Alexa প্রকৃতির বিচিত্র আচরণধারা!

ঢাকা, রোববার   ১৮ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৩ ১৪২৬,   ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

প্রকৃতির বিচিত্র আচরণধারা!

সালমান আহসান নাঈম

 প্রকাশিত: ১৪:০০ ৯ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৪:০০ ৯ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

প্রকৃতির সব উপাদান বা উপকরণ বিশেষ করে জীবজগৎ এক নিজস্ব বৈশিষ্ট্যমন্ডিত নিয়মকানুন মেনে এগিয়ে যায়। তা সৃষ্টির আদি লগ্ন থেকে। এক্ষেত্রে আমরা জীবজগতের অন্য সব সদস্য বাদ দিয়ে যদি কেবল আমাদের দিকে দৃষ্টিপাত করি, তাহলে অনেক সময় এর ব্যতিক্রমও লক্ষ্য করি। যেমন আমাদের এক হাতের আঙ্গুল পাঁচটি। সেক্ষেত্রে ছয়টি আঙ্গুল দেখার অভিজ্ঞতাও অনেকেরেই রয়েছে। সেখানে আমাদের ৬+৫ =১১টি আঙ্গুলের মানুষ ছাড়িয়ে সুষম বারোটি আঙ্গুলের মানুষ বিরল হলেও দেখতে পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে তা চারটিও হয়। জন্মগতভাবে কারো কারো একটা কান থাকে না। এছাড়া আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেরও অস্বাভাবিক আকার-আকৃতি চোখে পড়ে।

মানুষ ছাড়া অন্য প্রাণীদের মধ্যেও এমন ধারার নিয়ম রয়েছে। যেমন বেশ কিছুদিন আগে চীনের জিয়াংইয়ার শহরে একটি বিড়ালের সামনের দিকে ৪ ইঞ্চি লম্বা পাখা গজিয়ে ছিল। একবার চীনের তরিতরকারির বাজারে কয়েকটা মিকি মাউস টমেটো (অর্থাৎ টমেটোগুলো দেখতে অনেকটা শিশুদের জনপ্রিয় কার্টুন সিরিজের চরিত্রের মতো) পাওয়া গিয়েছিল। বেশিদিনের কথা নয়, যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপির কাছে ৮৫ একরের এক বিশাল লেকে আকস্মিকভাবে ছয় পা বিশিষ্ট ব্যাঙ দেখা গিয়েছিল। একটা-দু’টো ব্যাঙ নয়, ৩৫০টির বেশি! সাধারণ নিয়মে ব্যাঙের হয় চারটি পা। বিষয়টি তখনকার বিজ্ঞানী মহলে যথেষ্ট সাড়া জাগিয়েছিল। বিশেষ করে, জিনবিজ্ঞানী মহলে। তারা তড়িঘড়ি করে সেই মিসিসিপি লেকে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন গবেষণা অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে।

এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ মহলের অনুসন্ধানে দেখা গেল, ছয় পা-বিশিষ্ট ব্যাঙগুলো সমবয়সী এবং একই প্রজন্মের (২ বছরের)। কাজেই ধরে নেওয়া যেতে পারে যে ওই ব্যাঙগুলো একই ঋতুতে জন্মেছিল, পরে মিসিসিপির লেকে ছড়িয়ে পড়েছিল। পরবর্তী, ঋতুতে সেই ছয় পা-বিশিষ্ট ব্যাঙগুলোকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের পর্যবেক্ষণে আরও দেখা গেল যে ওই ব্যাঙগুলো ছিল অপরিণত।

এসব পর্যবেক্ষণের আলোকে বিজ্ঞানীরা উল্লেখিত মন্তব্যগুলো তুলে ধরেন :

১.নিষিক্ত ডিম বা ভ্রূণাবস্থায় কোন এক বিশেষ সময়ে পারিপার্শ্বিক উৎস থেকে কোনো ধরনের প্রভাবের কারণে এমনটা হতে পারে।

২. এই ব্যতিক্রমী প্রাণীগুলোর বংশগতিক উৎসও থাকতে পারে।

৩.ব্যাঙের ছয় পা এদের জীবনের স্বাভাবিক আচরণ বা জীবনযাপন ব্যবস্থাপনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছিল।

ওপরের কারণগুলো যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করা যেতে পারে। সেই আলোকে প্রথম দিককার উত্থাপিত প্রকৃতির বিচিত্র আকার-আকৃতিগুলো যেমন মানুষের ৯, ১১ এবং ১২ আঙ্গুল এমনকি হাতছাড়া মানব শিশুর জন্ম, বিড়ালের  চার ইঞ্চি লম্বা পাখা বা মিকিমাউস টমেটো ইত্যাদির উপস্থিতির কারণগুলো ওপরের বিশ্লেষণের আলোকে ব্যাখ্যা করাটা যুক্তিসম্মত।

বংশগতিবিদ ওয়াল্টার লোন্ডাওয়ার  ১৯৫০ সালে এক পর্যবেক্ষণে দেখিয়েছেন, কিছু রাসায়নিক যৌগ যথা বরিক এসিড, পাইলোকার্পিন ও ইনসুলিন মুরগির ভ্রূণবর্ধনে ব্যাঘাত ঘটায়। এছাড়া সাধারণ ঘুমের বড়ি (থ্যালিডামাইড) গর্ভাবস্থায় সেবনের ফলে 'থ্যালিডামাইড বেবি' নামের বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম হতে পারে। এছাড়া মাছ, ব্যাঙ, ইঁদুর ইত্যাদি প্রাণী চরম তাপমাত্রা, এক্স-রে, ভাইরাস, ওষুধ, অপুষ্টি ও অক্সিজেনের অভাবজনিত স্বাভাবিক আকার-আচরণ প্রকাশ করে। মিসিসিপি লেকের ছয় পা-বিশিষ্ট ব্যাঙগুলো পাশের তুলা ফার্মের কীটনাশকের প্রভাবে সৃষ্টি হয়েছিল বলে তখন বিজ্ঞানী মহল জানিয়েছিল।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে প্রকৃতির অস্বাভাবিক আকার-আচরণ বা স্বভাব-চরিত্রের নিয়ম অনুযায়ী স্থায়িত্ব পেতে হলে বংশগতির স্থায়ী ভিত্তি থাকতে হবে। এই বংশগতির বৈশিষ্ট্য বলতে আমরা জিনতাত্ত্বিক (ডিএনএ) সংগঠনকেই বুঝে থাকি। আমাদের মধ্যে বোবা-কালা-বধির ও প্রতিবন্ধী বা দ্বিলিঙ্গী যেসব মানুষের আগমন ঘটে, তা-ও বংশগতির সুনির্দিষ্ট নিয়মে হয় না বলে মনে করা হয়।

প্রাকৃতিক এসব বিচিত্র সৃষ্টি ও স্বভাব-চরিত্র ঘিরে পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর মধ্যে নানা কুসংস্কার ও অপবিজ্ঞানের জন্ম নেয়ার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে সাধারণভাবে বলা যেতে পারে, প্রকৃতিতে এমনই ধারার নানা আকার-আকৃতি-আচরণ সংঘটিত হয়। তা আমরা সহজে গ্রহণ করে নিলেও এসবের সুনির্দিষ্ট বিজ্ঞান গবেষণার ফলাফল এখনো আমাদের কাছে আসেনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস

Best Electronics
Best Electronics