Alexa পৃথিবীর সবচেয়ে ‘সুন্দরতম’ আত্মহত্যা

ঢাকা, সোমবার   ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ১ ১৪২৬,   ১৬ মুহররম ১৪৪১

Akash

পৃথিবীর সবচেয়ে ‘সুন্দরতম’ আত্মহত্যা

জান্নাতুল মাওয়া সুইটি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৪:১২ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৫:০২ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে কেউই চলে যেতে চায় না। পৃথিবীর প্রতি সব মায়া ত্যাগ করলেই আত্মহত্যা করা সম্ভব! এযাবতকালে পৃথিবীজুড়ে যারা আত্মহত্যা করেছেন, তাদের মনে নিশ্চয়ই অনেক অব্যক্ত কষ্ট ছিলো। যা তারা কখনো কারো কাছেই প্রকাশ করতে পারেননি। আর এ কারণেই সেই অব্যক্ত কষ্টের জ্বালা সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যা করেছেন তারা। অবাক লাগতে পারে, একটি আত্মহত্যা কীভাবে সুন্দর হতে পারে? তবে জেনে নিন-

এভিলিন ম্যাকহেল বিখ্যাত কোনো ব্যক্তি ছিলেন না। তারপরও তার মৃত্যু ঠাঁই করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। তার মৃত্যুকে বলা হয়ে থাকে ‘ইতিহাসের সুন্দরতম আত্মহত্যা’। ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলি শহরে জন্মগ্রহণ করেন এভিলিন। হেলেন এবং ভিনসেন্ট ম্যাকহেলের নয় সন্তানের তিনি একজন। ১৯৩০ সালে বাবা মায়ের বিচ্ছেদের পর তারা সবাই পিতা ভিনসেন্ট ম্যাকহেলের সঙ্গে নিউইয়র্কে চলে যান।

এভিলিন ম্যাকহেলহাই স্কুল থেকে স্নাতক হওয়ার পরে এভলিন মহিলা আর্মি কর্পসে যোগ দিয়েছিলেন , এবং মিসৌরির জেফারসন সিটিতে ছিলেন। পরে তিনি নিউইয়র্কের বাল্ডউইনে চলে আসেন।  পরে পার্ল স্ট্রিটের একটি বই প্রস্তুতকারক সংস্থায় বুককিপার হিসাবে নিযুক্ত হন। নিউইয়র্কেই এভিলিনের পরিচয় হয় ব্যারি রোডসের সঙ্গে, যাকে পরবর্তীতে বিয়ে করার কথা ছিল তার। কিন্তু তা আর শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠেনি। বিয়ের এক মাস পূর্বে আত্মহত্যা করে বসেন এভিলিন।

১৯৪৭ সালের ৩০ এপ্রিল ম্যাকহেল নিউইয়র্ক থেকে পেনসিলভেনিয়ায় রেনাডসের সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে ইস্টন যাওয়ার ট্রেনে ওঠেন। পরের দিন অর্থ্যাৎ পয়লা মে, রোডসের বাসভবন ছেড়ে আবার নিউইয়র্ক সিটিতে ফিরে তিনি এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং-এর ৮৬তম ফ্লোরে পৌঁছান। সেখানে থাকা পর্যবেক্ষককে ডেকে তিনি একটি কাগজ ধরিয়ে দেন তাকে। এরপর পরনের কোট খুলে তা সুন্দরভাবে রেলিংয়ে ঝুলিয়ে দেন। চোখের পলকে ঝাঁপিয়ে পড়েন ৮৬ তলা থেকে! কাগজটি ছিলো ম্যাকহেলের ছোট্ট করে লিখে যাওয়া সুইসাইড নোট। এতে যা ছিলো-

এখান থকেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এভিলিন‘আমি চাই না আমার পরিবার ব্যতীত আমার লাশ দেখতে কেউ ভীর করুক। তুমি কি ততক্ষনাৎশ্মশানে আমার দেহটি সৎকার করতে পারবে? আমি আপনাকে এবং আমার পরিবারের কাছে প্রার্থনা করছি- আমার স্মরণে কোনো বার্ষিকী পালন করা না হয়। আমার বাগদত্তা আমাকে আগামী মাসে বিয়ে করতে চেয়েছে। আমি মনে করি, আমি কারও জন্যই ভাল স্ত্রী হতে পরবো। তিনি আমাকে ছাড়া অনেক ভাল থাকবে।’

এভিলিনের শেষ ইচ্ছা ছিল, কেউ যেন তার মৃতদেহ না দেখে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার শেষ ইচ্ছাটি পূরণ হয়নি, বরং হয়েছে তার উল্টো। ৮৬ তলা থেকে নিচে জাতিসংঘের একটি লিমুজিনের ওপর পড়ার চার মিনিট পর ফটোগ্রাফির একজন ছাত্র রবার্ট উইলস এভিলিনের মৃতদেহটির একটি ছবি তুলে রাখে। রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যায় সেই ছবি।

 বিখ্যাত সেই ছবিটিছবিটিতে দেখা যায় লিমুজেনের ওপর শান্তভাবে শুয়ে আছেন এভিলিন। তার স্নিগ্ধ চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল যেন মাত্রই ঘুমিয়ে পড়েছেন তিনি। তার পা দুটো মার্জিতভাবে একটির ওপর আরেকটি ওঠানো ছিল। গ্লাভসপরা একটি হাত আলতো করে রাখা ছিল বুকের ওপর, এবং সে হাতে শক্ত করে তিনি ধরে ছিলেন একটি মুক্তার নেকলেস।

এভিলিনের মৃতদেহের এই ছবিটিকে টাইম ম্যাগাজিন ‘ইতিহাসের সুন্দরতম আত্মহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে। তবে কী কারণে এভিলিন আত্মহত্যা করেছিলেন, তার সঠিক কারণ জানা যায়নি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস