প্রকৃতির অপরূপ স্বর্গরাজ্য সুন্দরবন

ঢাকা, সোমবার   ১৭ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৫ ১৪২৬,   ১২ শাওয়াল ১৪৪০

প্রকৃতির অপরূপ স্বর্গরাজ্য সুন্দরবন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ০৮:৫১ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১০:৫৫ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রকৃতি, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও প্রাণ বৈচিত্রের এক নান্দনিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সুন্দরবন। বলা হয়, প্রতি ২৪ ঘন্টায় ছয়বার সুন্দরবনের রূপ বদলায়।

পৃথিবী খ্যাত সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতি বছর পর্যটন মৌসুমে হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করে এই সুন্দরবনে। 

বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে প্রতি পর্যটন মৌসুমে হাজার হাজার পর্যটক নান্দনিক কলাগাচিয়া ইকো পর্যটন কেন্দ্র, আকাশ লীনা ও সুন্দরবন পরিদর্শন করে। এইসব স্পট থেকে ছোট বড় ১৬টি নৌযানে পর্যটকরা যাতায়াত করেন।

যদিও পর্যটক বান্ধব যোগাযোগ, আবাসন, খাওয়া-দাওয়া, নৌযান ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার সংকট বিদ্যমান রয়েছে এখনো। তবে সবচেয়ে বড় যে সমস্যা ছিল তাহল পল্টন সংযোগ সড়ক। এই সড়ক বেশ ঝূঁকিপূর্ণ ছিল। যার কারণে পর্যটকদের প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়েছে। হাতে-পায়ে ব্যথা পাওয়া, শখের জিনিস নদীতে পড়ে যাওয়া ও পোশাক ছিঁড়ে যেত।

সম্প্রতি পর্যটকদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা ও গুরুত্ব দিয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন মুন্সিগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির পল্টন সংযোগ সড়ক সংস্কার করেছে স্থানীয়রা। সোনার বাংলা ম্যানগ্রোভ ইকো ট্যুরিজম এবং স্থানীয় ট্রলার মালিক সমিতি অর্থ সহায়তা দিয়ে সড়কটি সংস্কার করেছে। 

এ ব্যাপারে এফজি মো. আব্দুস সালাম বলেন, সড়কটি ঝূঁকিপূর্ণ থাকায় পর্যটকদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। স্থানীয়রা সড়কটি সংস্কার করায় বর্তমানে এই রুট দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ নিরাপদে সুন্দরবন ভ্রমণ করছেন।

সোনার বাংলা ম্যানগ্রোভ ইকো ট্যুরিজমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমূস সাদাত পলাশ বলেন, সুন্দরবন পৃথিবীর সম্পদ। অস্তিত্বের জন্য এই বনের সুরক্ষা জরুরি। বনের প্রাণ ও প্রকৃতি সুরক্ষায় কাজ করছি। পাশাপাশি সুন্দরবন ইকো পর্যটন সমৃদ্ধ করতে ছোট ছোট উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে চলেছি। মুন্সিগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির পল্টন সংযোগ সড়ক সংস্কার তারই অংশ।

সুন্দরবন পর্যটক সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য ও ফিফা রেফারি তৈয়ব হাসান বাবু বলেন, আমি প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে আসি। গত বছর মুন্সিগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির পল্টন সংযোগ সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় বেশ অসুবিধা হয়েছিল। এ বছর নিরাপদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে নৌযানে উঠতে পেরেছি। স্থানীয়দের সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ ক্ষুদ্র কিন্তু মহান। সবাই মিলে ছোট ছোট উদ্যোগ নিলে অবশ্যই সুন্দরবন পর্যটন সমৃদ্ধ হবে।

এ ব্যাপারে আবুল কাশেম হোটেলের ম্যানেজার রতন ব্যানার্জি বলেন, গত বছরের চাইতে এবার পর্যটকদের সংখ্যা যথেষ্ট । আমাদের হোটেলে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন পর্যটক অবস্থান করে । 

এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, এখানে আমরা নৌ পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ ও শ্যামনগন থানার পুলিশ মিলে যৌথ ভাবে নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নিরাপত্তার ব্যাপারে সর্বদা তৎপর।

এ সম্পর্কে শ্যামনগরের ইউএনও এস এম কামরুজ্জামান বলেন, কলাগাছি এলাকায়  প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ জন মানুষ পর্যটক আসে এবং শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিন তিন থেকে চার হাজার পর্যটকরা ভিড় জমায়। আর পর্যটকদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সার্বক্ষণিক তৎপর প্রশাসন। যাতে মানুষ কোন প্রকার দালাল চক্রের দ্বারা প্রতারিত না হয় সে বিষয়েও সতর্ক। 

তিনি আরো বলেন, আকাশ লীনা, ইকো পার্ককে সস্প্রসারিত করার জন্য পর্যটন কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে দুই কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রেরণ করেছি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে