পুড়ল শস্যভাণ্ডারও, মাত্র এক মাসের খাবার রয়েছে লেবাননে

ঢাকা, সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১৩ ১৪২৭,   ১০ সফর ১৪৪২

পুড়ল শস্যভাণ্ডারও, মাত্র এক মাসের খাবার রয়েছে লেবাননে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২৬ ৬ আগস্ট ২০২০  

বৈরুতের বিস্ফোরণ

বৈরুতের বিস্ফোরণ

বৈরুতের বিশাল বিস্ফোরণে এরইমধ্যেই ১৩৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছে আরো চার হাজারের বেশি মানুষ। শুধু এই মৃত্যুমিছিল নয়, ভয়ংকর ওই বিস্ফোরণের জেরে ভয়াবহ সংকটের মধ্যে পড়তে চলেছে দেশটি। কারণ এই বিস্ফোরণের জেরে লেবাননে ভয়াবহ খাদ্য সংকট হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মূলত বন্দর এলাকা বিস্ফোরণ হওয়ায় এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর সেখানকারই গুদামগুলোতেই কয়েক হাজার টন খাদ্যশস্য মজুদ ছিল। বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে সেই সব শস্য। লেবাননের অর্থমন্ত্রী রাউল নেহমে চরম হতাশার সঙ্গে জানিয়েছেন, লেবানন সরকারের হাতে মাত্র এক মাসের শস্য রয়েছে।

রয়টার্সর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈরুত বন্দরের গুদামগুলোতে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টন খাদ্যশস্য রক্ষার ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু এতোটা না হলেও বিস্ফোরণের সময় বন্দরের গুদামগুলোতে প্রায় ১৫ হাজার টন গম ছিল। যা নিমেষের মধ্যে ছাই হয়ে গেছে। 

নেহমের মতে, দেশের সাধারণ মানুষের খাদ্য সুরক্ষার জন্যেই অন্তত তিন মাসের খাবার মজুদ করে রাখে সরকার। কিন্তু মঙ্গলবারের বিস্ফোরণের পর মাত্র এক মাস চলার মতো খাবার আছে।

যদিও এই অসহায় পরিস্থিতিতেও হার মানতে রাজি নয় লেবানন সরকার। জানা গিয়েছে, গুদামগুলো থেকে আগেই কিছু ব্যবসায়ী মাল খালাস করে নিয়েছিলেন। তাদের থেকেই শস্য সংগ্রহ করা হবে। সেইসঙ্গে আরো ২৮ হাজার টন গম নিয়ে বৈরুতে বন্দরেই আসছে আরো চারটি জাহাজ।

তবে এখনই লেবানন সরকার একে পরিকল্পিত বিস্ফোরণ বলতে রাজি নন। তারা বলছেন, গুদামে অন্তত ছয় বছর ধরে মজুদ রাখা অত্যন্ত বিপদজনক বিস্ফোরক থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব এই ঘটনাকে বিপর্যয় বলে বর্ণনা করেছেন এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। 

জানা গেছে, বিস্ফোরণের প্রভাব এমনই ছিল যে, ২৪০ কিলোমিটার দূরের পূর্ব ভূমধ্যসাগরের দ্বীপ সাইপ্রাসেও অনুভূত হয়েছে। সেখানকার মানুষ মনে করেছিলেন, আশেপাশে ভূমিকম্প হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস