প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মেয়েকে হত্যায় ৩০ লাখ টাকার চুক্তি বাবার

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ২৪ ১৪২৬,   ১৩ শা'বান ১৪৪১

Akash

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মেয়েকে হত্যায় ৩০ লাখ টাকার চুক্তি বাবার

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২৯ ৯ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৬:৪৫ ৯ মার্চ ২০২০

শিশু ইলমা হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাবা আব্দুল মোতালেবসহ অন্যরা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

শিশু ইলমা হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাবা আব্দুল মোতালেবসহ অন্যরা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ৩০ লাখ টাকার চুক্তিতে নিজের শিশু কন্যা ইলমাকে খুনে সহায়তা করেন বাবা আব্দুল মােতালেব। শুধু তাই নয়, পরিকল্পনা মোতাবেক বাড়ির পাশে ধানক্ষেতে ডেকে নিয়ে ইট দিয়ে মাথা থেতলে ইলমাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে ইলমার দুলাভাই বাবুল ও ফুফাতো ভাই মাসুমের নেতৃত্বে ৭-৮জন।

এসময় বাবা মোতালেব দাঁড়িয়ে থেকে হত্যায় সহায়তা করেন। যদিও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেও চুক্তির ৩০ লাখ টাকা পাননি ঘাতক বাবা। 

দীর্ঘ ৫ বছর পর নরসিংদীর চাঞ্চল্যকর ইলমা (১১) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িত অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেফতারের পর এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এর আগে সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরার তত্বাবধানে একটি টিম নরসিংদী সদর থানা এলাকা থেকে বাবা আব্দুল মােতালেব, মঙ্গলী বেগম, ফুফাতো ভাই মাসুম মিয়া, মো. বাতেন ও গ্রুপ লিডার শাহজাহান ভূইয়াকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামী মাসুম মিয়া আদালতে এরইমধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

চাঞ্চল্যকর ইলমা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন সম্পর্কে জানাতে সোমবার দুপুর দেড়টায় সিআইডি সদর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। 

সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ইলমা হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রকৃত আসামীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে থানা পুলিশ ব্যর্থ হলে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। সিআইডি'র সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিট নিহত ইলমার ফুপাতো ভাই মাসুমকে গ্রেফতার করে। এরপর এ চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়।

তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ২৮ মার্চ ১১ বৎসর বয়সী ইলমার মৃতদেহ নরসিংদী থানাধীন বাহেরচর গ্রামের একটি ধানক্ষেতে পাওয়া যায়। ইলমা বাহেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। 

তদন্তে জানা যায়, নরসিংদী থানাধীন বাহের চর নামক একটি দূর্গম এলাকায় শাহজাহান ভূইয়া ও সাবেক মেম্বার বাচ্চুর নেতৃত্বে দুইটি দলের মধ্যে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব বিরাজমান ছিল। শাহজাহান গ্রুপের সদস্য ইলমার ফুফাতো ভাই মাসুমের সঙ্গে বাচ্চুপক্ষের সদস্য তোফাজ্জলের মেয়ে তানিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

বিয়ে করার উদ্দেশ্যে তানিয়াকে মাসুম তার ভাইয়ের শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে তানিয়ার বাবা দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে তানিয়াকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

ওই ঘটনায় তানিয়ার বাবা বাদী হয়ে মাসুম, মাসুমের ভাই খসরু ও ভাইয়ের শ্বশুড় বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর মডেল থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এরপর মূলত: দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়।

বাচ্চু গ্রুপের সদস্যদের ক্ষতি করার লক্ষ্যে শাহজাহানের বাড়িতে ২০১৫ সালের ১ মার্চ রাতে মাসুমসহ ১৩ জন বৈঠক করে। প্রতিশোধ নিতে একটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বাচ্চু গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার বিষয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রুপ লিডার শাহজাহান মোতালেবকে তার মেয়ে ইলমাকে টাকার বিনিময়ে হত্যা করার প্রস্তাব করে। মোতালিব ত্রিশ লাখ টাকার বিনিময়ে মেয়েকে হত্যায় রাজি হয়।

গত ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় ইলমার দুলাভাই ও অন্যরা মিলে তাকে টাকা দেয় বাজার-সদাই করার জন্য। টাকা পেয়ে ইলমা বাড়ির পাশে নুরার দোকান হতে জিনিসপত্র কিনে বাড়ি ফিরছিল। পথে দুলাভাই বাবুল ও ফুফাত ভাই মাসুমের নেতৃত্বে ৭-৮জন মিলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ইলমাকে পার্শ্ববর্তী একটি ধানক্ষেতে নিয়ে যায়। ইট দিয়ে মাথা থেতলে ইলমাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এসময় ইলমার বাবা পাশে অবস্থান করছিলেন। 

জিজ্ঞাসাবাদে মাসুম সিআইডিকে জানায়, ইলমার বাবা এ সময় আগে টাকা ও পরে কাম সারতে বলে টাকা দাবি করেছিলেন। 

ইলমা হত্যার ঘটনায় প্রকৃত আসামীদের বাদ দিয়ে ইলমার বাবা মোতালেব বাদি হয়ে বাচ্চু গ্রুপের বিলকিস, খোরশেদ, নাসুসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে নরসিংদী সদর মডেল থানায় ওই বছরের ৩১ মার্চ হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতো কিছুর পরেও প্রকৃতপক্ষে হত্যাকাণ্ডের জন্য চুক্তিকৃত ৩০ লাখ টাকা ইলমার বাবা মোতালেব পাননি বলে জানায় মাসুদ।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/এসএএম