পুরান ঢাকায় আজ ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৯ জানুয়ারি ২০২১,   মাঘ ৫ ১৪২৭,   ০৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

পুরান ঢাকায় আজ ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৯:২৯ ১৪ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৪:১৪ ১৪ জানুয়ারি ২০২১

ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসব আজ। ছবি: সংগৃহীত

ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসব আজ। ছবি: সংগৃহীত

পুরান ঢাকাজুড়ে আজ পালিত হবে ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসব, পৌষসংক্রান্তি বা ঘুড়ি উৎসব নামেও পরিচিত। আজ পুরান ঢাকার আকাশে শোভা পাবে নানা রঙের ও বাহারি ঘুড়িদের মেলা বা সমাবেশ।

এক সময় এ উৎসবটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে পুরান ঢাকায় সাড়ম্বরে পালিত হয় এ দিনটি। উৎসবে অংশ নেন সব ধর্মের সব বয়সী মানুষ। ঢাকার অন্যান্য এলাকার তরুণ-তরুণীরাও উৎসবে যোগ দিতে ছুটে যান পুরান ঢাকায়।

এছাড়া এবারের আয়োজনটি আরো বেগবান হবে পুরান ঢাকায়। কারণ প্রথমবারের মতো ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এ ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসবের আয়োজন করতে যাচ্ছে। ‘এসো ওড়াই ঘুড়ি, ঐতিহ্য লালন করি’ স্লোগানে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে রাজধানীর আকাশে পুরান ঢাকার ৭৫টি ওয়ার্ড একযোগে এই উৎসবে ঘুড়ি ওড়ানো হবে।

দুপুর থেকেসন্ধ্যা পর্যন্ত আকাশ জুড়ে উড়বে নানান রঙের শত শত ঘুড়ি। ছাদে ছাদে সব বয়সীদের ভিড় তো থাকবেই। শিশু-কিশোররা ব্যস্ত থাকবে ঘুড়ি নিয়ে। যুবক-বৃদ্ধারাও বসে থাকবেন না, একদিনের জন্য হলেও তারা  ফিরে যাবেন তাদের আনন্দময় কৈশোরে।

মূলত পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়া, মুরগীটোলা, ধূপখোলা, দয়াগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী, নারিন্দা, সূত্রাপুর, কাগজিটোলা, বাংলাবাজার, লক্ষ্মীবাজার, কলতাবাজার, ধোলাই খাল, শাঁখারি বাজার, রায়সাহেব বাজার, নবাবপুর, বংশাল, নাজিরাবাজার, তাঁতী বাজার এবং লালবাগ এলাকার মানুষ এ উৎসবে দিনব্যাপী ঘুড়ি উড়ান। আয়োজন করেন নানা খাবারের। এছাড়া সন্ধ্যায় আতশবাজী ফোটানো এ উৎসবের অন্যতম অঙ্গ।

ঘরে ঘরে তৈরি হবে মুড়ির মোয়া, বাকরখানি। পড়বে পিঠা বানানোর ধুম। বর্তমানে এ উৎসবেও লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। অর্থাৎ সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হয়ে যাবে আতশবাজী ও ফানুস উড়ানো। সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এসব এলাকায় চলবে আতশবাজির খেলা।

সাকরাইনে পুরান ঢাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে জামাইদের নাটাই, বাহারি ঘুড়ি উপহার দেওয়া এবং পিঠার ডালা পাঠানো একটি অবশ্য পালনীয় অঙ্গ। ডালা হিসেবে আসা ঘুড়ি, পিঠা আর অন্যান্য খাবার বিলি করা হয় আত্মীয়-স্বজন এবং পাড়ার লোকদের মধ্যে।

এ উৎসবকে মাথায় রেখে গত এক সপ্তাহ পুরান ঢাকার বায়ান্নো বাজার তেপ্পান্ন গলির অধিকাংশ গলিতে আর খোলা ছাদে হয়েছে সুতা মাঞ্জা দেওয়ার ধুম।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে