প্রতিবন্ধীদের সেবায় বইমেলায় ঘুরছে একদল তরুণ

ঢাকা, শুক্রবার   ১০ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৭ ১৪২৬,   ১৬ শা'বান ১৪৪১

Akash

প্রতিবন্ধীদের সেবায় বইমেলায় ঘুরছে একদল তরুণ

সাইফুল ইসলাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:১৩ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৬:১৭ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় এসে প্রতিবছর বিপাকে পড়েন শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীরা। মানুষের চাপাচাপিতে পুরো মেলা তাদের পক্ষে ঘুরে দেখা সম্ভব হয় না। ফলে অনেকটা মন খারাপ করেই ফিরতে হয় তাদের। 

এবার এসব প্রতিবন্ধীদের সেবা দিতে গ্রন্থমেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছে একদল তরুণ। শারীরিক প্রতিবন্ধীদের হুইল চেয়ারে বসিয়ে বইমেলা ঘুরে দেখাচ্ছেন তারা। যারা দেখতে পাচ্ছেন না তাদের কাছে দিচ্ছেন মেলার বর্ণনা। তাদের এই সেবা থেকে বাদ যাচ্ছেনা চলতে অক্ষম প্রবীণেরাও। 

যে সংগঠনটি পক্ষ থেকে তরুণেরা এই সেবা দিচ্ছে তার নাম ‘সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’। সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বছর পঞ্চমবারের মত এ সেবা দেয়া হচ্ছে। এবছর বইমেলার তৃতীয় দিন থেকে শুরু হয়েছে প্রতিবন্ধী সেবা।

সরেজমিনে বই মেলা ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকা, বাংলা একাডেমির গেট এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বইমেলা ফটকের সামনে সুইচ বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবীরা দাঁড়িয়ে থাকেন। এসব জায়গায় কোনো প্রতিবন্ধী মানুষকে আসতে দেখলে তারা তাদেরকে সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিটি রাজি হলে তাকে মেলা ঘুরিয়ে দেখান।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশপ্রতিবন্ধী ও প্রবীণদের সহযোগিতা করতে এখন পর্যন্ত ১৫টি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা রেখেছে সুইচ বাংলাদেশ।

সংগঠনের চেয়ারম্যান ইয়াকুব নবী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যতক্ষণ পর্যন্ত বইমেলা ঘুরে দেখতে চায়, আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে সহযোগিতা দিয়ে থাকি। এ কাজটি আমরা আনন্দের সঙ্গে করি।

এ কাজের অনুপ্রেরণা প্রসঙ্গে ইয়াকুব বলেন, আমি জাপানে থাকি। সেখানকার মানুষ অনেক সহযোগিতা পরায়ণ। সমাজে বয়োবৃদ্ধ যারা আছেন এবং যারা প্রতিবন্ধী তাদের প্রতি জাপানিদের সহযোগিতার মনোভাব আমাকে আকৃষ্ট করে। এই ভালো চর্চাটা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে চাই আমি। মানুষ যত বেশি সহযোগিতা পরায়ণ হবে এবং কৃতজ্ঞ হবে, সমাজে ততটাই বেশি শান্তি আসবে। 

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশইয়াকুব জানান, তার সংগঠনে মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজসহ নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন।

সুইচ বাংলাদেশ থেকে সেবা নেয়া ফাইজ আহমেদ বলেন, আমি এর আগে কখনো বইমেলায় আসিনি ভিড়ের কথা চিন্তা করে। এবার এসেছি ভয়ে ভয়ে। কারণ আমার পায়ে সমস্যা রয়েছে। মেলায় এসেই স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে দেখা হয়। এদের সহযোগিতায় পুরো মেলা খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে ঘুরে দেখতে পেয়েছি। এ আনন্দ আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। এদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

ফাইজকে মেলা ঘুরিয়ে দেখানো স্বেচ্ছাসেবক রাশেদ রানা বলেন, মানুষকে সহযোগিতা করতে ভালো লাগে বলেই এই কাজে যুক্ত হয়েছি। একজন মানুষকে মেলা ঘুরিয়ে দেখানোর পর যে পরিমাণে আত্মতৃপ্তি কাজ করে সেটা আর কোনো কাজে কখনো পাইনি। সুযোগ থাকলে সারা জীবন মানুষকে আমি এমন সেবা দিয়ে যেতে চাই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে/