পুলিশের টিকটকে মিলল নিখোঁজ বাবা

ঢাকা, শুক্রবার   ১০ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ২৬ ১৪২৭,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

পুলিশের টিকটকে মিলল নিখোঁজ বাবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৫৪ ২৯ মে ২০২০   আপডেট: ১২:৫৫ ২৯ মে ২০২০

বাড়ি ফিরছেন আর ভেঙ্কাটেশওয়ারলু

বাড়ি ফিরছেন আর ভেঙ্কাটেশওয়ারলু

নাটকীয়ভাবে দুই বছর আগে নিখোঁজ এক ব্যক্তি খোঁজ মিলেছে।ভারতে এক পুলিশ কর্মকর্তার টিকটক ভিডিও দেখে দুই বছর পর নিখোঁজ ওই ব্যক্তিকে খুঁজে পেয়েছে তার পরিবার। 

বিবিসি’র একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, আর ভেঙ্কাটেশওয়ারলু নামের ওই ব্যক্তি তেলেঙ্গানা রাজ্যের বাসিন্দা। দুই বছর পর পাঞ্জাব রাজ্যে তাকে খুঁজে পাওয়া গেছে। তার বাক ও শ্রবণজনিত সমস্যা রয়েছে। 

২০১৮ সালে তেলেঙ্গানায় নিজ গ্রাম থেকে কাজের কারণে আরেক গ্রামে যেতে একটি ট্রাকে উঠেন তিনি। তার ছেলে আর পেদ্দিরাজু বলেন, বাবা ট্রাকে উঠে ঘুমিয়ে যান। ট্রাকচালক এ বিষয়ে জানতো না। গন্তব্যস্থল পেরিয়ে কয়েক কিলোমিটার যাওয়ার পর ওই চালক বুঝতে পারে বাবা তখনো তার ট্রাকেই রয়ে গেছেন। পরে তাকে রাস্তার মাঝেই নামিয়ে দেয় ওই চালক।

পেদ্দিরাজু আরো জানান, অপরিচিত জায়গা থেকে ফের অন্য একটি গাড়িতে করে বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলেন তার বাবা। একটি ট্রাকেও উঠেছিলেন তিনি। কিছু সময় পর তিনি বুঝতে পারেন ট্রাকটি তার গ্রামের দিকে নয় বরং এর উল্টো দিকে যাচ্ছে। পরে ওই ট্রাকের চালক তাকে পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় নামিয়ে দেয়। এছাড়া স্থানীয় পুলিশের সাহায্যে ভেঙ্কাটেশওয়ারলুকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়েছিল তার পরিবার। তবে কোনো লাভ হয়নি। অবশেষে দুই বছর পর বাবাকে খুঁজে পান পেদ্দিরাজু।

করোনাভাইরাস মহামারিতে লকডাউন জারির পর থেকে লুধিয়ানার দরিদ্র ও অভিবাসীদের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ শুরু করেন স্থানীয় পুলিশ কনস্টেবল আজাইব সিং। ওইসব ত্রাণদানের ভিডিও তার টিকটক চ্যানেলে আপলোড করেন। চ্যানেলটিতে তার আট লাখের বেশি ফলোয়ার রয়েছে। মার্চে লুধিয়ানার এক ফ্লাইওভারের নিচে বাস করা মানুষদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের একটি ভিডিও আপলোড করেন আজাইব। পেদ্দিরাজুর এক বন্ধু ওই ভিডিও দেখে ভেঙ্কাটেশওয়ারলুকে চিনতে পারেন। তাৎক্ষণিকভাবে পেদ্দিরাজু ও তার পরিবারকে ব্যাপারটি জানান তিনি।

এরপর লুধিয়ানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাবার সন্ধান পান পেদ্দিরাজু। তাদের মধ্যে ভিডিও কলের ব্যবস্থা করে দেয় পুলিশ। পেদ্দিরাজু বলেন, আমরা দুজনেই এতোদিন পর দুজনকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলাম। তিনি আমায় তাকে বাড়ি নিয়ে যেতে বলেন। এর এক সপ্তাহের মধ্যে লুধিয়ানায় পৌঁছে বাবাকে নিয়ে ফেরেন তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস