পুলিশকে ‘বোকা’ বানিয়ে খুন করত এ সিরিয়াল কিলার

ঢাকা, শনিবার   ৩০ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪২৭,   ০৬ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

পুলিশকে ‘বোকা’ বানিয়ে খুন করত এ সিরিয়াল কিলার

ফিচার ডেস্ক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:০৬ ২৯ মার্চ ২০২০  

সিরিয়াল সাইকো কিলার মোট্টা নাভাস

সিরিয়াল সাইকো কিলার মোট্টা নাভাস

কয়েকদিন পরপর ফুটপাতে পড়ে থাকত লাশ। প্রতিটি লাশের মাথায় ভারী বস্তুর আঘাত পাওয়া যেত। মনে হত, ঘুমন্ত কাউকে আঘাত করে খুন করা হয়েছে। একের পর এক খুনের ঘটনায় ভারতের কেরালার কেল্লোমের মানুষ আতঙ্কে থরথর করে কাঁপতে থাকেন। পুলিশ খুনিকে খোঁজতে শুরু করে। তবে খুনিকে সামনে পেয়ে ধরতে পারত না পুলিশ। কারণ বিশেষ কায়দায় পুলিশকে বোকা বানিয়ে একের পর এক খুন করে যেত সিরিয়াল সাইকো কিলার মোট্টা নাভাস।

কেরালার কোল্লামে ১৯৬৬ সালে জন্ম নেয় মোট্টা। জন্মের ৩০ বছর পর অপরাধের হাতেখড়ি তার। ১৯৯৬ সালে কোল্লামের মুন্ডক্কলে জনৈক রাজশেখরণকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হয় মোট্টা। কিন্তু চার বছর কারাদণ্ডের পর প্রমাণের অভাবে ছাড়া পায় সে। এরপর ২০১২ সালের শেষ পর্যন্ত কেরালার কোল্লামের ত্রাস হয় মোট্টা। রাত হলেই ফুটপাতে থাকা লোকদের মাথা থেঁতলে খুন করাই তার নেশা হয়ে দাঁড়ায়। রাত যত গভীর হত, শিকারের সন্ধানে ছুটত মোট্টা।

পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে খুন করার প্রতীকী ছবি

ফুটপাতে লাশের সংখ্যা বাড়ার পর ওই সালের ৬ জুন প্রথম অপরাধ প্রকাশ্যে আসে। নির্মীয়মাণ উড়ালপুলের নিচে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে খুন করে মোট্টা। পরদিনের শিকার ছিলেন আশ্রয়হীন আপ্পুকুট্টাম আচারি। তাকে হত্যার জন্য মেরুদণ্ড ভাঙ্গার পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। ভারী পাথর দিয়ে মেরুদণ্ডে আঘাত করেই খুন করে সিরিয়াল সাইকো কিলার মোট্টা।

কয়েকদিন ফুটপাতে লাশ পড়েনি। মোট্টা তার শিকার পায়নি হয়তো। কিন্তু ১৮ জুন আবারো উড়ালপুলের নিচে তৃতীয় খুন হয়। এবার ৬৫ বছরের বোন্দন কুমার খুন হন। ভুক্তভোগীর মাথায় বড় পাথরের আঘাতের চিহ্ন দেখা গিয়েছিল।

আগস্টের প্রথমেই কোল্লামের সস্থমকোট্টা এলাকায় বাসস্ট্যান্ডে ৫৫ বছর বয়সী থঙ্কপ্পনের খুনে সবার গা শিউরে উঠে। পাথরের আঘাতে ঘুমের মধ্যেই থঙ্কপ্পনকে খুন করা হয়।

২০১২ সালের ২১ আগস্ট ঘাতকের পঞ্চম শিকার সুদর্শন নামের এক যুবক। কোল্লামের চিন্নক্কড়ার পৌরসভা এলাকার বারান্দায় ঘুমোচ্ছিলেন তিনি। তাকে পাথর দিয়ে আঘাত করে খুন করা হয়। এরপরই দুই আশ্রয়হীনকে খুনের চেষ্টা করেন মোট্টা। তবে প্রাণে বেঁচে যান তারা।

 

পাগলামির ভান করা মোট্টা নাভাসকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যায় পুলিশঅপরাধের ইতিহাস থাকায় মোট্টা নাভাসের ওপর পুলিশের নজর ছিল। কিন্তু রাতের অন্ধকারে মোট্টা উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করত। পুলিশের সামনে পড়লেই পাগলামির ভান করত সে।

যদিও দ্বিতীয় খুনের পর পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছিল। তাকে মানসিক রোগী হিসেবে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠায় পুলিশ। কিন্তু তার মাঝে কোনো মানসিক রোগের লক্ষণ খোঁজে পাননি চিকিৎসকরা।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ছাড়া পেয়ে কোল্লামে ফিরে সিরিয়ালি খুন শুরু করে মোট্টা। রাতে পুলিশের সামনে পড়লেই পাগলামির ভান করত সে। পুলিশ স্থান ত্যাগ করলেই আগের রূপে ফিরত। তবে ২০১২ সালেই তার সিরিয়াল খুনের সাইকো উদ্দেশ্য শেষ হয়। নভেম্বরেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্তে আরো জানা যায়, রাত ৮ টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকত সে। এরপর গভীর রাতে শিকারের সন্ধানে ফুটপাতে ঘুরে বেড়াত সিরিয়াল সাইকো কিলার মোট্টা নাভাস। বর্তমানে জেলে বন্দী রয়েছে এ ভয়ানক খুনি।

সূত্র-আনন্দবাজার পত্রিকা

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ