Exim Bank Ltd.
ঢাকা, মঙ্গলবার ২০ নভেম্বর, ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

পৃথিবীর নারীকূল: একই সমতলে

আফরোজা পারভীন
অাফরোজা পারভীন, কথাশিল্পী, কলাম লেখক, সম্পাদক। জন্ম ৪ ফোব্রুয়ারি ১৯৫৭, নড়াইল। সাহিত্যের সকল ক্ষেত্রে অবাধ পদচারণা। ছোটগল্প, উপন্যাস, শিশুতোষ, রম্য, স্মৃতিকথা, অনুবাদ, গবেষণা ক্ষেত্রে ১০১টি পুস্তক প্রণেতা। বিটিতে প্রচারিত টিয়া সমাচার, ধূসর জীবনের ছবি, গয়নাসহ অনেকগুলি নাটকের নাট্যকার। 'অবিনাশী সাঈফ মীজান' প্রামাণ্যচিত্র ও হলিউডে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য 'ডিসিসড' চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। রক্তবীজ ওয়েব পোর্টাল www.roktobij.com এর সম্পাদক ও প্রকাশক। অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব

মনে আছে একদিন বিকেলে আব্বার অসুস্থতার খবর পেয়ে শিশু পুত্রকে স্বামীর কাছে রেখে আমি বেরিয়ে এসেছিলাম পথে।

শেরপুর থেকে বাসে এসেছিলাম কালিয়াকৈর। কালিয়াকৈর থেকে সাভারগামী একটা বাসে উঠতে পেরেছিলাম সন্ধ্যার কিছু পরে। কিন্তু স্মৃতিসৌধের সামনে পৌঁছে আর কিছুতেই বাস পাচ্ছিলাম না। বাসগুলো সোঁ সোঁ করে বেরিয়ে যাচ্ছে। আমি হাত উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, থামান থামান বলছি। কিন্তু না। এক পর্যায়ে রাস্তার মাঝখানে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। বাধ্য হয়ে একটা বাস থেমেছিল। কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলাম, আব্বার অসুস্থতার কথা। কন্ডাকটর বলেছিল, বাসের একটা সিটও খালি নেই। দূরের রাস্তা কীভাবে সে আমাকে নেবে! আমি বলেছিলাম, দাঁড়িয়ে যাব। বাসের বেশিরভাগ লোক অসম্মতি জানিয়েছিল। আমি কন্ডাকটারকে ধাক্কা দিয়ে বাসে উঠেছিলাম। আর একটা ছেলে, বয়স ২৮-২৯ হবে সাথে সাথে উঠে দাঁড়িয়ে আমাকে বসতে দিয়েছিল। ছেলেটির গায়ে একটা সোয়েটার। তার একটা জায়গায় ছেঁড়া, মলিন বেশবাশ। আমি বসতে চাইনি। সে জোর করে দাবি নিয়ে বলেছিল,

: বসুনতো। আর কথা বলবেন না। যে কোন সময় পড়ে যাবেন আপনি।

সেই ছেলে আরিচায় লঞ্চে আমাকে কোক খাইয়েছিল। আমি জানি ওই কোকটা খাওয়াবার সামর্থ্য তার ছিল না। তারপরও খাইয়েছিল। আমার ব্যাগ বয়ে অন্য গাড়িতে তুলে মাগুরায় তার নামার কথা থাকলেও না নেমে যশোরে এসেছিল। তারপর একটা ট্রাকে করে আমাকে পৌঁছে দিয়েছিল মধ্যরাতে নড়াইলে। তখন আমারই বা বয়স কত? ওর চেয়ে বছর তিন চার বেশি ।

ওই ছেলেটিকে আমি ভুলিনি। ভুলবোনা কোনদিন। যেখানেই থাকুন ও যেন ভালো থাকে, সুখে থাকে এই কামনা আমার সর্বদা।

কিন্তু ভাবছি আজকের মতো যদি সেই দিনটা হতো। আমরা নাকী জ্ঞান বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়েছি। তাহলে পঁচিশ বছর আগে যা সম্ভব ছিল আজ তা সম্ভব নয় কেন? তাহলে উন্নতি হয়েছে প্রযুক্তিতে, মননে নয়? রাত আড়াইটায় যে মেয়েটিকে রামপুরারয় সিএনজি আটকে মুখে টর্চ ফেলে ভিডিও করে ছেড়ে দিলো পুলিশ ভাইয়েরা তারা কী একবারও জানতে চেয়েছিল, মেয়েটি কোন ইমার্জেন্সিতে কোথাও যাচ্ছে কীনা? তার বাবা-ভাই কোন বিপদে পড়েছে কীনা ? বা কোন মারাত্মক সমস্যায় পড়ে সে ঘর থেকে বেরিয়েছে কীনা? চেক পোস্টের পুলিশ দায়িত্ব পালন করতে চেয়েছে ভালো কথা। মেয়েটি বার বার বলার পরও কেন তার ব্যাগ সার্চ করলো না পুলিশ? ব্যাগ সার্চ করে যদি আপত্তিকর কিছু পেতো আর সেটার ভিডিও আমাদের দেখাতে পারত তাহলে তাদের বাহবা দিতাম। কিন্তু তা না করে সে হোটেলে থেকে বেরিয়ে এসেছে এই কথা বলার দুঃসাহস এরা কোথায় পেল? আর বললোই যদি মেয়েটি হোটেল থেকেই এসেছে এটা প্রমাণ করল না কেন? মেয়েটি যখন থানায় যেতে চাইলো কেন তাকে থানায় নিয়ে গেলো না? তার মানে আমরা ধরে নিতে পারি, মেয়েটির অপরাধ একটাই, সে কেন রাত আড়াইটায় ঘর থেকে বের হলো। আর মেয়েটা যদি প্রতিবাদ না করতো তাহলে নিশ্চয়ই ওর ভাগ্যে অনেক ভোগান্তি ছিল। কারণ পুলিশ যখন জানতে চাইল, সে কোন মিনিস্টারের মেয়ে, মেয়েটি তার বাপ হিসেবে কোন মন্ত্রীর নাম বলতে পারেনি।

আমাদের সমাজ পুরুষ নারীর মধ্যে একটা বিভাজন রেখা টেনে রেখেছে। রাত আড়াইটায় কোন পুরুষ রাস্তায় বের হলে কোন টহল পুলিশ তার মুখে টর্চ মেরে ভিডিও করে অনলাইনে ছাড়তো না আমি নিশ্চিত। এখানে অপরাধ মেয়ে হওয়া। মেয়েরা কেন রাতে বের হবে, তার যতোই প্রবলেম থাকুক না কেন। আর যদি বের হতেই হয় সঙ্গে লাঠিয়াল হিসেবে একজন পুরুষ নিতে হবে। যদি লাঠিয়াল না থাকে তখন কি করবে মেয়েরা?

পুলিশকে আজকাল যখন তখন মেয়েদের ভিডিও করার অধিকার কে দিয়েছে? এটা কি তাদের ডিউটির মধ্যে পড়ে? কিছুদিন আগেও একটা মেয়ে গাড়ি রং পার্কিং করায় তার ভিডিও করে পুলিশ ভাইরাল করে। হ্যাঁ সে ভিডিওতে আমরা যতটুকু দেখেছি তাতে মেয়েটার ব্যবহার ভালো ছিল না। কিন্তু পুলিশ ভাইয়েরা যে তাদের সুবিধামতো অংশটুকু ভিডিও করেই ছেড়ে দেয়নি তার নিশ্চয়তা কী! সবার বড় কথা ওদের ভিডিও করার অধিকার কে দিলো? যদি কেউ অপরাধ করে, তা যে ধরণেরই হোক তার জন্য থানা পুলিশ আছে, আইন আদালত আছে। অপরাধী হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি পাবে। কিন্তু অনলাইনে ছাড়বে কেন? মেয়েদের কী মান সম্মান নেই, পরিবার নেই, সমাজ নেই? আর আমাদের এই সমাজ তো একচক্ষু হরিণের মতো বরাবর মেয়েদের দোষটাই দেখে। এই যে মেয়েটা রাত আড়াইটায় বেরিয়েছে, সমাজ চোখ ঠেরে বলবে, এত রাতে বেরুলো কেন, বাড়িতে কি কোন পুরুষ ছিল না। ওর গার্জিয়ানরাই বা কেমন । নিশ্চয়ইএ ওর মাঝে ঘাপলা আছে ইত্যাদি ইত্যাদি।

পুলিশ ভাইয়েরা তো কই আমাদের যে ভাইয়েরা মাদক সেবন করে, রাতে বাইকে করে নোংরামি করে, ছিনতাই করে তাদের দুচারটে ভিডিও করে অনলাইনে ছাড়ে না। তখন বুঝি পৌরুষ্যত্বে ঘা লাগে!

তবে এরার একটু ভালো লাগলো । এই প্রথম একটি মেয়ের প্রতি পুলিশের আচরণ আর তার প্রতিবাদ করায় আমাদের পুরুষ ভাইদের খুব সরব দেখলাম। দেখলাম মোটামুটি সবাই ( দুচারজন জঘন্য ভাষায় গালাগাল করেছে) তার সাহসের প্রশংসা করছে, তাকে সমর্থন করছে । অনেকে বলছে এমন মেয়েই এই দেশে দরকার। তার মতো মেয়ে বোন মা যেন ঘরে ঘরে হয়। আমি ওই পুরুষ ভাইদের জন্য গর্বিত। এ ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হচ্ছে, সমাজ বদলাচ্ছে। আর আমি বিশ্বাস করি, সবাই সরব হওয়ায় চারজন পুলিশ সাময়িক বরখাস্ত হয়েছে। যদিও এটা তাদের যথোচিত শাস্তি নয়। আশা করি তাদের যথার্থ শাস্তি দেবে সরকার।

মেয়েদের এই যে হেনস্থার পেছনে মেয়েরাও কম দায়ী নয়। একটি মেয়ে সে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার অথরা প্রফেসর যাই হাক না কেন, বিয়ের পরপরই স্বামীর পদবিটি নিজের নামের সাথে জুড়ে দেয়। অর্থাৎ সে যে পুরুষের অর্ধাঙ্গিনী সেটি প্রতিষ্ঠিত করে। কিন্তু আজ অবধি কোন একজন পুরুষও কি কখনও নারীর পদবী বা নাম নিজের নামের সাথে গ্রহণ করেছে। আমার জানামতে না। তারপর এই যে ফেসবুক! বিরাট সংখ্যক নারী একাউন্ট খোলার জন্য দ্বারস্থ হয় স্বামীর সাথে যুক্ত ছবি বা স্বামী সন্তানের সাথে ছবি। কেন তিনি কি নিজের আইডেনটিটিতে পরিচিত হতে পারেন না? সেটাই কি তার উচিত না? তিনি যদি হাউস ওয়াইফও হন তার অবদান কি সংসারে কম। পুরুষ যে স্মুথলি তার কাজকর্ম করতে পারে, সন্তানরা যে লেখাপড়া শেখে, মুরব্বিরা যে যত্নআত্তি পায় সেতো ওই হাউস ওয়াইফের জন্যই। যার শ্রম কখনই জিডিপি বা জিএনপিতে যোগ হয়না।

নারীর এই নাজুক অবস্থান সারা পৃথিবীব্যাপী। ক’টা আর বলব। কোন মেয়েকে যদি ধর্ষণ করা হয় সেখানেও ধর্ষকের যতটা দোষ হয় ধর্ষিতার দোষ কম হয় না। কথাটা হয় এমন, ‘এত মেয়েতো আছে ওকেই কেন ধর্ষণ করল । ওর দোষ আছে।’

ইরাণের রেহানে জব্বারি, যে লোকটি তাকে ধর্ষণ করতে উদ্যত হয়েছিল তাকে ছুরিকাঘাত করেছিল। গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করা সেই লোকটি মারা গিয়েছিল। যদিও জব্বারি বলেছিল, সে ছুরিকাঘাত করেছে তবে তার ছুরিকাঘাতে মারা যায়নি। মেরেছে অন্য কেউ, যে ওই বাড়িতে লুকিয়ে ছিল। না জব্বারির এই কথা কেউ কানে নেয়নি। প্রথমে তাকে গ্রেফতার করে নির্জন করাবাস তারপর তাকে ঝুলিয়ে ফাঁসি। সারা পৃথিবীর মানুষের আর্জি কর্ণপাত করেনি ইরাণ সরকার, কর্ণপাত করেনি এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সহ মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কথা। তারা বলেছে, মেয়েটি পরিকল্পিত উপায়ে তাকে খুন করেছে। কিন্তু প্রতিটি খুনের তো একটা মোটিভ থাকে। রেহানে কেন ওই লোকটিকে খুন করতে যাবে। তার মোটিভ কি এ কথা কেউ ভাবেনি!

এ রেহানে বিচ্ছন্ন কেউ নয়, রেহানে আছে বাংলাদেশে, ইরাণে, আফগানিস্তানে, ইউরোপে, আমেরিকায়, সারা পৃথিবীতে। সারা পৃথিবীর মেয়েরাই রেহানে, সারা পৃথিবীর মেয়েরাই রামপুরার সেই মেয়েটি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর

আরোও পড়ুন
সর্বাধিক পঠিত
পুলিশের গাড়ি ভাঙায় ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
পুলিশের গাড়ি ভাঙায় ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
আবারো মা হচ্ছেন কারিনা!
আবারো মা হচ্ছেন কারিনা!
ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম
ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম
নির্বাচন একমাস পেছানোর আশ্বাস দিয়েছে ইসি: ড. কামাল
নির্বাচন একমাস পেছানোর আশ্বাস দিয়েছে ইসি: ড. কামাল
কাজলকে ‘জোর করে’ চুমু, ছিল অশ্লীল আচরণ!
কাজলকে ‘জোর করে’ চুমু, ছিল অশ্লীল আচরণ!
বিএনপিতে যোগ দিলেন সৈয়দ আলী
বিএনপিতে যোগ দিলেন সৈয়দ আলী
বিএনপির কার্যালয়ে ছিনতাইয়ের কবলে ফটোসাংবাদিক
বিএনপির কার্যালয়ে ছিনতাইয়ের কবলে ফটোসাংবাদিক
প্রধানমন্ত্রীর আসনে প্রার্থী দেবে না ড. কামাল
প্রধানমন্ত্রীর আসনে প্রার্থী দেবে না ড. কামাল
ভাবীর শরীরে দেবরের ‘আপত্তিকর’ স্পর্শ
ভাবীর শরীরে দেবরের ‘আপত্তিকর’ স্পর্শ
তাহলে কি এখনো তারা স্বামী-স্ত্রী?
তাহলে কি এখনো তারা স্বামী-স্ত্রী?
ফারহানার স্বপ্নের মৃত্যু
ফারহানার স্বপ্নের মৃত্যু
বাড়িতে বাবার লাশ, ছেলে পরীক্ষার হলে
বাড়িতে বাবার লাশ, ছেলে পরীক্ষার হলে
মুম্বাইতে ‘তারা’
মুম্বাইতে ‘তারা’
স্বপ্ন পূরণ হলো গোপালগঞ্জবাসীর
স্বপ্ন পূরণ হলো গোপালগঞ্জবাসীর
মির্জা ফখরুলকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ছাত্রলীগের
মির্জা ফখরুলকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ছাত্রলীগের
লাল শাড়িতে চীনে ঐশী!
লাল শাড়িতে চীনে ঐশী!
মেয়ের সামনেই বেডরুম ‘সিক্রেট’ ফাঁস করলেন সাইফ
মেয়ের সামনেই বেডরুম ‘সিক্রেট’ ফাঁস করলেন সাইফ
যে তারকারা কিনেছেন বিএনপির মনোনয়ন ফরম
যে তারকারা কিনেছেন বিএনপির মনোনয়ন ফরম
‘নৌকার মনোনয়ন পাবে জরিপে অগ্রগামীরা’
‘নৌকার মনোনয়ন পাবে জরিপে অগ্রগামীরা’
কে হবেন প্রধানমন্ত্রী? জানালেন ড. কামাল
কে হবেন প্রধানমন্ত্রী? জানালেন ড. কামাল
শিরোনাম:
মাদার অব হিউম্যানিটি সমাজকল্যাণ পদক নীতিমালা ২০১৮ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা মাদার অব হিউম্যানিটি সমাজকল্যাণ পদক নীতিমালা ২০১৮ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টের দেয়া ১০ বছরের সাজার রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন খালেদা জিয়া জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টের দেয়া ১০ বছরের সাজার রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন খালেদা জিয়া চীন-মার্কিন দ্বন্দ্ব: যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ অ্যাপেক সম্মেলন চীন-মার্কিন দ্বন্দ্ব: যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ অ্যাপেক সম্মেলন দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার; বিএনপির ইশতেহারে থাকবে দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়ন পরিকল্পনা: আমির খসরু দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার; বিএনপির ইশতেহারে থাকবে দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়ন পরিকল্পনা: আমির খসরু