Alexa প্রকৃত মুসলমানের পরিচয়

ঢাকা, সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ১ ১৪২৬,   ১৬ মুহররম ১৪৪১

Akash

প্রকৃত মুসলমানের পরিচয়

মাওলানা ওমর ফারুক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:৪০ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৯:৪৬ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মুসলমান বলে মৌখিক দাবি করলেই অমরা প্রকৃত মুসলমান হতে পারব না। কেননা, মুসলমান সৈয়দ পাঠান প্রভৃতির ন্যায় বংশগত পদবী নয়। বরং এটা একটি আদর্শগত পরিচয়। 

বংশগত পদবীর অধিকারী হওয়া ও অদর্শগত পরিচয় ধারনের মধ্যে পাথর্ক্য এই যে, বংশগত পদবীর অধিকারী হওয়ার জন্য বিশেষ কোনো গুণের অধিকারী হওয়া জরুরি নয়। যথা সৈয়দ পদবীর অধিকারী হওয়ার জন্য সৈয়দ বংশে জন্ম গ্রহণ করাই যথেষ্ট। তজ্জন্য অন্য কোনো বিশেষ গুণের অধিকারী হওয়া দরকার হয় না। কিন্তু আদর্শগত পরিচয়ের অধিকারী হওয়ার জন্য বিশেষ কোনো গুণের অধিকারী হতে হয়, যথা আলেম হওয়ার জন্য যে বিশেষ গুণের প্রয়োজন, তা না থাকলে কেউ অলেম পরিচয়ের অধিকারী হতে পারে না।

আরো দেখুন>>> যে স্থানে কেউ যেতে চায় না!

যে আদর্শ ও গুণের অধিকারী হলে মানুষ মুসলমান পরিচয়ের অধিকারী হতে পারে সেই আদর্শের নাম হলো ইসলাম। সুতরাং যিনি ইসলামের আদর্শকে কবুল করেছেন, তিনি যে কোনো বংশে জন্ম গ্রহণ করুন না কেন, প্রকৃতপক্ষে তিনিই মুসলমান। পক্ষান্তরে খাঁটি মুসলমানের ঘরে জন্মগ্রহণ করেও যদি কেউ ইসলামের বিরুদ্ধাচরণ করে সে মৌখিক মুসলমান বলে দাবি করলেও প্রকৃত পক্ষে সে মুসলিম পরিচয়ের অধিকারী হতে পারে না ।

ইসলাম:
ইসলাম অর্থ আল্লাহ তায়ালার আনুগত্য ও বশ্যতা স্বীকার করে তার বিধান সমূহ মেনে চলা। আসমান, জমিন, ফেরেশতা, চন্দ্র, সূর্য, পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ, পাহাড়-পর্বত এবং বৃক্ষ-লতা প্রভৃতি এক কথায় জিন ও ইনসান ব্যতিত অন্যান্য সকল মাখলুকের পক্ষে ইসলাম গ্রহণ করা ব্যতিত অন্য কোনো উপায় নেই। আল্লাহ তায়ালার বিধান এতটুকু অমান্য করার অধিকার তাদের নেই। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘আসমান জমিনের যাবতীয় সৃষ্ট পদার্থই ইচ্ছায় ও অনিচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছে অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালার বশ্যতা স্বীকার করে তার বিধানসমূহ মেনে নিয়েছে। এবং অবশেষে সকলকে তার নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে।’  

জ্বীন-ইনসানও হায়াৎ, মওত, রিজিক ধন-সম্পদ প্রভৃতি কতক বিষয়ে আল্লাহ তায়ালার বিধানের বিন্দুমাত্র খেলাফ করতে পারে না। আর কতক বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা জ্বীন ও ইনসানককে কিছু স্বাধীনতা দান করেছেন যেন তারা এই ইচ্ছাধীন বিষয়সমূহের ব্যাপারে স্বেচ্ছায় আল্লাহ তায়ালার বশ্যতা স্বীকার করে অন্যান্য মাখলুক থেকে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে পারে।

সুতরাং একজন মানুষের ইসলাম গ্রহণ করার অর্থ এই যে, সে তার ক্ষমতাধীন বিষয়সমূহেও স্বেচ্ছায় আল্লাহ তায়ালার বশ্যতা স্বীকার করে নেবে এবং স্বানন্দে তার বিধান সমূহ মেনে নেবে ।

দ্বীন ইসলাম:
দ্বীনের এক অর্থ মাজহাব অর্থাৎ পথ ও মত বা জীবন পদ্ধতি। সুতরাং দ্বীন ইসলামের অর্থ মাজহাবে ইসলাম অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালার বশ্যতা স্বীকার করার পথ-মত ও জীবন-পদ্ধতি। এই দ্বীন ইসলাম সম্বন্ধে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘একমাত্র ইসলামই আল্লাহ তায়ালার নিকট মনোনীত পথ-মত ও জীবন-পদ্ধতি।’ তার বিপরীত অন্য কোনো জীবন পদ্ধতি আল্লাহ তায়ালার নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘যদি কেউ ইসলামি জীবন পদ্ধতি ছাড়া অন্য কোনো মতবাদকে জীবন পদ্ধতি হিসাবে গ্রহণ করে তা আল্লাহ তায়ালার নিকট গ্রহণযোগ্য হবে না।’

ইসলামি জিন্দেগি:
ইসলামের বিধান কিছু রীতিনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং তা মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানব জীবনের প্রত্যেক স্তর খোদায়ি বিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এজন্যই আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘আমি তোমাদের জীবন পদ্ধতিকে পরিপূর্ণ করে দিলাম। আমার নেয়ামত তোমাদের ওপর পূর্ণরূপে দান করলাম। এবং জীবন পদ্ধতি হিসেবে একমাত্র ইসলামকেই তোমাদের জন্য মনোনীত করলাম।’ 

সুতরাং পূর্ণ ইসলামি জিন্দেগি ওইরূপ জীবনকে বলা হয় যা সম্পূর্ণরূপে ইসলামি আদর্শে গঠিত এবং সামগ্রীকভাবে ইসলামের বিধান অনুযায়ী পরিচালিত। অতএব, ইসলামি আদর্শের অনুসরণকারী মুসলমানদের কর্তব্য এই যে, জীবনভর পূর্ণ ইসলামি জিন্দেগি যাপন করবে। অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালার আনুগত্য ও বশ্যতা স্বীকার করে জীবনের প্রতিটি কাজ আল্লাহর বিধান অনুযায়ী সম্পন্ন করবে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘আমি জ্বীন-ইনসানকে কেবলমাত্র আমার ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি।’ এই আয়াতের অর্থ এই নয় যে, সংসার ত্যাগী হয়ে আমাদের সবসময় আল্লাহ তায়ালার ইবাদতে লিপ্ত থাকতে হবে। কেননা তা ইসলামের শিক্ষা নয়। রাসূলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ইসলামে বৈরাগ্য নেই।’

ইবাদত শব্দ বিভিন্ন  অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। উপরোক্ত আয়াতে ব্যবহৃত ইবাদতের অর্থ আল্লাহ তায়ালার বশ্যতা স্বীকার করে তার বিধান মেনে চলা। সুতরাং উপরোক্ত আয়াতের মর্মে স্পষ্ট প্রমাণীত হয় যে, আল্লাহ তায়ালা জ্বীন-ইনসানকে এজন্য সৃষ্টি করেছেন যেন তারা জীবনের প্রত্যেক ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালার বিধান পালন করে এবং সারাজীবন একমাত্র তারই বশ্যতা স্বীকার চলে এক কথায় পূর্ণ ইসলামি জিন্দেগি যাপন করে।

লিল্লাহিয়্যাৎ:
ইসলামি জিন্দেগির লক্ষ হবে একমাত্র আল্লাহ। মুসলমান তার জীবনের যাবতীয় কাজ করবে একমাত্র আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করার নিয়তে। তাকেই বলে  লিল্লাহিয়্যাৎ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘বল, আমার ইবাদত-বন্দেগী, সদকা, খয়রাৎ ও জীবন-মরণ (সব কিছু ) বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্যই।’

পক্ষান্তরে কাফেরি জীবনের লক্ষ হবে শুধুমাত্র দুনিয়া। কোনো কাজ লিলাহিয়্যাতের ভিত্তিতে না করে ধন-দৌলত লাভ, যশ-খ্যাতি অর্জন, নেতৃত্ব-কর্তৃত্বের মোহে অথবা অন্য কোনো পার্থিব স্বার্থ-সিদ্ধির উদ্দেশ্যে করাকে বলা হয় দুনিয়া। যাদের জীবনের লক্ষ্য একমাত্র দুনিয়া তাদের পরিণাম সম্বন্ধে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘যারা আল্লাহর নাফরমানি করে এবং পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দান করে, জাহান্নামই হবে তাদের বাসস্থান।’ ইসলামি জিন্দেগীর কোনো কাজই দুনিয়া নয়। কেননা ইবাদত বন্দেগি, ব্যবসা-বাণিজ্য, কাজ-কারবার, রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি প্রভৃতি জীবনের যে কোনো কাজ যদি ইসলামের বিধান অনুযায়ী করা হয়, তাহলে সেটা দীনের অন্তর্ভুক্ত ও ইবাদতে পরিণত হয়ে যায়। পক্ষান্তরে নামাজ, রোজা প্রভৃতিও যদি লিল্লাহিয়্যাতের ভিত্তিতে আদায় না করে দুনিয়ার নিয়তে করা হয়, তবে তা দ্বারাও কোনোরূপ সওয়াবের আশা করা যায় না। বরং তা দুনিয়াতে পরিণত হয়ে যায়।

এজন্যই রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতে সর্বপ্রথম তিনশ্রেণি লোকের বিচার করা হবে। এক ব্যক্তি যে কোরআন শরিফ শিখেছিল ও অপরকে শিখিয়েছিল, তাকে আল্লাহ তায়ালার দরবারে হাজির করা হবে। আল্লাহ তায়ালা তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, ‘আমি তোমাকে দুনিয়ায় যে সকল নিয়ামত দান করেছিলাম, তার শুকরিয়া আদায়ের জন্য তুমি কী আমল করে এসেছ?’ সে বলবে, হে আল্লাহ! আমি আপনার জন্য কোরআন শরিফ শিখেছিলাম এবং অপরকে শিক্ষা দিয়েছিলাম।’ আল্লাহ তায়ালা বলবেন, ‘তুমি মিথ্যা বলেছ, তুমি তা আমার জন্য করোনি বরং এই জন্য করেছিলে যেন লোকে তোমাকে আলেম বলে সুখ্যাতি করে। তোমার সে উদ্দেশ্য দুনিয়ায় সফল হয়েছে।’ অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হবে ।

আর এক ব্যক্তিকে আল্লাহ পাকের দরবারে হাজির করা হবে, যাকে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতে সর্বপ্রকার ধন-দৌলত দান করেছিলেন। আল্লাহ তায়ালা তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, ‘আমি তোমাকে দুনিয়ায় যে সকল নেয়ামত দান করেছিলাম তার শুকরিয়া অদায়ের জন্য কী আমল করে এসেছো?’ সে বলবে, ‘ইয়া আল্লাহ! আমি তা হতে আপনার জন্য দান-খয়রাত করেছি।’ আল্লাহ তায়ালা বলবেন, ‘তুমি মিথ্যা বলেছ, তুমি তা আমার জন্য করো নাই। বরং এইজন্য করেছিলে যেন লোকে তোমাকে দাতা ও দানশীল বলে সুখ্যাতি করে। তোমার সে উদ্দেশ্য দুনিয়ায় থাকতেই সফল হয়েছে।’ অতঃপর তাকেও দোজখে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দেয়া হবে।

আর এক ব্যক্তিকে আল্লাহপাকের দরবারে হাজির করা হবে, যে জিহাদ করে শহিদ হয়েছিল। আল্লাহ তায়ালা তাকে জিজ্ঞাসা করবেন, ‘আমি তোমাকে যে নিয়ামত দান করেছিলাম তার শুকরয়িা আদায়ের জন্য তুমি কী নেক আমল করে এসেছ?’ সে বলবে, ‘ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার জন্য আমার জীবন পর্যন্ত আপনার রাস্তায় কোরবান করে দিয়েছি।’ আল্লাহ পাক বলবেন, ‘তুমি মিথ্যা বলেছ, তুমি তা আমার জন্য করোনি বরং এজন্য করেছিলে যেন লোকে তোমাকে বাহাদুর বলে সুখ্যাতি করে। তোমার সে উদ্দেশ্য দুনিয়ায় থাকতেই সফল হয়েছে।’ অতঃপর তাকেও জাহান্নামে নিক্ষেপের আদেশ দেয়া হবে।

মোটকথা, মুসলিম জীবনের একমাত্র লক্ষ হবে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি হাসিল করা। এবং এই উদ্দেশ্যে যে কোনো কাজ  করা হলে তা দুনিয়া নয়, বরং তা ইবাদতের মধ্যে গণ্য হবে। নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, সদকা ও কোরবানি প্রভৃতি যদি দুনিয়ার নিয়তে করা হয়, তবে তা নিছক দুনিয়ায় পরিণত হবে, পক্ষান্তরে আহার-বিহার, ব্যবসায়-বাণিজ্য ও কাজ কারবার প্রভৃতি লিল্লাহিয়্যাতের ভিত্তিতে করলে তা ইবাদতে অন্তর্ভূক্ত হবে । এই জন্যই মাওলানা রুমী (রহ.) বলেছেন, ‘দুনিয়া কী? দুনিয়া হলো আল্লাহ তায়ালা থেকে গাফেল হওয়া, ধন-দৌলত, ও স্ত্রী-পুত্র দুনিয়া নয়।’

প্রাথমিক যুগের মুসলমানগণ জীবনের যাবতীয় কাজ করতেন লিল্লাহিয়্যাতের ভিত্তিতে, তারা কোনো কাজ দুনিয়ার নিয়তে করতেন না। এজন্য তারা সংখ্যায় মুষ্টিমেয় হয়েও অচিন্তনীয় উন্নতি লাভ করতে সমর্থ হয়েছিলেন। এ সম্পর্কে প্রাথমিক যুগের মুসলমানদের লিল্লাহিয়্যাতের একটি একটি ঘটনা বর্ণনা করছি ।

ঘটনাটি এই যে, হজরত ওমর (রা.) এর জামানায় মুসলমানগণ যে দেশেই পদার্পণ করতেন, আল্লাহর ফজলে সঙ্গে সঙ্গেই সেই দেশ জয় হয়ে যেত। কিন্তু তারা যখন ইস্কান্দরিয়ায় উপস্থিত হলেন, দীর্ঘ তিন মাসকাল অবরোধ করে রেখেও সেই দেশ জয় করতে পারলেন না। ইস্কান্দরিয়া অবরোধকারী মুসলিম বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন হজরত আমর (রা.)। তিনি খলিফাতুল মুসলিমীন হজরত ওমর (রা.)-কে সকল বৃত্তান্ত লিখে জানালেন। হজরত ওমর (রা.) উত্তর দিলেন, ‘হে আমার! আমার মনে হয়, তোমরা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছ। তোমাদের মধ্যেও কাফেরদের ন্যায় দুনিয়া প্রবেশ করেছে। ফলে আল্লাহর রহমত তোমাদের ওপর থেকে উঠে গিয়েছে। কাফেরদের মধ্যে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য যে ভীতি সঞ্চার করেছিলেন, তা লোপ পেয়েছে। তোমরা তওবা করে তোমাদের লক্ষ্য ঠিক করো এবং নিয়ত শুদ্ধ করে নাও, তাহলে আল্লাহ তায়ালার ওয়াদা অনুযায়ী তোমরা নিশ্চই বিজয়ী হবে।’

মুসলিম সেনাপতি হজরত আমর (রা.) সকল মুসলিম মুজাহিদীনকে একত্র করেন এবং খলিফাতুল মুসলিমীন হজরত ওমর (রা.) এর নির্দেশনামা তাদেরকে পাঠ করে শুনালেন। খলিফাতুল মুসলিমীনের নির্দেশ অনুযায়ী সকলে তওবা করলেন এবং নিয়ত শুদ্ধ করলেন। ফলে আল্লাহর ফজলে অল্প দিনের মধ্যেই ইস্কান্দরিয়া মুসলমানদের করতলগত হয়।

গভীর পরিতাপের বিষয় এই যে, বর্তমান জামানায় আমরা অনেকেই আমাদের জীবনের লক্ষ্য হারিয়ে ফেলেছি। আমাদের মধ্যে লিল্লাহিয়াতের সীমাহীন অভাব ঘটেছে। জানা দরকার যে, বেহেশতের আশায় অথবা জাহান্নামের ভয়ে কোনো কাজ করাও লিল্লাহিয়াতের অন্তর্ভুক্ত। কেননা আল্লাহর রহমত  ও দিদারের আশায় বেহেশত কামনা করা হয় এবং আল্লাহ তায়ালার গজব ও তার দিদার থেকে বিরত হওয়ার ভয়ে জাহান্নামকে ভয় করা হয়।

এই জন্যই কবি বলেছেন, ‘যেহেতু কেবলমাত্র বেহেশতেই আল্লাহ তায়লার দিদার লাভ হবে, এই জন্যই আল্লাহ প্রেমিকগণ কেবলমাত্র আল্লাহ তায়ালার দিদারের আশায় বেহেশত কামনা করেন।’

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে