.ঢাকা, বুধবার   ২০ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৫ ১৪২৫,   ১৩ রজব ১৪৪০

পেয়ারা চাষে লাভবান কৃষক

আখাউড়া (ব্রাক্ষণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৮:১৩ ৯ আগস্ট ২০১৮   আপডেট: ১৮:১৩ ৯ আগস্ট ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আখাউড়া উপজেলায় শতাধিক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারা চাষ করে লাভবান হয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূল আর প্রয়োজনীয় পরিচর্যার কারনে পেয়ারা চাষ বদলে দিয়েছে তাদের কর্মময় জীবন। এ মৌসুমে পেয়ারার ফলন ভাল হওয়ায় ও স্থানীয় বাজারে ভাল দাম পাওয়ায়  কৃষকের মুখেও হাসি ফুটে উঠেছে।

জানা যায়, উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেষা আজমপুর, রাজাপুর, রামধননগর, কল্যাণপুর, আনোয়ারপুর, দূর্গাপুর গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারা চাষ শুরু করেছে কৃষকরা। নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে প্রতি বছরের ন্যায় এ মৌসুমেও  পেয়ারা চাষে তারা সবুজ বিল্পব ঘটিয়েছে। বাড়িতে বাড়িতেও দেখা যায় পেয়ারার গাছ। এ চাষে কম শ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় ফলনশীল ধানের জমিগুলোও পেয়ারা বাগানে রূপান্তরিত করছে বলে কৃষকরা জানান।

বর্তমান পেয়ারার ভরা মৌসুম হওয়ায় এখানকার কৃষকরা ব্যাস্ত সময় পার করছেন। তাছাড়া পেয়ারা গাছ থেকে পেরে তা বাজারজাত করতে মহিলাসহ বিভিন্ন বয়সের লোকজন কাজে জড়িয়ে পড়ছেন। কেউ কেউ আবার দিন মজুর হিসাবে ও এখানে কাজ করছেন। আর পেয়ারা নিয়ে গড়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাইকারী ও খুচরা বাজার। গড়ে ওঠা ওইসব বাজারে প্রতিদিন গড়ে ২ লাখ টাকার উপর পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে বলে স্থানীয় কৃষকরা জানান।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতা বিক্রেতা ও দর্শনার্থীরা ভিড় করে।

চাষিরা জানান, এখানকার পেয়ারা কোনটি গাঢ় সবুজ,আবার কোনটি হালকা সবুজ লাল হলদে আবরনে মিশ্রন।

মো. জালাল মিয়া, বাচ্চু মিয়া, আকবর আলী, নোয়াব মিয়াসহ শতাধিককৃষক বনজঙ্গল,পুকুর পাড়, রেল লাইনের পাশে অনাবাদি জমিতে পেয়ারা চাষ করে চমক সৃষ্টি করেছেন।

এখানকার পেয়ারা স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে কসবা, কুমিল্লা নোয়াখালী, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, আশুগঞ্জ, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকাররা নিয়ে বিক্রি করছেন।

কৃষক মো. আলফু মিয়া বলেন, সময়মত পরিচর্যা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ মৌসুমে পেয়ারার ফলন ভাল হয়েছে। স্থানীয় বাজারগুলোতেও বিক্রিতে ভাল দাম পাওয়ায় লাভবান হবেন বলে জানায়।

মো. ওমর আলী বলেন, দুটি বাগানে ৭০টি পেয়ারা গাছ রয়েছে। ফলন ও ভাল হয়েছে। এপযর্ন্ত ১০ হাজার টাকার পেয়ারা বিক্রি করেছি। আশা করি যাবতীয় খরচ বাদে এমৌসুমে ৪০-৪৫ হাজার টাকা আয় হবে।

কসবার পাইকার মো. শামসুল ইসলাম বলেন, এখানকার পেয়ারা রসালো ও সুস্বাধু হওয়ায় দীর্ঘ ১০বছর ধরে কিনে বিক্রি করছি। তবে বিক্রিতেও ভাল লাভ হয় বলে জানান।

উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা মো. জুয়েল রানা বলেন, এসব এলাকার মাটি পেয়ারা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। চলতি মৌসুমে পেয়ারার ফলন ভাল হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর