Alexa পেঁয়াজের ঝাঁজে অস্থির মানুষ

ঢাকা, রোববার   ২০ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ৪ ১৪২৬,   ২০ সফর ১৪৪১

Akash

পেঁয়াজের ঝাঁজে অস্থির মানুষ

মীর সাখাওয়াত সোহেল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৩৮ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২২:৩২ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মাত্র এক দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকা। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজারে এক কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। হঠাৎ করে নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যটির দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছে মানুষ।

একদিনে এমন দাম বৃদ্ধি সম্পূর্ণ অনৈতিক বলে মনে করছেন ভোক্তারা। গত শুক্রবার ভারতে কাঁচা পণ্যের মূল্য নির্ধারণ সংস্থা প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজ রফতানিতে মূল্য নির্ধারণ করে দেয় ৮শ’ ৫২ মার্কিন ডলার। অথচ এর একদিন আগে গত বৃহস্পতিবারও ২৫০ থেকে ৩০০ মার্কিন ডলারে ভারত থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। শুক্রবার ভারতের ঘোষণার পর শনিবার থেকেই দেশে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এর ফলে ক্রেতাদের পাশাপাশি আমদানিকারকেরাও বিপাকে পড়েছেন। 

জানা গেছে,  রোববার ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ ৭০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অথচ গত শুক্রবারও দেশি পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৪৫-৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল।

ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানিতে মূল্য বাড়িয়েছে দেশটি। এ কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে  কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফার লোভে ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিনের ব্যবধানে দাম বাড়ানো অযৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যেটা করেছে, সেটা সম্পূর্ণভাবে অনৈতিক। আইন আছে, সরকার উদ্যোগ নিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। সরকারকে স্বল্পমেয়াদী সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেন গোলাম রহমান।

হিলি স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, এই বন্দর দিয়ে আগে টন প্রতি পেঁয়াজ ২৫০-৩০০ মার্কিন ডলার মূল্যে আমদানি হলেও বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৮৫২ ডলার নির্ধারণ করে দিয়েছে ভারতের কাঁচা পণ্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ন্যাপিড। 

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা বলছেন, এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ভারতীয় রফতানিকারকদের পাশাপাশি হিলি কাস্টমসে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। গত শনিবার দুপুরের পর থেকেই নতুন দামে পেঁয়াজ আমদানি করতে হচ্ছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ভারতের কিছু এলাকায় বন্যার কারণে পেঁয়াজের ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় নিত্য প্রয়োজনীয় এ পণ্যের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এতে সরবরাহ কমায় ভারতের বাজারেও পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানিতে ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত করতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  এর আগে ২০১৫ ও ২০১৭ সালেও তারা রফতানি মূল্য বেঁধে দিয়েছিল। তখন দেশে পেঁয়াজের কেজি ১৪০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের পেঁয়াজের কয়েকজন পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, এ বছর পেঁয়াজের উৎপাদন কম হয়েছে। শুরু থেকেই আমদানির ওপর নির্ভর করে পেঁয়াজের বাজার সামাল দেয়া হচ্ছে। এরইমধ্যে এখন হঠাৎ করে ভারত পেঁয়াজের রফতানি মূল্য বাড়িয়ে দিল। গত শনিবার থেকেই দেশের পাইকারি বাজারে এই দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে।

জানা গেছে, গত শুক্রবার শ্যামবাজারে পাইকারিতে দেশি পেঁয়াজের কেজি ৪৪-৪৫ টাকা ছিল। কিন্তু ওইদিন ভারত দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিলে, গত শনিবার তা ৬০ টাকায় ওঠে। একইভাবে ৪২-৪৩ টাকা কেজির ভারতীয় পেঁয়াজ উঠেছে ৫৭-৫৮ টাকায়। খুচরা বাজারে তা আরো বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রতি বছর চাহিদার ৬০-৭০ শতাংশ পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়। কিন্তু এ বছর তা ৫০ শতাংশের বেশি হয়নি। ফলে আমদানির ওপরই বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। আর বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানির বড় উৎস ভারত। এর বাইরে পাকিস্তান, চীন, মিশর ও মিয়ানমার থেকে কিছু পেঁয়াজ আমদানি হয়। কিন্তু ওই সব দেশের পেঁয়াজের মান ভালো না হওয়ায় বাজারে চাহিদাও তেমন নেই। ঝাঁজ কম ও সাইজে বেশি বড় হওয়ায় ওই সব পেঁয়াজ কিনতে চান না ক্রেতারা।

ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, এ দেশের পেঁয়াজের বাজার মূলত ভারত নির্ভর। তারা দাম বাড়ালে আমাদের দেশেও বেড়ে যায়। তবে বৃদ্ধিটা সঙ্গে সঙ্গে হলেও কমার ক্ষেত্রে তা হয় না। তিনি পেঁয়াজের বিকল্প উৎস্য খোঁজার জন্যও পরামর্শ দেন।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার দরের তালিকায় পেঁয়াজকে অতি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, একটি মাঝারি পরিবারে মাসে গড়ে পাঁচ কেজির মতো পেঁয়াজ লাগে। কিন্তু পেঁয়াজের চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন সে হারে বাড়ছে না। দেশে প্রতি বছর গড়ে সাড়ে ২৩ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হচ্ছে। ভারত থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পেঁয়াজ আমদানি হয় ১১ লাখ ৩৬ হাজার টন। এর আগের অর্থবছরে যা ছিল ১০ লাখ টন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএস/এসআই