Alexa পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্র কীটপতঙ্গ!

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৬ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ১ ১৪২৬,   ১২ জ্বিলকদ ১৪৪০

পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্র কীটপতঙ্গ!

খাদিজা তুল কুবরা

 প্রকাশিত: ১৬:৩২ ১২ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৬:৩২ ১২ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কত ধরণেরই না পতঙ্গ রয়েছে পৃথিবীতে! কেউ বেশ বড়সড় আবার কাউকে কাউকে কি-না দেখাই যায় না! কটা কীটপতঙ্গেরই বা নাম জানি আমরা। বিশ্ব জুড়ে রয়েছে হাজার রকমফের পোকামাকড়। কেউ কেউ উড়তে পারে, কেউ সাতার কাটে, কেউ আবার মাটির নীচে ঘুরে বেড়ায়। বড্ড অদ্ভুত এই পৃথিবী নামক গ্রহে আসলে ফেলে দেবার মতো কিছুই নেই। প্রতিনিয়তই নতুন কিছুর দেখা মিলে এই বিশ্বে। আজ আমরা জানবো এমন কিছু ক্ষুদ্র পতঙ্গের নাম যেগুলো কিনা খালি চোখে দেখা যায় না! মজার বিষয় হলো এই ক্ষুদ্র পতঙ্গগুলোকে নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা রীতিমত হিমশিম খেয়ে উঠেছেন।

. ওয়েস্টার্ন পিগমি ব্লু বাটারফ্লাই

ওয়েস্টার্ন পিগমি ব্লু বাটারফ্লাইপ্রজাপতি বা বাটারফ্লাই সম্ভবত সবচেয়ে সুসজ্জিত একটি পতঙ্গ। প্রাগৈতিহাসিক জ্ঞানীদের মতে, এটি প্রায় ২০০ বছর যাবত পৃথিবীতে বসবাসরত। সেই প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকে বর্তমান, প্রজাপতিরা সেই ডায়নোসরদের সময় থেকে উড়তে সক্ষম যদিও তখন তাদের ভোজের জন্য পর্যাপ্ত ফুল ছিলো না। এমনকি ভয়ানক প্রাণী বিলুপ্তের আইস এজ সময়কেও পাড়ি দিয়ে এই প্রজাতি নিজেদের টিকিয়ে রেখেছে। বর্তমান গণনা অনুযায়ী, প্রজাপতি, পোকাসহ এদের রকমফের প্রজাতি প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজারের মতো এবং এদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট প্রাণী এই লিটল পিগমি বাটারফ্লাই। এই ক্ষুদ্র প্রাণীটির খোঁজ পাওয়া যেতে পারে উত্তর আমেরিকা, পূর্ব হাওয়াই বা মধ্যপ্রাচ্যে। এই লিটল বাটারফ্লাইয়ের দু’টি ডানা মাত্র ১২ মিলিমিটার করে।

. পাতু ডিগ্যু স্পাইডার

পাতু ডিগ্যু স্পাইডারযুক্তরাষ্ট্রের বাসাবাড়িতে অবস্থানরত মাকড়শা নাকি ক্ষতিকরের চেয়ে হেল্পফুল বেশি। এই ক্ষুদ্র পাতু ডিগ্যু স্পাইডার নাকি এদের মতোই একজন। কলম্বিয়ার উত্তর প্রান্তের রিও ডিগ্যু নদীর প্রান্ত এর আবাসস্থল। এই মাকড়সার দৈর্ঘ্য এক মিলিমিটারের এক তৃতীয়াংশ মাত্র। একটি সরু পিনের মাথা থেকেও ক্ষুদ্র এটি। কেউ কেউ ধারণা করে এর চেয়েচাইতেও ক্ষুদ্র মাকড়সার খোজ পাওয়া যেতে পৃথিবীর অন্য কোথাও৷ যেহেতু পুরুষ মাকড়সা থেকে স্ত্রী মাকড়সা আকৃতিতে সামান্য বড় হয় সে হিসেবে এর পুরুষ থেকে স্ত্রী প্রজাতি সামান্য পরিমাণ বৃহৎ।

. স্কারলেট ডরফ ড্রাগনফ্লাই

স্কারলেট ডরফ ড্রাগনফ্লাইসবধরণের পোকামাকড়ের মধ্যে ফড়িং প্রজাতি ছিলো বিশাল আকৃতি ধারণকারী পতঙ্গ যেটি উড়তে পারে। এমনকি এদের প্রাগৈতিহাসিক পূর্বপুরুষ ম্যাগানিউরা প্রজাতির পাখার প্রসারতার দৈর্ঘ্য ছিলো প্রায় ৭০ সেমি। এটি প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছর পূর্বের ট্রায়াসিক পিরিয়ডের একটি ফড়িং যেটি অন্যান্য কীটপতঙ্গদের শিকার করে খেতো। বর্তমান সময়ের সবচাইতে বৃহৎ ফড়িংয়ের পাখার প্রসারতা মাত্র ২০ সেমি এবং শরীরের দৈর্ঘ্য ২০ সেমি এর কাছাকাছি। সে তুলনায় সবেচেয়ে ক্ষুদ্র ফড়িং স্কারলেট। এর পাখার প্রসারতা মাত্র ২০ মিলিমিটার। এটিকে সবচেয়ে ক্ষুদ্র ফড়িং বলা হয়। এই স্কারলেট ফড়িং এর আবির্ভাব অত্যাধিক দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়া, চীন ও জাপানে। তবে মাঝেমধ্যে এটি অষ্ট্রেলিয়াতেও পাওয়া যায়।

. মিজেট মথস

মিজেট মথসপ্রজাপতিরা যখন তাদের নিজেদের উদ্দীপনা উত্তেজনা মেটায় দিনের সূর্যের আলোয়, পোকারা তাদের যুদ্ধ শুরু করে সন্ধ্যাকালীন সময়ে। যদিও সবসময়  এদের আলাদা করা এতোটা সহজ বিষয় হয়ে উঠে না। এদের মিলটুকু অদেখাই থেকে যায়। ক্ষুদ্র পোকাগুলো রাতের আলোতে বেরুলেও কিছু প্রজাতি আছে যারা প্রজাপতিদের মতো করে দিনের বেলা ঘুড়ে বেড়ায়। তবে এদের পার্থক্য করার একটি উপায় হলো প্রজাপতিদের এন্টেনার মাথায় বল আকৃতির মতো ডগা থাকে যেটি কি না থাকেনা পোকাদের। সবচেয়ে ক্ষুদ্র পোকার পাখার প্রসারতা মাত্র ৩ মিলিমিটার। যেখানে সাধারণ পোকার পাখার প্রসারতা থাকে ২৫ মিলিমিটার। বিভিন্ন উদ্ভিদ বা গাছের পোষক হয়ে শুয়াপোকার মাধ্যমে শুরু হয় এদের। পরবর্তীতে বিভিন্ন ধাপে বড় হতে থাকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস