Alexa প্রকল্পের কাজ না করেই টাকা উত্তোলন

ঢাকা, সোমবার   ২৬ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ১১ ১৪২৬,   ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

প্রকল্পের কাজ না করেই টাকা উত্তোলন

 প্রকাশিত: ১৯:১১ ২৭ এপ্রিল ২০১৮  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের কাজ না করেই ভুয়া শ্রমিক দিয়ে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার থেকে হঠাৎ ওই প্রকল্পের সিংহভাগ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। আর এ অনিয়মে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান-সদস্য ও খোদ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই। এতে ওই এলাকার হতদরিদ্র শ্রমিকরা বঞ্চিত হলেও দায়িত্বপ্রাপ্তদের সে দিকে কোনো নজর নেই।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের কর্মসূচি গত বছরের ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে শুরু হয়েছে। কাজ শেষ হয়েছে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে। ওই ইউনিয়নে ৯টি প্রকল্পের বিপরীতে ৩৬০জন শ্রমিক কাজ করবেন। ৩৬০জন শ্রমিকের প্রত্যেক দিন ২০০ টাকা হারে ৪০ দিনের ২৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। প্রকল্পের উপকরণ বাবদ বরাদ্দ রয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৯ টাকা।

জানা যায়, অনিয়মের বিষয়ে গত ২৯ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছিলেন কর্মহীন শ্রমজীবীরা। ফলে ওই প্রকল্পের টাকা উত্তোলন প্রক্রিয়া আটকে যায়। সদর উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি প্রকল্পের টাকা অনেক আগেই উত্তোলন হলেও গত ২ মাস লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের টাকা সংশ্লিষ্ট দফতর আটকে দেয়।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ (পিআইও) ও সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তার যোগসাজশে অবশেষে কাজ না করেই টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। এতে চরম ক্ষুদ্ধ ওই ইউনিয়নের অতিদরিদ্র লোকজন। টাকা আত্মসাতের প্রতিবাদে ইউনিয়নবাসী আন্দোলনে যাবে বলে জানা গেছে। ওইসব টাকা প্রকল্পের কর্মকর্তাসহ সবাই ভাগবাটোযারা করে নিয়েছেন বলে শোনা গেছে।

উজানপাড়া গ্রামের রিকশাচালক আরিফুল ইসলাম বলেন, পুরো রাস্তাটির বেহাল দশা। রাস্তা দিয়ে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রাস্তায় শুধু ৮জন শ্রমিক মাটি দিয়ে কয়েকটি ভাঙা স্থান নামমাত্র মেরামত করেছেন। মাত্র ৮দিন এ রাস্তায় সামান্য মাটি ফেলা হয়েছে। ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে রিকশা নিয়ে যাতায়াত করা তো দূরের কথা হেঁটে যেতেও কষ্ট হয়। এতে এসব গ্রামের দুর্ভোগের শেষ নেই। এছাড়া ওই এলাকায় আর কোনো কাজ করা হয়নি।

রায়েরচর মৌল্লাপাড়া গ্রামের শারমিন আক্তার বলেন, এলাকার দরিদ্র মানুষ গত বছর মাটিকাটার কাজ করেছি। ওই টাকা দিয়ে কোনো রকম সংসার চলেছে। এ বছর কাজ করার জন্য চেয়ারম্যান-মেম্বাররা ৩ হাজার করে টাকা চেয়েছিল। টাকা দিতে না পারায় তালিকায় এবার আমার নাম নেই। কাজ না করেই ভুয়া তালিকা তৈরি করে টাকা তোলার পাঁয়তারা করছেন। গত বছর আমরা যারা শ্রমিক ছিলাম-এ বছর ওইসব শ্রমিক একটাও কাজ পায়নি। কোন শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়েছেন এ ইউনিয়নের কেউই তা জানেন না। পুরো ইউনিয়নের কোথাও কাজের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাবে না। শুনলাম কাজ না করেই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না।

অপরদিকে কাজ না করেই কর্মসৃজন শ্রমিকদের টাকা আত্মসাত হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে প্রকল্পটির তালিকাভুক্ত শ্রমিকসহ ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

ভুক্তভোগী একাধিক শ্রমিক জানান, আত্মসাতকৃত টাকা ফেরতের ব্যবস্থাসহ কাজ ও টাকার দাবিতে আন্দোলনে নামার চিন্তা করছেন তারা।

জামালপুর সদর উপজেলার বারুয়ামারি শাখার দ্বিতীয় কর্মকর্তা আব্দুল হাই বলেন, গত মঙ্গলবার থেকে গত সোমবার পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে ২৫ লাখ ৭৩ হাজার টাকা উত্তোলন হয়েছে। ভুয়া নামের তালিকায় শ্রমিকের টাকা উত্তোলনের বিষয়ে তিনি কোনো কিছুই জানেন না।

জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বলেন, প্রকল্পের কাজের ও ভুয়া শ্রমিকের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় বিল প্রদান করা হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে প্রকল্পের সভাপতিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা প্রশাসক আহমেদ কবির বলেন, কর্মসৃজন শ্রমিকদের অভিযোগ পেয়েছিলাম। ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে এর আগে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম। পুনরায় এ বিষয়ে রির্পোট দিতে বলেছি। রির্পোট পেলেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/এমআরকে

Best Electronics
Best Electronics