Alexa প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে পাশ করলেন ওরা ১১ জন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২২ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৭ ১৪২৬,   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে পাশ করলেন ওরা ১১ জন

পাবনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০২:৪৮ ১৮ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ০৩:০২ ১৮ জুলাই ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে পাবনা মানবকল্যাণ ট্রাস্টের আশ্রয়ে থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় পাশ করেছেন ১১জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী।

তারা হলেন- ময়মনসিংহের সুশেল চন্দ ধরের ছেলে চন্দন কুমার ধর, পাবনার ফরিদপুর উপজেলার মোক্তার সরকারের ছেলে মো. হারুনার রশিদ, পাবনার উপজেলার মহেন্দ্রপুর গ্রামের সিদ্দিক হোসেনের ছেলে মো. কাওসার হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তৌরিকুল ইসলামের ছেলে আব্দুল মতিন, তৈয়মুর রহমানের ছেলে আব্দুর সবুর, গোলাম মস্তফার ছেলে আনারুর ইসলাম।

গাজীপুরের গোলজার হোসেনের ছেলে মো. মাহমুদুল হাসান শাউন, নওগাঁর টিপু সুলতানের ছেলে মো. মাহবুব জামান, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জের বাচ্চু মিয়ার ছেলে নাদিম হোসেন, টাঙ্গাইলের কালিহাতী গ্রামের শ্যামল চন্দ্রের ছেলে ভোলানাথ।

এসব দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শ্রুতি লেখকের সহায়তায় পাবনা সরকারি মহিলা কলেজ ও সেন্ট্রাল গার্লস স্কুলকেন্দ্র থেকে এবারের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।

এই ১১ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পাবনা শহরতলীর সিঙ্গা গ্রামের মানবকল্যাণ ট্রাস্টের আশ্রয়ে থেকে লেখাপড়া করে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এর আগে তারা এখান থেকেই জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী যুবকরা জানান, শিক্ষাবোর্ড থেকে শ্রুতি লেখকদের অনুমোদন, রেজিস্ট্রেশন জটিলতা ও বিভিন্ন বোর্ডের ভিন্ন ভিন্ন নীতিমালার কারণে পদে পদে তাদের হয়রানির শিকার হতে হয়। তারপরও থেমে থাকছে না এসব সংগ্রামী দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর শিক্ষাজীবন।

দরিদ্র এসব দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের শারীরিক প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি রয়েছে নানা ধরনের আর্থসামাজিক প্রতিকূলতা। কিন্ত সব বাধা ও প্রতিকূলতাকে জয় করে তারা সোনালি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন। এই ১১ জনের মতো আরো প্রায় ৮০ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পাবনার মানবকল্যাণ ট্রাস্টের আশ্রয়ে থেকে ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখাপড়া করছেন।

এছাড়া এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪ জন পথশিশুকে প্রাথমিক শিক্ষা ও দুজন এমএসহ মোট ১৮৫ জন বিভিন্ন শ্রেণিতে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

মানবকল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল হোসেন জানান, এরা সবাই দরিদ্র ঘরের সন্তান। তাদের ফলাফলও আশানুরূপ হয়েছে। অন্ধদের লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজন ব্রেইল পদ্ধতি। অথচ দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সুযোগ নেই। চোখে না দেখার কারণে তাদের শ্রুতি লেখকের প্রয়োজন পড়ে। আর এসব শ্রুতি লেখকদের সম্মানী দিতে হয় ৮-১০ হাজার টাকা। দরিদ্র এসব অন্ধদের সম্মানী দেয়াতো দূরের কথা লেখাপড়া করাই কষ্টসাধ্য।

অধ্যাপক আবুল হোসেন আরো জানান, মিডিয়ার মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে এই প্রতিষ্ঠানের কথা ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিবন্ধী ছাত্র ক্রমশ: বাড়তে শুরু করেছে। এ প্রতিষ্ঠানে সব ধর্মের প্রতিবন্ধী ছাত্রদের আশ্রয় দিয়ে সম্পূর্ণ বিনাখরচায় তাদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, তার স্বপ্ন ছাত্রদের আবাসনজনিত সংকটের কারণে নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা, একটি ফ্রি চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন এবং অসহায় প্রবীণদের জন্য একটি বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠা করা।

১৯৯৪ সাল থেকে নিজের উদ্যোগে মেধা ও শ্রম দিয়ে প্রতিবন্ধী গোষ্ঠীর জন্য এই অলাভজনক কাজটি করে আসছেন অধ্যাপক আবুল হোসেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর

Best Electronics
Best Electronics