Alexa পিকাসোকে নিয়ে অজানা কিছু তথ্য

ঢাকা, বুধবার   ১৭ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৩ ১৪২৬,   ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪০

পিকাসোকে নিয়ে অজানা কিছু তথ্য

রাজ চৌধুরী

 প্রকাশিত: ১৪:৩৪ ১০ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৪:৩৪ ১০ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পাবলো পিকাসো ছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচিত চিত্রশিল্পী। বিখ্যাত এই শিল্পী তার পুরোটা জীবন অসাধারণ চিত্রকলা প্রদর্শন করেছেন। তার বেশ কিছু কাজকর্ম অ্যাবস্ট্রাক্ট এবং কিছুটা উদ্ভট। এসব চিত্র কর্মের জন্যই তিনি অন্যসব চিত্রশিল্পীর চেয়ে আলাদা। আজ জানবো এই অসাধারণ চিত্রশিল্পী সম্পর্কিত কিছু অজানা তথ্য-

১) বিশ্ব বিখ্যাত এই চিত্রশিল্পীর জন্ম ১৮৮১ সালের ২৫ অক্টোবর স্পেনের মালাগায়।

২) বেশিরভাগ মানুষ তাকে শুধু পিকাসো ডাকলেও তার পুরো নাম ২৩ শব্দের। পাবলো দিএগো হোসে ফ্রান্সিস্কো ডি পাওলা হুয়ান নেপোমোছেনো মারিয়া ডি লস রেমেডিওস সিপ্রিয়ানো ডি লা সন্টিসিমা ট্রিনিদাদ মার্টায়ার প্যাট্রিসিও ক্লিটো রুইজ ওয়াই পিকাসো। এই নামটির প্রত্যেকটি অংশই এসেছে বিভিন্ন সেইন্ট এবং আত্মীয়দের নাম থেকে।

৩) যখন পিকাসোর জন্ম হয়েছিল তখন তার আকার এতই ছোট ছিল যে নার্স ভেবেছিলেন এক মৃত শিশুর জন্ম হয়েছে। তখন সেই নার্স তাকে রেখে মায়ের যত্ন নিতে গেলে সৌভাগ্যক্রমে তার চাচা বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং এতে পিকাসো বেঁচে যান।

৪) পিকাসোর মুখের প্রথম শব্দ ছিল লাপিস যার স্প্যানিশ অর্থ হচ্ছে পেন্সিল।

৫) পিকাসোর বাবাও একজন চিত্রশিল্পী ছিলেন এবং তিনি প্রথম পিকাসোকে সাত বছর বয়সে ছবি আঁকা শেখানো শুরু করেন।

৬) পিকাসোর বয়স যখন মাত্র ৯ বছর তখন তিনি তার প্রথম চিত্রকর্ম অঙ্কন করেন যার নাম দেন লে পিকাডোর। ছবিটি ছিল ষাড়ের লড়াইয়ের মাঝে এক ব্যক্তির ঘোড়া সওয়ার হওয়া।

৭) পিকাসোর বয়স যখন তেরো তখন তার বাবা ছবি আঁকা বন্ধ করে দেন কারণ তার ধারণা ছিল ছেলে আরো ভালো মানের চিত্রশিল্পী।

৮) শুধু তাই নয় মাত্র ১৩ বছর বয়সেই তিনি স্কুল অফ ফাইন আর্টসে ভর্তি হন এবং ১৩ বছর বয়সেই তার প্রথম কোনো চিত্রপ্রদর্শনী হয় যেটি ছিল একটি ছাতার দোকানের পেছনে।

৯) বিশ্ব বিখ্যাত চিত্রশিল্পীর আঁকা অন্যতম চিত্র ছিলো ফার্স্ট কমিউনিকেশন। তিনি এটি এঁকেছিলেন মাত্র পনেরো বছর বয়সে।

১০) মাত্র সাত বছর বয়সেই পিকাসোর ছোট বোন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এই ঘটনার পর তার পরিবার বার্সেলোনায় চলে যায়।

১১) পিকাসোর প্রথম চাকুরি ছিল একজন আর্ট ডিলারের হয়ে কাজ করা যার নাম ছিল পেরে মেনাচ।

১২) পিকাসোর ৪ সন্তান ছিল,যাদের মা তিনজন। ব্যক্তিগত জীবনে পিকাসো দু’বার বিবাহ করেন।

১৩) এসবের পাশাপাশি তার বেশ কিছু উপপত্নী ছিলো। তবে পিকাসোর উপপত্নী হওয়ার জন্য বেশ কিছু শর্ত প্রযোজ্য ছিল। শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি শর্ত ছিল কারো উচ্চতা পিকাসোর চেয়ে বেশি হওয়া যাবে না। আর বিকাশের উচ্চতা ছিল মাত্র ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি।

১৪) চিত্রশিল্পী হওয়ার পাশাপাশি পিকাসো ছিলেন একজন স্থপতি, মৃৎশিল্পী, কবি এবং নাট্যকার।

১৫) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জার্মানি প্যারিস দখল করছিল তখন নাজিরা পিকাসোর আঁকা চিত্র নিষিদ্ধ করে।

১৬)পাবলো পিকাসো ছিলেন একজন কমিউনিস্ট।

১৭) সারা বিশ্বের অন্যসব চিত্রশিল্পীর চেয়ে পিকাসোর আঁকা ছবি সবচেয়ে বেশি চুরি হয়েছে।

১৮) একজন মানুষ কর্তৃক সবচেয়ে বেশি তৈরি শিল্পকর্ম তৈরির রেকর্ড পাবলো পিকাসোর। ৭৮ বছরে তিনি প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার চিত্র, এক লাখ প্রিন্ট বা খোদাই, ৩০০ স্থাপনাসহ আরো কিছু শিল্পকর্ম তৈরি করেন।তার তৈরিকৃত মোট শিল্পকর্মের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮০০ টি।

১৯) পিকাসোর আরেকটি বিশ্বরেকর্ড আছে। সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রিত চিত্রের রেকর্ডও তার নামেই। ২০১৫ সালে উইমেন অব আলগিয়ের্স নামের ছবিটি বিক্রি হয়েছিলো ১৭৯ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলারে।

২০) তিনি পোষা প্রাণীদের খুব পছন্দ করতেন। জীবদ্দশায় তিনি একটি ইঁদুর কচ্ছপ বানর এবং বেশকিছু বিড়াল ও কুকুর পুষেছেন।

২১) যখন পিকাসো মারা যান তখন তিনি ছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী চিত্রশিল্পী।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস