Alexa প্রতিকৃতি নির্মাণকারীর শেষ পরিণতি

ঢাকা, বুধবার   ১৭ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ২ ১৪২৬,   ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪০

‘ওই ব্যক্তির চেয়ে বড় যালেম আর কে হতে পারে’

প্রিয়ম হাসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৪৩ ৭ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ২১:৪৫ ৭ জুলাই ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিকৃতি নির্মাতাদের (ভাস্কর, চিত্রকরদের) কিয়ামত-দিবসে আযাবে নিক্ষেপ করা হবে এবং তাদেরকে সম্বোধন করে বলা হবে, যা তোমরা ‘সৃষ্টি’ করেছিলে তাতে প্রাণসঞ্চার কর!’ (সহীহ বুখারী হা. ৭৫৫৭, ৭৫৫৮)।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয় আল্লাহ তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক আযাব প্রস্তুত রেখেছেন।’

আরো পড়ুন>>> সূরা ফাতেহা প্রার্থনা ও আত্মশুদ্ধির এক অতুলনীয় আলোচনা (পর্ব-৯)

হজরত ইকরামা (রা) বলেন, ‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয় তারা হলো ওই সমস্ত লোক যারা চিত্রাংকন করে। হজরত ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন,  ‘যে সব লোক প্রতিকৃতি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করে কিয়ামতের দিন তাদের আযাব দেয়া হবে এবং বলা হবে তোমরা যা কিছু সৃষ্টি করেছিলে তা এখন জীবন্ত করে দাও।’ (বুখারী ও মুসলিম)।

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে থেকে বর্ণিত, তিনি বললেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) কোনো এক সফর থেকে ফিরে আসলেন। আমি ঘরের আঙ্গিনায় একটি পর্দার কাপড় ঝুলিয়ে রেখেছিলাম, যাতে কিছু সংখ্যাক ছবি বা প্রতিকৃতি ছিল। তিনি বললেন, হে আয়েশা! কিয়ামাতের দিন সবচেয়ে কঠিন আযাব হবে ওই সব লোকের যারা আল্লাহর সৃষ্টির অনুকরণ করে সৃষ্টি করে। হজরত আয়েশা বলেন, এরপর আমি তা কেটে দু‘টি বালিশ তৈরি করলাম। (বুখারি ও মুসলিম)।

রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক চিত্রকর জাহান্নামি হবে। তার প্রতিটি ছবির জন্য তাকে এক একটা প্রাণ দেয়া হবে এবং প্রত্যেকটা জাহান্নামের আগুনে আযাব ভোগ করবে।’ (বুখারী ও মুসলিম)।

রাসূল (সা.) আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি পৃথিবীতে কোনো প্রাণীর ছবি তৈরি করেছে, কিয়ামাতের দিন তাকে ওই ছবিতে প্রাণসঞ্চার করার নির্দেশ দেয়া হবে। কিন্তু তা সে কখনো পারবে না ‘ (বুখারী)।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, আল্লাহ তায়ালা বলেন, ওই ব্যক্তির চেয়ে বড় যালেম আর কে হতে পারে, যে আমার সৃষ্টির মতো অবিকল সৃষ্টি করে? তারা পারলে একটি শস্য বীজ সৃষ্টি করুক অথবা একটি যব তৈরী করুক অথবা একটি অণু সৃস্টি করুক।’ (বুখারী)।

হজরত আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, ‘কিয়ামতের দিন জাহান্নাম থেকে একটা মাথা উঠে এসে বলবে তিন ধরনের ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়ার দেয়ার জন্য আমার কাছে সমর্পণ করা হয়েছে। সে তিন ব্যক্তি হচ্ছে- (১) আল্লাহর সঙ্গে অংশীদারসাব্যস্তকারী, (২) স্বৈরাচারীশাসক এবং (৩) চিত্রকর। (তিরমিযী)।

রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ঘরে কুকুর অথবা প্রাণীর ছবি থাকে, সে ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না। (বুখারী ও মুসলিম)।

ইমাম খাত্তাবী বলেন যে, এ দ্বারা রহমত ও বরকতের ফেরেশতাদেরকে বুঝানো হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বের ফেরেশতা সকল গৃহেই যেয়ে থাকে। আর কুকুর দ্বারা বুঝানো হয়েছে নিছক শখের বশে পালিত কুকুরকে। শিকার ধরা,পাহাড়া দেয়া ইত্যাদি কাজের জন্য কুকুরকে প্রয়োজন হলে তাতে কোনো বাধা নেই। আর ছবি বলতে বুঝানো হয়েছে যেকোনো প্রাণীর ছবি বা প্রতিকৃতিতে, চাই সে যে জিনিসের ওপর যেভাবেই রক্ষিত থাকনা কেন। এ ধরনের সকল ছবিকে সাধ্যমত অপসারণ বা ধ্বংস করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সহিহ মুসলিমে বর্ণিত আছে যে, হজরত আলী (রা.) সকল ছবি বা প্রতিকৃতিকে ধ্বংস করার এবং সকল উচুঁ কবরকে সমান করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে