পুলিশের এমন মহানুভবতা হৃদয়ে ধারণ করার মতো

ঢাকা, মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭,   ০৯ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

পুলিশের এমন মহানুভবতা হৃদয়ে ধারণ করার মতো

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:০৩ ১৮ মে ২০২০   আপডেট: ১২:০৪ ১৮ মে ২০২০

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

রাজধানীর বংশালে করোনা আক্রান্ত গর্ভবতী সেই নারীর সন্তান সুস্থ আছে। যিনি পুলিশের সহযোগিতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। 

১১ মে সকাল অনুমান সাড়ে আটটায় গর্ভবতী কামরুন্নাহারের প্রসব বেদনা শুরু হলে কোনো অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে না পেরে তার স্বামী থানা পুলিশের সহায়তা চান। তখন বংশাল থানার ওসি মো. শাহীন ফকির সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। সঙ্গে সঙ্গে ফোর্সসহ ওই বাসায় যান। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও তার স্বামীকে পুলিশের গাড়ীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ওই নারী একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেন।

ওই নারীকে সহযোগিতা করেই দায়িত্বের ইতি টানেনি বরং নবজাতক সন্তান ও পরিবারটির নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন ওসি মো. শাহীন ফকির।

নিয়মিত খোঁজ খবর নেয়ার একপর্যায়ে শাহীন ফকির জানতে পারেন, সেই নারীর স্বামী মো. জাহিদুর রহমান বংশাল এলাকায় একটি দোকানে কাগজের ব্যবসা করেন। উনার স্ত্রী করোনা পজিটিভ হওয়ায় ব্যবসা সমিতি থেকে তাকে দোকানে যেতে নিষেধ করা হয়। এতে বিপাকে পড়েন তিনি। ব্যবসায় বন্ধ থাকায় পড়েন আর্থিক সংকটে। এমন অবস্থা শুনে কোনো রকম কালক্ষেপন না করেই পুলিশ জরুরি খাদ্য সহায়তা নিয়ে হাজির হন জাহিদুরের বাসায়।

বর্তমানে প্রসূতি ওই নারী ও নবজাতক শিশু সুস্থ আছে। এক সপ্তাহ পরে মা ও শিশুর করোনার পরীক্ষা হবে। মা ও শিশু এবং তার পরিবারে সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রাখছেন বলে জানান মো. শাহীন ফকির। 

পুলিশের এমন মানবিকতার ভূয়সী প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ওই নারীর ভাই মো. মাইনুদ্দিন। এছাড়া ওই এলাকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অন্যান্য রোগীরা যারা বাসায় আইসোলেশন থেকে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন তাদেরকে প্রতিনিয়ত খাদ্যসহ অন্যান্য সহায়তা করছে।

তিনি বলেন, করোনায় পুলিশ সদস্যরা জনগণের সবচেয়ে কাছের বন্ধুর ভূমিকা রাখছে। এই অবদানকে আমরা চিরদিন হৃদয়ের ধারণ করবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/টিআরএইচ