পুলিশের অভিযানের পরই গায়েব হয় সিনহার ল্যাপটপ-হার্ডডিস্ক

ঢাকা, সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১৩ ১৪২৭,   ১০ সফর ১৪৪২

পুলিশের অভিযানের পরই গায়েব হয় সিনহার ল্যাপটপ-হার্ডডিস্ক

কক্সবাজার প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০১:০৫ ১৪ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ০১:৩৩ ১৪ আগস্ট ২০২০

হিমছড়ির নীলিমা রিসোর্টে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের ডেস্কটপ নাড়াচাড়া করছেন একজন

হিমছড়ির নীলিমা রিসোর্টে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের ডেস্কটপ নাড়াচাড়া করছেন একজন

পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের মৃত্যুর পর টেকনাফের নীলিমা রিসোর্টে অভিযান চালায় রামু থানা ও হিমছড়ি তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা। ভ্রমণচিত্র নির্মাণের জন্য ওই রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন তিনি ও তার সহকর্মীরা। অভিযানের পরই সেখান থেকে গায়েব হয় অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের ল্যাপটপ-ডেস্কটপ ও তিনটি হার্ডডিস্ক। তবে অভিযানের ভিডিওতে ল্যাপটপের অস্তিত্ব দেখা গেছে।

ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে, রিসোর্ট থেকে আটকের আগ পর্যন্ত ল্যাপটপের সামনে বসে কথা বলছিলেন শিপ্রা দেবনাথ। এছাড়া আরেকজনকে ডেস্কটপ নাড়াচাড়া করতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ডেস্কটপের সিপিইউ থেকে হার্ডডিস্কগুলো গায়েব হয়েছে।

অভিযানের ভিডিওতে আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি উদ্ধারের চিত্র দেখানো হয়েছে। তবে শিপ্রার বিরুদ্ধে করা মাদক মামলার জব্দ তালিকায় গুলি উদ্ধারের কথা উল্লেখ করেনি পুলিশ। পরে এ মামলায় জামিন পান শিপ্রা ও সিফাত।

জানা গেছে, ভ্রমণচিত্রের প্রয়োজনে তিন সহকর্মী শিপ্রা দেবনাথ, সাহেদুল ইসলাম সিফাত, তাহসিন ইফাত নূরকে নিয়ে এক মাস ধরে নীলিমা রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

হিমছড়ির নীলিমা রিসোর্টে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের ল্যাপটপের সামনে বসে পুলিশের সঙ্গে কথা বলছেন শিপ্রা দেবনাথ৩১ জুলাই রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এ ঘটনায় বুধবার কক্সবাজারে টেকনাফ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে ওসি প্রদীপ ও মো. লিয়াকতসহ ৯ জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা করেন নিহতের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে টেকনাফ থানার ওসিকে এফআইআর হিসেবে রুজু এবং র‌্যাব-১৫ কে তদন্তের নির্দেশ দেয়।

আদালত সূত্র জানায়, মামলাটি বুধবার রাতেই টেকনাফ মডেল থানায় নিয়মিত একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত ৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

ওসি প্রদীপ ও লিয়াকত ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন এসআই নন্দলাল রক্ষিত, এসআই টুটুল, এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন ও কনস্টেবল মো. মোস্তফা। এ মামলায় নিহত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের সঙ্গী সাহেদুল ইসলাম সিফাতসহ ১০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার কক্সবাজার আদালতে র‌্যাবের করা রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে তিনজনকে সাতদিন করে রিমান্ড দেয় আদালত। বাকি চারজনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেয়। পরে এ আদেশ পরিবর্তন করে আদালত। এ সময় বাকি দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

এর আগে, প্রদীপ কুমার দাশ ও টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর তদন্তকেন্দ্রের প্রত্যাহার হওয়া পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ সাতজনকে একসঙ্গে আদালতে হাজির করা হয়। বাকি দুই আসামি শেষ মুহূর্তে আত্মসমর্পণ করেননি। প্রদীপ কুমার দাশকে চট্টগ্রাম থেকে পুলিশ হেফাজতে আদালতে নেয়া হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর