.ঢাকা, শনিবার   ২৩ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৮ ১৪২৫,   ১৬ রজব ১৪৪০

পেপসির যত অজানা তথ্য!

খাদিজা তুল কুবরা

 প্রকাশিত: ১১:৩৮ ১২ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১১:৩৮ ১২ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

 

সর্বপ্রথম ১৮৯৩ সালে ব্র্যাডস ড্রিংক হিসেবে পেপসি সর্বসাধারণের কাছে পরিচিত হয়, যেটি বর্তমানে মাল্টি বিলিয়ন ডলারের ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। পৃথিবী জুড়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই সফট ড্রিংকটি উৎপাদিত হয় পেপসিকো কোম্পানির মাধ্যমে। যেটি প্রায় আরো বেশ কিছু বিখ্যাত পণ্যের মালিকানাধীন। যেমন- ওয়াকার্স ক্রিস্পস, সেভেন আপ, মাউন্টেন ডিউ, নেকড জুস, নবি নাটস ইত্যাদি। ক্যালেব ব্রাডেম কর্তৃক আবিষ্কৃত এই পেপসি  ড্রিংকটি প্রথম ব্র্যাডস ড্রিংক হিসেবে তৈরি করেন তার নিজস্ব ড্রাগ হাউজ ইউনাইটেড স্টেটস ক্যারোলাইনার নিউ বার্নে। পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালের ২৮ আগস্ট এর নামকরণ পুনরায় পরবর্তীত হয়ে হয় পেপসি কোলা। পেপসিন ও কোলা নাটস এই দু’ধরণের উপকরণ ব্যবহৃত হয় বলে এর এই নামকরণ করা হয়েছিলো। তবে উৎপাদনে এর প্রধান উপকরণ ভ্যানিলা ও সুগার।

১৯০৩ সালে বিখ্যাত এই পানীয়ের উৎপাদন স্থল ব্রাডেমের নিজস্ব ড্রাগ স্টোরের পরিবর্তে হয় একটি গুদাম ঘর। পরবর্তী দুই বছরে ১৯০৫ সালে প্রথম পেপসির লোগো ব্যবহার শুরু করে।

১৯০৯ সালের দিকে এর সর্বপ্রথম পেপসির বিজ্ঞাপন করেন সেসময়ের বিখ্যাত এক দৌড়বিদ। সেসময় তিনি পেপসিকে সংজ্ঞায়িত করেন চমৎকার একটি পানীয়রূপে। যেকোনো ধরণের ঝামেলা শেষে বা ক্লান্ত পরবর্তীতে অথবা দৌড়ের পূর্বে এই পানীয় সবচেয়ে শক্তি জোগায় এই স্লোগানে পেপসি জনপ্রিয় হয়ে উঠে। পরবর্তী ২০ বছর বিজ্ঞাপনে এটি ব্যবহৃত হতে থাকে।

১৯২২ ও ১৯৩৩ সালের দিকে কোকাকোলা কোম্পানি এই পেপসিন – কোলা কোম্পানিকে সর্বমূল্য দামে কিনে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। সেদিকে কোনো ধরণের তোয়াক্কা না করে ১৯২৬ সালের দিকে পেপসিন কোলার লোগো ১৯০৫ সালের লোগোটির পরিবর্তে পুনরায় পরিবর্তিত হয়।

তবে এর তৃতীয় বছর পর দ্বিতীয় বারের পরিবর্তিত লোগো তৃতীয়বারের মতো পরিবর্তন হয়। ১৯৩০ সালের শুরুর দিকে পেপসির জনপ্রিয় স্লোগান ছিলো 'পেপসি কোলা হিটস দ্য স্পট'। এটি পরবর্তী ২০ বছর জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকে।

১৯৩১ সাল ছিলো পেপসি কোলার জন্য সবচেয়ে হতাশাজনক বছর। বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীতে চিনির দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় পেপসি কোলা ব্যাংক দেউলিয়ায় ভোগে।

১৯৪০ সালের দিকে পেপসির প্রেসিডেন্ট হলেন ওল্টার ম্যাক এবং এর কিছুদিন পরই আফ্রিকান-মার্কিনদের কাছে পেপসির জনপ্রিয়তা নিয়ে আসেন। এর কয়েক বছর বাদে ওল্টার ম্যাকের নির্দেশনায় এক গ্রুপ কালো নিগ্রো সদস্যবৃন্দ সারা পৃথিবীতে পেপসির প্রচারণা চলতে থাকে। এর নেতৃত্ত্বে ম্যাক নেন বিশ্বস্ত এডওয়ার্ড এফ বয়েডকে। সে ক্যাম্পেইনে তারা প্রথমবারের মতো ভ্রমণ করেন শিকাগোতে এবং প্রথম নাগালেই তারা কোকাকোলাকে ছাড়িয়ে যায়। তবে বিখ্যাত এই কোম্পানির সাফল্যের পরপরই বিরোধ হয় বিজ্ঞাপন নিয়ে।বিজ্ঞাপন জড়িত সে ঝামেলার দরুন তৎক্ষনাত ১৯৫০ সালের দিকে পেপসি দল থেকে ক্ষমতা ছেড়ে দেন প্রেসিডেন্ট ওল্টার ম্যাক। এর পরপরই পেপসির প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন আলফ্রেড এন স্টিল। তার স্ত্রী বিখ্যাত অভিনেত্রী জোয়ান ক্রোফোর্ড। যিনি প্রায় অনেক বছর পেপসির বিজ্ঞাপনে মুখপাত্র হিসেবে অভিনয় করেছেন।

১৯৫৯ সালে আলফ্রেড স্টিলের মৃত্যুর পর সে প্রেসিডেন্ট পদটিতে নিযুক্ত হন তার অভিনয়শিল্পী স্ত্রী জোয়ান। ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত এই বিখ্যাত কোম্পানির নেতৃত্ত্ব দেন জোয়ান ক্রোফোর্ড। সেসময় ই পেপসির লোগো পুনরায় নতুন করে ডিজাইন করা হয়। যেটি ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত একই রকম ছিলো।

১৯৭৫ সালের মাথায় পেপসি কোলা ও প্রতিদ্বন্দ্বী কোকাকোলার মধ্যে একটি ব্লাইন্ড টেস্ট করা হয়। যেটিতে বেশিরভাগ মানুষ তুলে নিয়েছে প্রিয় পানীয় হিসেবে পেপসি কোলাকে। এই অভিপ্রিয় ঘটনায় মুখরিত পেপসি আরো বেশ কিছু বছর প্রচারণা চালায় ১৯৭৫ এর বিজয়ের সুবাদে এবং তখন থেকে পেপসির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায় আরো বেশি পরিমানে।

১৯৯১ সালের দিকে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলে পেপসি বিক্রি হতে থাকে। এভাবে একের পর এক প্রচারণা আর বিখ্যাত অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মুখপাত্র হিসেবে বিজ্ঞাপনের সুবাদে সারা বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত হতে থাকে পেপসি কোলা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস