Alexa পৃথিবী ধ্বংসের কারণ হতে পারেন ট্রাম্প: হকিং

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ৫ ১৪২৬,   ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

পৃথিবী ধ্বংসের কারণ হতে পারেন ট্রাম্প: হকিং

 প্রকাশিত: ১৩:৪৯ ৪ জুলাই ২০১৭  

গত ২ জুন হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তৃতায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় করা প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ট্রাম্পের এই ঘোষণা পৃথিবী নামক গ্রহটিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে, এমন কি এতে পৃথিবী আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্বখ্যাত পর্দাথবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। ট্রাম্পের ঘোষণার একমাস পর নিজের ৭৫তম জন্মদিনে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন হকিং। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত পৃথিবীকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে। এতে জলবায়ুর পরিবর্তন এমনভাবে ঘটতে পারে যে পরিস্থিতি হবে অপরিবর্তনীয়। ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।’ গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের বর্তমান পর্যায় থেকে সরে আসার আর কোনও পথ নেই জানিয়ে হকিং আরও বলেন, ‘ট্রাম্পের এমন ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্ত পৃথিবীকে আরেকটি ভেনাসে রূপান্তরিত করতে পারে। যেখানে শুধুই ২৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রা ও সালফিউরিক এসিডের বৃষ্টিপাত।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বের বড় চ্যালেঞ্জ জলবায়ু পরিবর্তন। সময় মতো যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যত প্রজন্ম ভয়াবহ জলবায়ু ঝুঁকিতে পড়বে। বিশ্ববাসী আন্তরিক হলে এ ক্ষতি রোধ করা সম্ভব।’ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রমাণ অস্বীকার করে এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বের হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিবেশের ক্ষতি সাধনের মাধ্যমে আমাদের ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সুন্দর পৃথিবীটাকে বিপজ্জনক করে তুলেছেন বলেও মন্তব্য করেন হকিং। জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত সমস্যা ও মানব সংঘাতকে কি সমাধান করা সম্ভব? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হকিং বলেন, ‘আমাদের বেঁচে থাকার সময়টা সীমিত। বিবর্তন মানুষের মধ্যে লোভ ও সহিংসতা জাগিয়ে তুলছে। পৃথিবীতে মানব সংঘাত কমার নয়।’ তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মহাকাশে স্বাধীনভাবে উপনিবেশ স্থাপন মানবজাতির বেঁচে থাকার সবচেয়ে ভালো উপায় হতে পারে বলে মনে করেন হকিং। উল্লেখ্য, সিসিলির তাওরমিনাতে অনুষ্ঠিত বিশ্বের শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি-সেভেনের শীর্ষ সম্মেলনের মূল আলোচ্যসূচি ছিল প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। কিন্তু জি-সেভেনভুক্ত দেশগুলোর নেতারা চেষ্টা করেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছ থেকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি নিয়ে অগ্রসর হওয়ার কোনো অঙ্গীকার আদায় করতে পারেননি। প্যারিস চুক্তিতে আমেরিকাসহ আরো ১৮৭টি দেশ মিলে অঙ্গীকার করেছিল যে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মাত্রা তারা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম রাখবে; এমনকি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি নামিয়ে আনতে চেষ্টা করবে। তবে নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জলবায়ু পরিবর্তনকে ‘প্রয়োজন অনুযায়ী সময়ে সময়ে ওঠানো একটি ধাপ্পাবাজি’ বলে অভিহিত করেছিলেন। এ ছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে ‘চীনের ধোঁকাবাজি’ বলেও ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন তিনি। প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ রক্ষায় ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্যারিসের ‘কপ-২১’ জলবায়ু চুক্তিটিকেও পুরোনো ধারণা বলে নির্বাচনী প্রচারের সময় মতপ্রকাশ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর: বিবিসি। ডেইলি বাংলোদেশ/এসআই