শত প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে পত্রিকা পৌঁছে দেয় মিলন

ঢাকা, বুধবার   ০৮ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৬ ১৪২৬,   ১৫ শা'বান ১৪৪১

Akash

শত প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে পত্রিকা পৌঁছে দেয় মিলন

মেহেদী হাসান, পবিপ্রবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৫৭ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৩:৫৮ ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

ছবিঃ ডেইলি বাংলাদেশ

সাত সকালে দেখা হলেই সালাম আর হাত বাড়িয়ে দেয়। এগিয়ে আসে করমর্দনের জন্য। মুখে হাসি নিয়ে আবছা আবছা ভাষায় জিজ্ঞেস করে, কেমন আছেন? মনে হয়, সবার অতি আপনজন।

কখনো হেঁটে আবার কখনো ভ্যানে করে এলাকার সব অফিস, দোকান, বিদ্যালয়ে সংবাদপত্র ঠিক সময়ে পৌঁছে দেয়াই যেন তার দায়িত্ব। রোদ, কুয়াশা বা বৃষ্টি কোনো কিছুই তাকে আটকিয়ে রাখতে পারে না। হয়ত ঘেমে, না হয় ভিজে ঠিকই পত্রিকা পৌঁছে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে সে পত্রিকা বিলি করে। ২/৩/৪ তলা যেনো কোনো ব্যাপারই না তার কাছে। প্রতিবন্ধকতা তাকে আটকাতে পারেনি। প্রতিবন্ধকতাই মিলনের কাছে এসে থমকে দাঁড়িয়েছে।
 
তিনি কোনো শিক্ষার্থী নয়। তবুও সকাল হলেই পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাবুগঞ্জ ক্যাম্পাসে আসেন। সঙ্গে থাকে পত্রিকা। 

বলছিলাম শারীরিক প্রতিবন্ধী মিলনের কথা। ঠিকমতো হাঁটতে পারে না, কথাটাও স্বাভাবিক না, বান্ডেল থেকে পত্রিকা বের করতেও তার সময় লাগে। 

পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান মিলন। জন্মলগ্ন থেকেই বিকলাঙ্গ ও বাক প্রতিবন্ধী। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাবাকে হারায় মিলন। সংসারের হাল ধরতে মায়ের সঙ্গে কাজ শুরু করে সে। কারো সাহায্য বা অন্যের মুখাপেক্ষী নয় নিজেই কিছু করা শুরু করে। বেছে নেয় সংবাদপত্র বিলি করার পথ।

দিনশেষে কোনো আক্ষেপ বা অভিযোগ নেই। সমস্ত প্রতিবন্ধকতা ঠেলে এগিয়ে যাওয়া এক সৈনিক সে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম