Alexa পিএসএল ফাইনালে ব্যাপক নিরাপত্তা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৮ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৪ ১৪২৬,   ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪০

পিএসএল ফাইনালে ব্যাপক নিরাপত্তা

 প্রকাশিত: ২০:১৫ ২৩ মার্চ ২০১৮  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান সুপার লীগের (পিএসএল) ফাইনাল ম্যাচ আয়োজন উপলক্ষে করাচিতে ব্যাপক নিরাপত্তার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী রোববারের এই ম্যাচটি নিরাপদ করতে সেখানে নিয়োজিত থাকবে হাজার হাজার নিরাপত্তা কর্মী।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর এটিই হবে বিগত ৯ বছরের মধ্যে করাচির মাঠে সবচেয়ে বড় ম্যাচ।

পেশোয়ার জালমি ও ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচটি করাচিতে আয়োজন করায় বেশ কয়েকজন বিদেশি খেলোয়াড় দল ছেড়েছেন। তবে কর্তৃপক্ষ বলেছে, জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ওই ম্যাচ উপলক্ষে সেখানে রাষ্ট্রের শীর্ষপর্যায়ের নিরাপত্তা দেয়া হবে।

২০০৯ সালে লাহোরে সফরকারী শ্রীলংকান ক্রিকেট দলের ওপর জঙ্গি হামলার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত হয়ে পড়ে পাকিস্তান। ওই ঘটনায় সফরকারী দলের সাত সদস্য আহত হওয়ার পাশাপাশি নিহত হয় দলটির নিরাপত্তায় নিয়োজিত ৮ ব্যক্তি। দেশটিতে ফের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের এই ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন পাকিস্তানি কর্মকর্তারা।

এর আগে চলতি সপ্তাহে লাহোরে অনুষ্ঠিত হয়েছে টুর্নামেন্টের এলিমিনেটর রাউন্ডের দুটি ম্যাচ। গত আসরে শুধুমাত্র টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচটিই অনুষ্ঠিত হয়েছে পাকিস্তানের মাটিতে।

এপ্রিলের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ সিরিজও আয়োজন করতে যাচ্ছে করাচি। সিরিজে স্বাগতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০০৯ সালের পর এটিই হবে কোনো টেস্ট প্লেইং দেশের অংশগ্রহণে পাকিস্তানের প্রথম হোম সিরিজ।

আগামী বছর পিএসএলের অন্তত অর্ধেক ম্যাচ দেশের মাটিতে আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বর্তমানে টুর্নামেন্টের প্রায় সবগুলো ম্যাচ আয়োজিত হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

পাকিস্তানে বর্তমান পরিস্থিতি উন্নতির দিকে গেলেও পিএসএলে অংশগ্রহণকারী অনেক শীর্ষ তারকা পাকিস্তান সফর থেকে বিরত রয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সের ব্যাটসম্যান কেভিন পিটারসেন। অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসনও একই কারণে ছেড়ে গেছে কোয়েটাকে। দলটি অবশ্য পেশোয়ারের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে।

কোয়েটার প্রধান কোচ মইন খান বলেন, খেলোয়াড়রা শুরুতে পাকিস্তানে খেলার প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ দিকে এসে পিছুটান দিয়েছে। যে কারণে পিএসএল বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে সম্মতি দেয়ার পরও কিছু বিদেশি খেলোয়াড় শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সফর থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এটি খুবই হতাশার বিষয়। এটি ফ্য্রাঞ্চাইজির জন্য বড় ক্ষতির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ জন্য যারা সরে দাঁড়িয়েছে ভবিষ্যতে তাদের আর টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত না করার নির্দেশ দেয়া উচিৎ পিসিবির।

এরই মধ্যে পাকিস্তান সফর থেকে সরে আসার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ইংল্যান্ডের সংক্ষিপ্ত ভার্সনের ক্রিকেট অধিনায়ক ইয়োইন মরগান। ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের দুই ইংলিশ ক্রিকেটার অ্যালেক্স হেলস ও স্যাম বিলিংস।

তবে নিরাপত্তা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে বিদেশি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছে যে, তাদের দৃষ্টিতে ‘এই ব্যবস্থা যথেষ্ঠ ভালো’।

পাকিস্তান সমর্থকদের কাছে জনপ্রিয় পেশোয়ারের অধিনায়ক ড্যারেন সামি দ্বিতীয় বারের মত ক্লাবটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ক্রিকেট তারকা দেশটির নেয়া এই পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

তিনি বলেন, পাকিস্তান এমন একটি জায়গা যার সঙ্গে আমার দারুণ যোগাযোগ রয়েছে। পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনার এই প্রচেষ্টার অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত।

আন্তর্জাতিক নির্বাসনে যাওয়ার পর থেকে পাকিস্তান তাদের প্রায় সবগুলো হোম ম্যাচের আয়োজন করেছে আরব আমিরাতে। যেখানে পিএসএলের শুরুর ম্যাচগুলোও আয়োজিত হয়েছে। কিন্তু নিজ দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম করছে কর্তৃপক্ষ। গত বছর লাহোরে পিএসএলের ফাইনাল আয়োজনটি এ ক্ষেত্রে বড় টার্নিং পয়েন্ট।

এরই ধারাবাহিকতায় গত সেপ্টেম্বরে সেখানে বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। গত অক্টোবরে সেখানে ফের একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে হামলার শিকার হওয়া শ্রীলংকান দল। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সবগুলো ম্যাচই অনুষ্ঠিত হয়েছে লাহোরে।

লাহোরের ওই সফলতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এখন করাচিতেও একই পন্থা অবলম্বন করতে যাচ্ছে পাকিস্তান। বন্দর নগরীরর এই মাঠে খেলে পাকিস্তানি কিংবদন্তীর আসন অলংকৃত করেছেন অনেক ক্রিকেটার। যারা এক সময় টেপ টেনিস খেলে নিজেদের গড়ে তুলেছেন।

শহরটির সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকা সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদি বলেন, পিএসএলের ফাইনাল আয়োজনের খবরটি অসাধারণ। এ জন্য আমি খুবই কৃতজ্ঞ। আশা করি করাচি নগরবাসী ওই মুহূর্তটি দারুণভাবে উপভোগ করবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে