে, এ বিষয়টি এখন অনেক কোম্পানিই উড়িয়ে দিচ্ছে। ইন্টারনেট সংযোগের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করা কর্মীরা নিজেদের মধ্যে সংযোগ অনুভব করতে পারেন। যা একাকিত্ব ও বিচ্ছিন্ন হওয়ার অনুভূতি থেকে রক্ষা করতে পারে বলে মনে করেন কেট হাস্টন। সূত্র বিবিসি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে