Exim Bank
ঢাকা, মঙ্গলবার ১৯ জুন, ২০১৮
Advertisement

পাহাড়ি ঢলে সিলেটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

 সিলেট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:২৭, ১৩ জুন ২০১৮

১৬৯ বার পঠিত

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দুই দিনের টানা বর্ষণে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তঘেষা ইউনিয়ন নিজপাট, জৈন্তাপুর ও চারিকাটা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

সারী নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বিপদসীমার ০.৫৯ সেন্টি মিটার উপরদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়ায় এ সকল ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোতে নেই ঈদের আনন্দ। বুধবার বিকেল পর্যন্ত বন্যাকবলিত এলাকায় কোনো ধরণের সরকারি, বেসরকারি সহায়তা পৌঁছায়নি।

আকস্মিক পাহাড়ী ঢলের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের নিম্ন আয়ের দিনমজুর ও শ্রমিক পরিবারগুলো। পাহাড়ী ঢলের ফলে তাদের পরিবারগুলোতে ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে পড়েছে। আকস্মিক বন্যায় বাড়ী-ঘর তলিয়ে যাওয়ায় কারণে তাদের ক্ষতি সাধিত হওয়ায় ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সীমান্তবর্তী ৩টি ইউনিয়নের বন্যা কবলিত পরিবারগুলোর মধ্যে ইফতার সামগ্রী, কিংবা শুকনো কোন খাবার উপজেলা প্রশাসন কিংবা উপজেলা পরিষদ হতে পরিবারগুলোর মধ্যে পৌছাঁয়নি।

জৈন্তাপুর উপজেলা নিজপাট ইউনিয়নের মাহুতহাটি, দর্জিহাটি, মেঘলী, বন্দরহাটি, লামাপাড়া, ময়নাহাটি, মোরগাহাটি, জাঙ্গালহাটি, মজুমদারপাড়া, নয়াবাড়ী, হর্নি, বাইরাখেল, গোয়াবাড়ী, তিলকৈপাড়া, বড়খেল, ফুলবাড়ী, ডিবিরহাওর, ঘিলাতৈল, মাস্তিং, হেলিরাই, জৈন্তাপুর ইউনিয়নের মুক্তাপুর, বিরাইমারা, বিরাইমারা হাওর, লামনীগ্রাম, কাটাখাল, খারুবিল, চাতলারপাড়, ডুলটিরপাড়, ১নং লক্ষীপুর, ২নং লক্ষীপুর, আমবাড়ী, ঝিঙ্গাবাড়ী, কাঠালবাড়ী, নলজুরী হাওর, চারিকাটা ইউনিয়নের বালিদাঁড়া, লালাখাল, লালাখালগ্রান্ট, রামপ্রসাদ, থুবাং, বাউরভাগ উত্তর, বাউরভাগ দক্ষিণ, পুঞ্জীসহ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে সারীনদী, বড়গাং নদী এবং নয়া গাং নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সারী নদীর পানি বিপদসীমার .৫৯ সেন্টিমিটার উপরদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান সারী-গোয়াইন বেড়িবাঁধ প্রকল্পের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিন।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, আগামী ২৪ ঘন্টায় সিলেটে অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতিভারী পর্যন্ত বর্ষণ হতে পারে। তিনি আরো বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় সিলেটে ১০২ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সিলেটের ডিসি নুমেরী জামান বলেন, ভারী বর্ষণ ও অতিবর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যাসহ যেকোনও দুর্যোগ মোকাবিলার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে ২০০ টন চাল ও পাঁচ লাখ নগদ টাকাসহ দুইশ বান্ডিল ঢেউ টিন আপদকালীন মুজদ হিসেবে রাখা হয়েছে। এছাড়া যেসকল স্থানে বন্যার সম্ভবনা রয়েছে সেসকল এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা ভবনগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্যা হলে বা পরিস্থিতি খারাপ হলে বন্যা দুর্গতরা যেন সেখানে আশ্রয় নিতে পারে। যেকোনও ধরনের দুর্যোগের জন্য আমারা আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর

সর্বাধিক পঠিত